kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ছুটছে অপ্রতিরোধ্য ইতালি

৪ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ছুটছে অপ্রতিরোধ্য ইতালি

লাল দুর্গ হয়ে উঠেছিল বেলজিয়াম। ফিফা র্যাংকিংয়ের চূড়ায় থাকা দল অপরাজিত ছিল টানা ১৩ ম্যাচ। চোখ-ধাঁধানো ফুটবলে দুর্গটা গুঁড়িয়ে দিল ইতালি। ২-১ গোলে জিতে স্বপ্ন ভাঙল বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মেরও। একটি করে গোল নিকোলো বারেল্লা ও লরেঞ্জো ইনসিনিয়ের। রক্ষণের খোলসে না থেকে আগ্রাসী ফুটবল খেলে সেমিফাইনালের টিকিট পাওয়া দলটিকেই এখন ফেভারিট মানছেন ’৯০ বিশ্বকাপজয়ী জার্মান কিংবদন্তি ইয়ুর্গেন ক্লিন্সমান, ‘ইউরোর প্রথম দিন থেকে নিজেদের চিনিয়েছে ইতালি। ওরা যে এবারের ইউরো জেতার জন্য প্রস্তুত, এটা তারই সংকেত।’ বড় নামের তারকা না থাকলেও এমন অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার কারণটা জানালেন ইনসিনিয়ে, ‘আবারও বলছি, সবাই একসঙ্গে জিতেছি আমরা। দলের সবাই খেলেছে নিজেদের সেরাটা। এই টিম স্পিরিটেই অদম্য আমরা।’

১৯৬৮ সালের পর আর ইউরো জেতেনি ইতালি। সুযোগ পায়নি গত বিশ্বকাপেও। সেই দল রবার্তো মানচিনির হাত ধরে অপরাজিত টানা ৩২ ম্যাচ। জিতেছে টানা ১৩ ম্যাচ। বাছাইসহ হিসাব করলে ইউরোতে জিতেছে টানা ১৫ ম্যাচ, যা এই টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। শিরোপার দাবি তাই করতেই পারে ইতালি। তবে মানচিনি সতর্ক, ‘আপাতত জয়টা উপভোগ করি, শিরোপার ব্যাপার পরে দেখা যাবে। বেলজিয়ামের মতো দলকে হারাতে হলে ১১ জনের সবাইকে দুর্দান্ত খেলতে হয়। আমার ছেলেরা সেটাই করেছে।’ মানচিনির দলকে প্রশংসায় ভাসাচ্ছে ইতালিয়ান সংবাদমাধ্যমও। কুরিয়ার দেল্লো স্পোর্তের শিরোনাম, ‘এটা কি সত্যি!’ তুতো স্পোর্ত লিখেছে, ‘এই ইতালি সুন্দর।’ লা গেজেত্তা দেল্লো স্পোর্তের শিরোনাম, ‘আবারও কিংবদন্তি দলের তালিকায় ফিরে এসেছি আমরা।’ ৫৪ শতাংশ বলের দখল রেখে পোস্টে ১৪টি শট নেওয়া ইতালি সেমিফাইনালে খেলবে স্পেনের বিপক্ষে। তবে ৭৯ মিনিটে চোট পাওয়া লেফটব্যাক লিওনার্দো স্পিনাজ্জোলার কয়েক মাস মাঠের বাইরে থাকাটা ধাক্কা ইতালির জন্য।

চোটের জন্য এডেন হ্যাজার্ড ম্যাচ দেখেছেন গ্যালারিতে বসে। কেভিন ডি ব্রুইন নেমেছিলেন শতভাগ ফিট না হয়েই। অথচ বেলজিয়ামের আক্রমণগুলো ছিল তাঁকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ শেষে চোটের কথা স্বীকার করে নিলেন ডি ব্রুইন, ‘আমার খেলতে পারাটা অলৌকিক ব্যাপার। আমি নিশ্চিত অ্যাঙ্কেলে ক্ষত আছে, লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে। কিন্তু দেশের হয়ে খেলাটা দায়িত্ব মনে হয়েছে আমার। এখন চেষ্টা করব পরের বিশ্বকাপ জেতার।’

১৩তম মিনিটে লিওনার্দো বোনুচ্চি বল জালে জড়ালেও অফসাইডে থাকায় ভিএআর বাতিল করে ইতালির গোল। ৩১তম মিনিটে বেলজিয়াম রক্ষণের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইতালিকে এগিয়ে দেন বারেল্লা। ভেরোত্তির পাস থেকে বিপক্ষের তিনজনের মাঝখান দিয়ে ছিটকে বেরিয়ে জোরালো শটে গোল ইন্টারের এই মিডফিল্ডারের। ৪৪তম মিনিটে এবারের ইউরোর অন্যতম সুন্দর গোলটিই করেন ইনসিনিয়ে। প্রায় মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে এগিয়ে তাঁর ২২ গজ দূর থেকে নেওয়া বাঁকানো শট ঝাঁপিয়েও ঠেকাতে পারেননি থিবো কর্তোয়া।

বিরতির ঠিক আগে পেনাল্টি থেকে এক গোল ফিরিয়ে ম্যাচে প্রাণ আনেন রোমেলু লুকাকু। হ্যাজার্ডের জায়গায় পুরো ম্যাচ দুর্দান্ত খেলা তরুণ জেরেমি দোকুকে ডি বক্সে জিওভানি দি লোরেনজো ফাউল করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি। ৬১ মিনিটে সেই দোকুর পাস ডি বক্সে পেয়ে ডি ব্রুইন বাড়িয়েছিলেন লুকাকুকে। তাঁর আলতো টোকার গোলমুখী বল দিকভ্রান্ত হয় স্পিনাজ্জোলার গায়ে লেগে। টানা পাঁচ বছর ফিফা র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা বেলজিয়াম ছিটকে যায় শেষ আট থেকে। গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়ার হতাশা, ‘আমরা ভালো দুটো সুযোগ নষ্ট করেছি। ওদের গোলরক্ষক ভালো সেভ করেছে। প্রথম গোলটাও হয়েছে আমাদের ভুলে। তবে যোগ্য দল হিসেবেই ইতালি জিতেছে।’ এএফপি