kalerkantho

রবিবার । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৫ ডিসেম্বর ২০২১। ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতে সেমিতে ব্রাজিল

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কঠিন চ্যালেঞ্জ জিতে সেমিতে ব্রাজিল

ইউরোর উত্তেজনার পাশে যাঁরা কোপা আমেরিকার ম্যাড়মেড়ে ফুটবল নিতে পারছিলেন না, তাঁদের পরশু রাতেই রোমাঞ্চ উপহার দিয়েছে পেরু-প্যারাগুয়ে ম্যাচ। ৩-৩ সমতা শেষে টাইব্রেকার ভাগ্যে পেরুর জয়ের ম্যাচে আর কিছু না হোক নাটকীয়তার কমতি ছিল না। ভোরে ব্রাজিল ম্যাচেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে, তবে তা যতটা না লুকাস পাকেতার গোলে, তার চেয়ে বেশি গ্যাব্রিয়েল জেসুসের বিপজ্জনক ফাউল করার কারণে দেখা লাল কার্ডে।

২০১০ বিশ্বকাপে জাবি আলনসোর বুকে নাইজেল ডি ইয়ংয়ের কুখ্যাত সেই লাথির কথাই এদিন মনে করিয়ে দিয়েছিলেন জেসুস। এদিন সরাসরি বুট দিয়ে আঘাত করেন তিনি চিলি ডিফেন্ডার ইউজেনিও মিনার মুখে। ফলে সরাসরি লাল কার্ড। দ্বিতীয়ার্ধের ৪৮ মিনিটে এই ঘটনা। অথচ এর ঠিক দুই মিনিট আগেই রবার্তো ফিরমিনোর বদলি নেমে পাকেতা দলকে এগিয়ে দিয়েছেন। অর্থাৎ ১-০তে এগিয়ে গিয়েই ১০ জনের দল হয়ে পড়ে ব্রাজিল। তাই বাকি সময়টায় এই লিডটা ধরে রাখাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে তিতের দলের জন্য। আর সেটা করতে পেরেই কোপার টানা দ্বিতীয় আসরে সেমিফাইনালে এখন ব্রাজিল। সেখানে তারা মুখোমুখি হবে গত ফাইনালের প্রতিপক্ষ পেরুর।

পেরু-প্যারাগুয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে ১১ মিনিটেই গুস্তাভো গোমেজের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল প্যারাগুয়ে। জিয়ানলুকা লাপাদুলার জোড়া গোল এরপর পেরুকে ম্যাচে ফিরিয়ে এগিয়েও দেয় ৪০ মিনিটে। বিরতির আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে গোমেজকে মাঠ ছাড়তে হলেও দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ১০ জনের প্যারাগুয়েই আবার সমতা ফেরায় জুনিয়র আলনসোর গোলে। নাটকীয়তার আরো বাকি ছিল। ৮০ মিনিটে ইয়োশুমার ইয়ুতুন ৩-২ করে যখন পেরুকে জেতার স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন, তখনই আবার আন্দ্রে কারিয়োর লাল কার্ডে তারাও ১০ জনের দল। ৯০তম মিনিটে প্যারাগুয়ের গ্যাব্রিয়েল আভালোস ঠিকই ৩-৩ করে ফেলেন। এরপর শ্যুট আউটেও ৩-৩ সমতার পর সাডেন ডেথে জিতে যায় পেরু।

ব্রাজিল-চিলির পরের হেভিওয়েট লড়াইটিতে এই রোমাঞ্চ নেই, যতটা আছে সেলেসাওদের কঠিন পরিস্থিতি পাড়ি দেওয়ার গল্প। ম্যাচের প্রথমার্ধ ম্যাচের কর্তৃত্ব দখলের লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিল দুই দল। অবশ্য শুরুতেই নেইমারের ক্রসে ফিরমিনো দৌড়ে এসে ঠিকঠাক সময় পা ছোঁয়াতে পারলে গল্পটা অন্য রকম হতে পারত। পরে ফিরমিনোকে উঠিয়েই বিরতির পর পাকেতাকে নামান তিতে। নামার মিনিটখানেকের মধ্যেই গোলটা পেয়ে যায় ব্রাজিল। রেনান লোদি, ফ্রেদ, কাসেমিরো, পাকেতা, নেইমারের ওয়ান টাচ ফুটবলের অনুপম প্রদর্শনীই ছিল সেটা। বাঁ দিক থেকে লোদির কাছ থেকে বল পেয়ে ফ্রেদ নিচে দিয়েছেন কাসেমিরোকে, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা বাড়ান পাকেতাকে, পাকেতা থেকে নেইমার, সেখানে নেইমারের ফ্লিকেই ডিফেন্স লাইন পেরিয়ে ডান পায়ের ভলিতে গোল বের করে আনেন পাকেতা। লিওঁতে খেলা ফরোয়ার্ডের ব্রাজিলের জার্সিতে এ বছর এটি দ্বিতীয় গোল। বাকি সময় চিলিয়ানদের আক্রমণ সামলে সেই গোলটি ধরে রেখে সেমিতে পা রাখে তিতের দল। নেইমার খুশি এমন এক জয়ের পরে, ‘চিলির বিপক্ষে এই জয়টা সহজ ছিল না। আর আজ আমরা যে পরিস্থিতি পেরোলাম সচরাচর এই দলের ক্ষেত্রে এমনটা হয় না।’ গোলডটকম



সাতদিনের সেরা