kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ৩ আগস্ট ২০২১। ২৩ জিলহজ ১৪৪২

সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল আবাহনী

দুপুরে গাজী গ্রুপ গ্রুপের বিপক্ষে আবাহনীর জয়ে এ নাটকীয়তার বিপরীতে যে ছবিটা আছে, তা এ দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো লক্ষণ নয় মোটেও। ১৩১ রানে জয়-পরাজয় নির্ধারক ম্যাচ অন্তত টি-টোয়েন্টি আবহের সঙ্গে যায় না।

২২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সহজ ম্যাচ কঠিন করে জিতল আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নাসুম আহমেদকে এক্সট্রা কাভারে খেলে দ্বিতীয় রান শেষ করার সময় তানজিম হাসান সাকিবের অভিব্যক্তিতে যেন লিগ জয়ের আনন্দ! বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসই হওয়ার কথা। হারতে বসা ম্যাচ ১ বল আর ১ উইকেট বাকি থাকতে জেতা তো বিশেষ কিছুই। কিন্তু গতকাল দুপুরে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে আবাহনী লিমিটেডের জয়ে এ নাটকীয়তার বিপরীতে যে ছবিটা আছে, তা এ দেশের ক্রিকেটের জন্য ভালো লক্ষণ নয় মোটেও। ১৩১ রানে জয়-পরাজয় নির্ধারক ম্যাচ অন্তত টি-টোয়েন্টি আবহের সঙ্গে যায় না। এদিন সকালের ম্যাচটিও ছোট পুঁজির। তবু ভালো যে শেখ জামাল ধানমণ্ডির ১৩০ টপকে ৬ উইকেটের অনায়াস জয় পেয়েছে প্রাইম দোলেশ্বর। সন্ধ্যার ম্যাচে মোহামেডানকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে প্রাইম ব্যাংক। মোহামেডানের ১৫৪ রান তাড়া করে রুবেল মিয়ার ৬৫ এবং রকিবুল হাসানের অপরাজিত ৩১ রানে ৫ বল বাকি থাকতে লক্ষ্যে পৌঁছেছে প্রাইম ব্যাংক।

মুকিদুল ইসলামকে হাতের তালুতে রেখে রক্ষণাবেক্ষণ করছে বিসিবি। করারই কথা। দুর্দান্ত গতি। আর ছন্দে থাকলে নিখাদ উইকেটটেকার এই তরুণ পেসার। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ৩ বলের ব্যবধানে মুশফিকুর রহিম ও মোসাদ্দেক হোসেনকে ফিরিয়ে আবাহনীর মসৃণ পথ দুর্গম করে দিয়েছিলেন মুকিদুল। আবার সেই তিনিই নিজের তৃতীয় ওভারে ২২ রান গুনে গাজীকে এক ধাক্কায় খাদের কিনারে নিয়ে গেছেন। তবে নিজের চতুর্থ ওভারে ম্যাচের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরিয়ান নাজমুল হোসেনের স্টাম্প উপড়ে ফেলে তেরাস্তায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন ম্যাচকে।

৬ বলে ৯ রান দরকার আবাহনীর, হাতে ২ উইকেট। তবে ক্রিজে থাকা তানজিম ও মেহেদী হাসান রানা নির্ভেজাল টেলএন্ডার। শেষ ব্যাটসম্যান আরাফাত সানির ব্যাটে হারানো দিনের সুরও নেই। এ অবস্থায় ম্যাচের পাল্লা দুই দিকেই ঝুঁকে, আবার সুপার ওভারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শেষ ওভার করতে আসা গাজীর বাঁহাতি পেসার নাসুম আহমেদের প্রথম বলটা ঠেলে দিয়েই ১ রান নিয়েছেন তানজিম। পরের বলে মেহেদী রানার বাউন্ডারিতে ম্যাচ আবাহনীর মুঠোয় চলে যাওয়ার কথা। কিন্তু পরের বলেই দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে মেহেদী রানা রান আউট হতেই আবার গর্জে ওঠে গাজী। ৩ বলে ৩—অঙ্কটা জটিল নয় আবাহনীর জন্য। কিন্তু শেষ উইকেট জুটি আবার ভরসা জোগাচ্ছে গাজীকে। প্রথম বলে আবাহনী সিঙ্গেল নিয়ে তানজিমকে স্ট্রাইকে ফিরিয়ে এনেছেন আরাফাত। এরপর আবাহনী পেসারের সেই উইনিং স্ট্রোক।

বাণিজ্যিক ক্রিকেটের যুগে এমন রোমাঞ্চ উপভোগ্য। কিন্তু দুই দলের ব্যাটিংয়ের হতদশা টি-টোয়েন্টির বিজ্ঞাপন নয় মোটেও। এটা অনস্বীকার্য যে মিরপুরের উইকেট ব্যাটিংবান্ধব নয়। কিন্তু ৪ নম্বর উইকেট অতটা খারাপ নয়। আবাহনী নিয়ম করেই এই উইকেটে খেলে যাচ্ছে। অথচ সেই দলটিই কিনা মামুলি পুঁজি তাড়া করল ঘেমে নেয়ে! স্পষ্টতই শিষ্যদের ব্যাটিংয়ে বিরক্ত আবাহনী কোচ খালেদ মাহমুদ। একসময় ক্ষোভে ড্রেসিংরুমের ভেতরে ঢুকে পড়া কোচকে আর দেখা যায়নি ডাগআউটের আশপাশে। ক্ষুব্ধ হওয়ারই কথা। তারকাদের ভিড়ে প্রায় অচেনা মুনিম শাহরিয়ারের ব্যাটেই এত দিন শুরুতে রান পেয়েছে আবাহনী। গতকাল রান আসেনি তাঁর ব্যাটে। চোট কাটিয়ে ফেরার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও সাম্প্রতিক অফ ফর্মের বৃত্তে বন্দি থেকেছেন লিটন দাস। আর রয়েসয়ে খেলা মুশফিক কেন মুকিদুলের অফস্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরেছেন, তা তিনিই জানেন। ১ বল পর মোসাদ্দেক চলে গেলেও শেষভাগের নাটকের আগে পর্যন্ত আবাহনীর নড়বড়ে তরি সামাল দিয়েছেন নাজমুল (৪৯ বলে ৫৮)। আর টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা গাজীর পুরো ইনিংসটাই ছিল অস্বস্তির। স্পিনাররা রান আটকেছেন। আর উইকেট নিয়েছেন পেসাররা। ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মহামূল্য জয়সূচক রান করা মেহেদী রানা নিয়েছেন ৩ উইকেট।

মিরপুরে আবার ঝড় তুলেছেন নুরুল হাসান। সকালের ম্যাচে ২৪ বলে ৪২ রান করা শেখ জামাল অধিনায়কের আউটেও আছে বিশেষত্ব! ফিল্ডিংয়ে বাধা দিয়ে ‘অবস্ট্রাক্টিং দ্য ফিল্ড’ আউট হয়েছেন নুরুল। তবে তাঁর চার বাউন্ডারি আর দুই ছক্কার পরও জামাল থামে ৯ উইকেটে ১২৩ রানে। দোলেশ্বরের ওপেনার সাইফ হাসানের ৩৩ বলে ৬০ রানের ঝড়ে ১৮তম ওভারেই ম্যাচ শেষ। ৭ বাউন্ডারি আর ৩ ছক্কার ইনিংস খেলা সাইফের হাতে উঠেছে ম্যাচসেরার পুরস্কার।

ওদিকে বিকেএসপিতে রেলিগেশন লিগের ম্যাচে রাকিন আজমেদ (৫৮ বলে ৯২) ও মুহাইমিনুল খানের (৩৫ বলে ৫০*) তাণ্ডবে ২ উইকেটে ১৯৯ রান তোলে ওল্ড ডিওএইচএস। জয়ের মুখ না দেখা পারটেক্সের জন্য এই লক্ষ্য এভারেস্টসম। তবে হারের ব্যবধান পারটেক্স ২৩ রানে নামিয়ে আনতে পেরেছে হাসানুজ্জামান এবারের লিগের দ্রুততম সেঞ্চুরি করায়। তাঁর দল থেমেছে ৮ উইকেটে ১৭৬ রান তুলে।



সাতদিনের সেরা