kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

ব্যাটিংয়ে দায়মুক্তির আনন্দ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৬ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাটিংয়ে দায়মুক্তির আনন্দ

আগামী কিছুদিন এমন ঠাসা সূচি যে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জীবনই এখন এক বায়ো বাবল বা জৈব সুরক্ষা বলয় থেকে বেরিয়ে আরেকটিতে গিয়ে ঢোকার। জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফেরার দিনই যেমন ঢুকে পড়তে হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের বলয়ে। অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহকে তাই একরকম রসিকতা করেই বলতে হলো, ‘এখন পরবর্তী বাবল আর সিরিজের অপেক্ষায়।’

তবে সেই অপেক্ষায় কোনো অস্বস্তি থাকছে না নিশ্চিত। জিম্বাবুয়েতে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে স্বাগতিকরা সমতা ফেরানোর পর কালকের শেষ ম্যাচটিই হয়ে উঠেছিল সিরিজ ভাগ্যনির্ধারক। আগের ম্যাচেই ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর এবার বড় রান তাড়ায় যেমন পারফরম করা জরুরি ছিল, সতীর্থদের কাছ থেকে মাহমুদ পেয়েছেনও ঠিক তা-ই। যে কারণে নিজেদের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতা সিরিজ জয়ের স্বস্তিও এনে দিয়েছে। ম্যাচ শেষে সেই স্বস্তিই খেলে গেল বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কের প্রতিক্রিয়ায়।

বিশেষ করে সম্মিলিত পারফরম্যান্সই সিরিজ জয়ের ফুল ফুটিয়েছে বলে বেশি খুশি মাহমুদ, ‘ছেলেরা এই ম্যাচে ওদের দৃঢ়তা দেখিয়েছে। জয়ে অবদানও রেখেছে সবাই।’ আগের ম্যাচে হারের জন্য বাজে ব্যাটিংয়ের দায় নিয়েও কম কথা হয়নি। তবে এই ম্যাচে সেই দায়মুক্তির আনন্দও খেলে গেল তাঁর কথায়, ‘সব মিলিয়ে এটি ব্যাটিং ইউনিটের দারুণ একটি পারফরম্যান্স।’ ২০ রানে ওপেনার নাঈম শেখকে হারানোর পর বড় রান তাড়ায় যা দরকারি ছিল, সেটি পাওয়ার সন্তুষ্টিও গোপন করলেন না মাহমুদ, ‘বড় রান তাড়ায় রানের চাকা সচল রাখতে পার্টনারশিপও দরকার। এবং দরকার প্রতি ওভারে অন্তত একটি করে বাউন্ডারিও।’ সৌম্য ও সাকিব আল হাসানের দ্বিতীয় উইকেট জুটি যেমন ৫০ রানের। তৃতীয় উইকেটে সৌম্যকে সঙ্গে নিয়ে ৬৩ রান যোগ করেছেন মাহমুদও।

এতে খুলেছে জয়ের পথও। তবে সিরিজসেরা সৌম্যর সঙ্গে এই জয়ের কৃতিত্বের ভাগ তিনি বেশি দিচ্ছেন তরুণ শামীম হোসেনকেও। ব্যাটিংই শুধু নয়, বোলার সৌম্যকে নিয়েও উচ্ছ্বাস শোনা গেল মাহমুদের কণ্ঠে, ‘সৌম্য খুবই কার্যকর অলরাউন্ডার। যখনই ওকে বল দিয়েছি, সে আমাকে দুটি উইকেট তুলে দিয়েছে। দলের জন্য যখন ব্যাট হাতেও ওর দাঁড়িয়ে যাওয়া দরকার ছিল, তখনো সে সেটি করেছে।’ শেষ দিকে শামীমের আগ্রাসী ইনিংসটিও অমূল্য অধিনায়কের কাছে, ‘কঠিন সময়ে দারুণ একটি ইনিংস খেলেছে সে।’

আগের ম্যাচেই আন্তর্জাতিক অভিষেক শামীমের। তবে মাত্র ১৩ বলে ২৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেও দলের হারে তা বিফলে গিয়েছিল। ম্যাচ শেষ করে আসতে না পারার অতৃপ্তি তাই থেকেই গিয়েছিল বাংলাদেশের হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতা এই তরুণের। ঠিক করেছিলেন, সিরিজ ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে সুযোগ এলে সেই অতৃপ্তি ঘোচাবেন। দ্বিতীয় সুযোগটি আর তাই হেলায় হারাতে দিলেন না তিনি। দলকে সিরিজ জেতানোর পর বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় বললেন সেই আনন্দের কথাই, ‘ভালো লাগছে। গত ম্যাচটি আমি শেষ করে আসতে পারিনি। এটি আমার মাথায় ছিল। পরের ম্যাচে সুযোগ পেলে আমার লক্ষ্য ছিল ম্যাচটি শেষ করে আসার। এবার আমি সেই সুযোগটি পেয়ে সফলও হয়েছি বলে অনেক ভালো লাগছে।’



সাতদিনের সেরা