kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

হেভিওয়েটদের গ্রুপে হৃদয় ভাঙল হাঙ্গেরির

২৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হেভিওয়েটদের গ্রুপে হৃদয় ভাঙল হাঙ্গেরির

টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পর্তুগাল, রানার্স আপ ফ্রান্স, সঙ্গে জার্মানি। এমন এক গ্রুপে হাঙ্গেরিকে নিয়ে আশা করেওনি কেউ। কিন্তু কে জানত এই হেভিওয়েটদের সঙ্গে গ্রুপ পর্বের শেষ দিন পর্যন্ত শেয়ানে শেয়ানে লড়াই করে যাবে দলটি।

বুদাপেস্টে আগের দুই ম্যাচে পর্তুগাল ও ফ্রান্সের বিপক্ষে অসাধারণ মুহূর্ত উপহার দিয়েছে তারা। পর্তুগালের সঙ্গে ৮৪ মিনিট পর্যন্ত তো ছিল গোলশূন্য। শেষ সময়ে তিন গোল হজম। তাদের সেই প্রতিরোধ যে কোনো চমক ছিল না, পরের ম্যাচে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-১ গোলে আটকে দিয়ে সেটি বুঝিয়েছে, সেদিন উৎসব হয়েছে পুসকাস স্টেডিয়ামে। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচটি তাদের খেলতে হয় মিউনিখে। যেমনটা মনে করা হয়েছিল বুদাপেস্টে উপচে পড়া গ্যালারির সমর্থনই তাদের মূল শক্তি, মিউনিখে প্রত্যাশাটা তাই আবারও ম্রিয়মাণ হয়ে যায়। সেখানেই আবার হাঙ্গেরির চমক। জার্মানির মাঠে জার্মানির বিপক্ষে ৬৬ মিনিট পর্যন্ত যে তারাই এগিয়ে ১-০ গোলে। ম্যাচের ১১ মিনিটেই আদাম সালাই এগিয়ে দিয়েছিলেন। তাতে স্বাগতিকদের টপকে ফ্রান্স, পর্তুগালের সঙ্গে হাঙ্গেরিই যে ছিল শেষ ষোলোতে যাওয়ার পথে। ৬৬ মিনিটে কাই হাভার্টজ ম্যাচে সমতা ফেরান। কিন্তু এর দুই মিনিট পরই আবার শাফারের গোলে ২-১ এগিয়ে হাঙ্গেরিয়ানরা। ওদিকে বুদাপেস্টে ফ্রান্স-পর্তুগাল ম্যাচ ড্রয়ের পথে। ফলে জার্মানরাই তখন টেবিলের তলানিতে। ৮৪ মিনিটে লিওন গোরেত্জকা ত্রাতা হয়ে আসেন জার্মানদের। তাঁর গোলেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলে ড্র। ৪ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানরা উঠে যায় শেষ ষোলোতে, হৃদয় ভাঙে হাঙ্গেরির।

বুদাপেস্টে গতবারের দুই ফাইনালিস্টের লড়াইও ছিল শুরু থেকে হাড্ডাহাড্ডি। জার্মানির বিপক্ষে দুটি আত্মঘাতীসহ চার গোল হজম করা পর্তুগাল খেলছিল বিল্ড আপ ফুটবল। ওদিকে হাঙ্গেরির কাছে পয়েন্ট খোয়ানো ফ্রান্সও ছিল সতর্ক। ২-২ গোলে শেষ হওয়া ম্যাচটির ভাগ্য গড়ে দিয়েছে আসলে তিনটি পেনাল্টি। যার প্রথম দুটিই বিতর্কিত। ৩১ মিনিটে উগো লরিসের পাঞ্চ বল ছুঁয়ে দানিলোর মাথায় আঘাত করলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান স্প্যানিশ রেফারি আন্তোনিও মাতেও। স্পট কিকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো এগিয়ে নেন পর্তুগালকে। কিন্তু বিরতিতে যাওয়ার আগেই আরেকটি পেনাল্টিতে সেই গোল শোধ দেয় ফ্রান্স। এবার বক্সে ঢোকার মুখে নেলসন সেমেদোর সঙ্গে হালকা সংঘর্ষে পড়ে যান কিলিয়ান এমবাপ্পে। রেফারি তাতেই দেন পেনাল্টি। সেখান থেকে করিম বেনজিমা করেন ১-১। বিরতির পর ফিরেই বেনজিমার আরেক গোল। এবার পল পগবার কাছ থেকে বল পেয়ে কোনাকুনি শটে গোল করেন রিয়াল মাদ্রিদ স্ট্রাইকার। ওদিকে তখন হাঙ্গেরি এগিয়ে ছিল জার্মানির বিপক্ষে। ফলে পিছিয়ে পড়া পর্তুগাল টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কায় থাকে। তবে ৬০ মিনিটে নিজেদের বক্সে জুলস কুন্দের হ্যান্ডবলে পর্তুগাল আবারও পেনাল্টি পেয়ে গেলে তেমন কিছুই আর হয়নি। স্পট কিক থেকে রোনালদো নিজেদের দ্বিতীয় গোল করে জাতীয় দলের জার্সিতে সর্বোচ্চ ১০৯ গোল করা ইরাকি কিংবদন্তি আলী দায়ির রেকর্ড ছুঁয়েছেন। শেষ ষোলোতে অবশ্য আরেক হেভিওয়েট বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলতে হবে তাদের। ফ্রান্স মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ডের, জার্মানিরও কঠিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। গোলডটকম