kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ আশ্বিন ১৪২৮। ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৩ সফর ১৪৪৩

ব্যাটিং ব্যর্থতায় সফরের প্রথম হার

২৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ব্যাটিং ব্যর্থতায় সফরের প্রথম হার

ক্রীড়া প্রতিবেদক : লড়াইটিকে জিম্বাবুয়ে বনাম বাংলাদেশ নয়, বরং ‘ওয়েসলি মাধভেরে বনাম বাংলাদেশ’ বলেও দিব্যি চালিয়ে দেওয়া যায়। জিম্বাবুইয়ান ওপেনার ৫৭ বলে ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৩ রানের ইনিংসে দলকে এমন ভিত দিয়ে যান যে স্বাগতিকরা পায় ৬ উইকেটে ১৬৬ রানের পুঁজি। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে অবশ্য তা পেরোনো কঠিন কিছু ছিল না। লম্বা ব্যাটিং লাইনের পক্ষে তো নয়ই। অথচ হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাধভেরের রান টপকাতেই ঘাম ছুটে গেল বাংলাদেশের স্বীকৃত ব্যাটসম্যানদের। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম সাত ব্যাটসম্যান মিলে করলেন মাত্র ৭৭ রান! এ রকম ম্যাচের পরিণতি যা হওয়ার কথা, হলোও তা-ই। সফরকারীরা যেমন হারল ২৩ রানে, তেমনি এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে সমতা ফেরাল জিম্বাবুয়েও। চলতি সফরের প্রথম এই হারে ২৫ জুলাইয়ের শেষ ম্যাচটি এখন হয়ে উঠল টি-টোয়েন্টি সিরিজ ভাগ্য নির্ধারকও।

টস হেরে ব্যাটিং নেওয়া জিম্বাবুয়ের ইনিংসের শেষ দিকে যোগ হয়েছিল রায়ান বার্লের ঝড়ও। মাত্র ১৯ বলে দুটি করে ছক্কা আর চারে তাঁর অপরাজিত ৩৪ রান জিম্বাবুয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রান তাড়ায় ১৩ বলে ৩ চার ও ২ ছক্কায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ২৯ রানের ইনিংসটি এসেছে ৮ নম্বরে ব্যাট করা অভিষিক্ত শামীম হোসেনের ব্যাট থেকে, যা শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা বোঝানোর পক্ষে আদর্শ উদাহরণই। নিজেদের ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা দলের ধুকধুকানি আরো বাড়ে অভিজ্ঞ সাকিব আল হাসান এবং অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহরাও দলকে টানতে না পারায়। বিপদ তাতে আরো বাড়ে। ৫৩ রানে ৫ উইকেট হারানোর পর বলের সঙ্গে রান চাহিদার পাল্লাও ভারী হচ্ছিল ক্রমেই। সেই দাবি মেটাতে গিয়ে পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা উদ্যোগীও হলেন। দ্রুত রান তোলার চেষ্টায়ও তাই বাংলাদেশ খোয়াতে থাকল উইকেট। ১ বল বাকি থাকতেই ১৪৩ রানে অল আউট হয় সফরকারীরা। অবশ্য তাঁদের জন্য এই ম্যাচ শেষ হয়ে গিয়েছিল আরো আগেই। শেষ ওভারেই যে জেতার জন্য দরকার ছিল ৩১ রানের!

আগের ম্যাচে দুই ওপেনার ফিফটিই শুধু করেননি, টি-টোয়েন্টিতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশকে উপহার দেন শতরানের ওপেনিং জুটিও। তবে এবার তাঁদের কেউ যেতে পারলেন না দুই অঙ্কেও। ব্লেজিং মুজারাবানির করা তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পে টেনে নেন নাঈম শেখ (৫)। একই ওভারের চতুর্থ বলে কাভার দিয়ে ওড়ানোর চেষ্টায় সিকান্দার রাজার হাতে ধরা পড়েন সৌম্য সরকারও (৮)। শেখ মেহেদী হাসানকে নিয়ে এরপর নির্বিঘ্নে পাওয়ার প্লে পার করে দিলেও সেই কাভারেই রাজার ক্যাচ হন সাকিবও (১২)। এই অলরাউন্ডারকে ফেরানো বাঁহাতি স্পিনার ওয়েলিংটন মাসাকাদজাই সফরকারীদের ওপর চাপ বাড়ান আরো। এবার একই ওভারে ধরেন জোড়া শিকার। তাঁকে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে প্রথমে লং অন সীমানায় ধরা পড়েন মাহমুদ (৪)। দুই বল পর উইকেট ছুড়ে আসেন মেহেদীও (১৫)। ৫৩-৫, এই অবস্থা থেকে আফিফ হোসেন (২৪) ও শামীমরা তবু চেষ্টা করেছিলেন ম্যাচটিকে ‘ক্লোজ’ করে আনার। তবে শুরুতে দলের ব্যাটিং লণ্ডভণ্ড হয়ে যাওয়ার পর সেই চেষ্টা বৃথা যাওয়াই কি স্বাভাবিক নয়!



সাতদিনের সেরা