kalerkantho

রবিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৮। ২৪ অক্টোবর ২০২১। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

আবার কবে হাসবে লিটনের ব্যাট?

১৭ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আবার কবে হাসবে লিটনের ব্যাট?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর ব্যাটিংয়ে গুণমুগ্ধের অভাব নেই কোনো। তবে পারফরম্যান্সে সামর্থ্যের প্রকাশ খুব অনিয়মিত হওয়ায় লিটন কুমার দাসের সমালোচকরাই বরং সংখ্যাগরিষ্ঠ। ব্যাটে হুট করে দেখা দেওয়া আলো পরে এত লম্বা সময় ধরে নিবু নিবু থেকেছে যে কখনো কখনো প্রশংসিত হওয়া ব্যাটসম্যানের ভাগ্যে সমালোচনাই জুটেছে বেশি। পারফরম্যান্সের গ্রাফ ওঠার তুলনায় নামা এত দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে যে ওয়ানডে একাদশে জায়গাও হারাতে হয়েছে লিটনকে।

যেমন হারিয়েছিলেন গত মে মাসে দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। প্রথম দুই ম্যাচে ০ ও ২৫ রান করায় একাদশে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যায় আরো। সিরিজের শেষ ম্যাচে জায়গা হারানও, তামিম ইকবালের ওপেনিং সঙ্গী হওয়া নাঈম শেখও অবশ্য ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তেমন সুবিধা করতে পারেননি। তাই বলে পরের সিরিজে লিটন হারানো জায়গা পুনরুদ্ধার করবেনই, সেই নিশ্চয়তাও ছিল না। যদিও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ভুলে যাওয়ার উপায় ছিল না। তিন ম্যাচের যে সিরিজে রেকর্ড বইয়েও নিজের নাম টুকে ফেলেছিলেন লিটন। ২০২০ সালের মার্চে সিলেটে অপরাজিত ১২৬ রানের ইনিংস দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিলেন। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯ রানে আউট হওয়া তামিমের ওপেনিং পার্টনার শেষ ম্যাচে জিম্বাবুইয়ান বোলারদের বিধ্বস্ত করেন ১৪৩ বলে ১৭৬ রানের বিস্ফোরক ইনিংসে। যেটি ওয়ানডেতে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ডও। সেই ম্যাচে ভীষণ উজ্জ্বল লিটন অবশ্য এর পর থেকেই ওয়ানডেতে ছিলেন বড্ড ম্রিয়মাণ।

কতটা? সেই জিম্বাবুয়ে সিরিজের পর লিটনের খেলা আট ইনিংসই তা বুঝিয়ে দিতে যথেষ্ট—১৪, ২২, ০, ১৯, ০, ২১, ০ ও ২৫! তাই একাদশ থেকে বাদ পড়ার সময়ও এসে গেল। বাদও পড়লেন। এবার জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিজের ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ ৯৫ রানের ইনিংসে অবশ্য ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। টেস্টে সেঞ্চুরি বঞ্চনায় পোড়া লিটন কাল হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচ দিয়েই আবার ওয়ানডে একাদশে ফিরলেন। ফিরলেনই না শুধু, লম্বা বিরতির পর সেঞ্চুরি দিয়েই হাসল তাঁর ব্যাট। ১১৪ বলে খেলা ১০২ রানের ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ারের চতুর্থ ওয়ানডে সেঞ্চুরি। এর তিনটিই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবং তিনটিই আফ্রিকান প্রতিপক্ষের সঙ্গে শেষ চার ম্যাচের মধ্যেই!

তাঁর প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি ২০১৮-র সেপ্টেম্বরে দুবাইতে এশিয়া কাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে। ১২১ রানের সে ইনিংস খেলার পর এবং গত বছর দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ে সিরিজের মাঝামাঝি সময়েও খুব বেশি আলো ছড়ায়নি তাঁর ব্যাট। ওই সময়ের মধ্যে ১৫ ইনিংসে তিনটি ফিফটি করলেও সিলেটে রেকর্ড গড়ার পর কোনো ফিফটিই ছিল না। সর্বোচ্চ ইনিংস মাত্র ২৫ রানের। ক্যারিয়ারে সাফল্যের পরপরই ব্যর্থতার এমন অতীত তাই সেই প্রশ্নই জাগিয়ে দিচ্ছে যে, আবার কবে হাসবে লিটনের ব্যাট? আবার কবে বড় ইনিংস খেলবেন তিনি?

অবশ্য হারারেতে কাল দলের বিপর্যয়ে নিজেকে বদলে ফেলা ব্যাটিংই করতে দেখা গিয়েছে লিটনকে। টস হেরে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশকে সহায়ক কন্ডিশনে কোণঠাসাই করে ফেলেছিলেন জিম্বাবুয়ের পেসাররা। উইকেটে ঘাসও ছিল যেমন, তেমনি পেসাররা পাচ্ছিলেন মুভমেন্ট-বাউন্সও। এমন উইকেটে ৭৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা দল পথের দিশা খুঁজে পায় পঞ্চম উইকেটে লিটন-মাহমুদ উল্লাহর ৯৩ রানের পার্টনারশিপেই। দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর লড়াইয়ে লিটনের ইনিংসে লম্বা সময় স্ট্রোকের বাহারও ছিল না। ১০ বল খেলে খোলেন রানের খাতা। প্রথম ১৫ ওভারে তাঁর ব্যাট থেকে আসেনি কোনো বাউন্ডারিও। ক্যারিয়ারে ফিফটি করতে এর আগে কখনো তাঁর ৭৮ বলও লাগেনি। তবে পরে রানের গতি বাড়ান। সেখান থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে লাগে মাত্র ৩২ বল। ৮ বাউন্ডারিতে দীর্ঘ বিরতির পর খেললেন বড় ইনিংস। আবার কবে এ রকম ইনিংসের দেখা মিলবে, প্রশ্ন এখন সেটিই!

স্কোরকার্ড

টস : জিম্বাবুয়ে

বাংলাদেশ ইনিংস    রান        বল        ৪          ৬

তামিম ক চাকাবা ব মুজারাবানি ০          ৭          ০          ০         

লিটন ক মাসাকাদজা ব নাগারাভা           ১০২       ১১৪       ৮          ০

সাকিব ক বার্ল ব মুজারাবানি    ১৯         ২৫        ৩          ০

মিঠুন ক চাকাভা ব চাতারা       ১৯         ১৯         ৪          ০

মোসাদ্দেক ক চাকাভা ব নাগারাভা          ৫          ১৫        ০          ০

মাহমুদ ক চাকাভা ব জঙ্গুই       ৩৩        ৫২        ০          ১

আফিফ বোল্ড জঙ্গুই  ৪৫        ৩৫        ১          ২

মেহেদী ক মাসাকাদজা ব জঙ্গুই ২৬         ২৫        ১          ১

সাইফউদ্দিন অপরাজিত          ৮          ৬          ১          ০

তাসকিন রান আউট  ১          ১          ০          ০

শরিফুল অপরাজিত   ০          ১          ০          ০

অতিরিক্ত (ও-১৮)   ১৮

 

মোট (৯ উইকেট, ৫০ ওভার)   ২৭৬

উইকেট পতন : ১-০, ২-৩২, ৩-৫৭, ৪-৭৪, ৫-১৬৭, ৬-২০৭, ৭-২৬৫, ৮-২৬৫, ৯-২৬৭।

বোলিং : মুজারাবানি ১০-২-৪৭-২, চাতারা ১০-১-৪৯-১, নাগারাভা ১০-১-৬১-২, জঙ্গুই ৯-০-৫১-৩, বার্ল ৫-০-৩১-০, মাধেভিরে ৬-০-৩৭-০।

 

জিম্বাবুয়ে ইনিংস      রান        বল        ৪          ৬

মাধেভিরে বোল্ড তাসকিন        ৯          ১৭        ০          ০

মারুমানি বোল্ড সাইফউদ্দিন     ০          ৪          ০          ০

টেলর ক তাসকিন ব সাকিব     ২৪        ৩১        ৩          ০

মায়ার্স ক মোসাদ্দেক ব শরিফুল ১৮        ২৪        ৩          ০

চাকাবা ক মেহেদী ব সাকিব     ৫৪        ৫১        ৪          ২

বার্ল ক আফিফ ব সাকিব        ৬          ১৭        ১          ০

জঙ্গুই রান আউট     ০          ২          ০          ০

মুজারাবানি এলবিডাব্লিউ ব সাকিব          ২          ৪          ০          ০

চাতারা অপরাজিত    ২          ১৮        ০          ০

নাগারাভা ক নুরুল ব সাকিব    ০          ৫          ০          ০

মারুমা অ্যাবসেন্ট হার্ট            ০          ০          ০          ০

অতিরিক্ত (লেবা-২, ও-৪)       ৬

 

মোট (১০ উইকেট, ২৮.৫ ওভার) ১২১

উইকেট পতন : ১-৪, ২-১৩, ৩-৪৯, ৪-৭৮, ৫-১০৫, ৬-১০৫, ৭-১০৮, ৮-১১৯, ৯-১২১।

বোলিং: তাসকিন ৫-০-২২-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-২৩-১, সাকিব ৯.৫-৩-৩০-৫, শরিফুল ৬-০-২৮-১, মেহেদী ৩-০-১৫-০, মোসাদ্দেক ১-০-১-০।

ফল : বাংলাদেশ ১৫৫ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : লিটন দাস।



সাতদিনের সেরা