kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৯ জুলাই ২০২১। ১৮ জিলহজ ১৪৪২

শুভ জন্মদিন

জাদুকরী এক ড্রিবলার

২১ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাদুকরী এক ড্রিবলার

অনেকের চোখেই বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসের সেরা ড্রিবলার তিনি। রাইট উইং ধরে জাদুকরী ভঙ্গিতে এগিয়ে যাওয়া, পেছনে পড়ে থাকা ডিফেন্ডারদের হতবাক দৃষ্টি—এ দেশের ফুটবল রোমান্টিকদের কাছে চির অম্লান ছবি। ১৯৮৯ সালে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে চারজনকে কাটিয়ে খন্দকার ওয়াসিম ইকবালের গোল এখনও ফুটবল রোমান্টিকদের মনে স্থায়ী হয়ে আছে।

শৈশব, কৈশোর এমনকি ক্যারিয়ারেরও প্রায় পুরোটা ওয়াসিমের কেটেছে ব্রাদার্সে। ক্লাব থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বাড়ি তাঁর। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ পর্যন্ত টানা খেলেছেন মহল্লার ক্লাবে। ’৮৭-তে কলকাতার ইস্টবেঙ্গলে যাওয়ার পর ১৯৮৮ ও ১৯৮৯ সালে খেলেন আবাহনীতে। ১৯৯০-এ আবারও ফিরে আসেন ব্রাদার্সে। অবসর পর্যন্ত অন্য ক্লাবে যাননি আর। পরস্ফুিটন, যশ, খ্যাতি, অর্থ, জাতীয় দলের নেতৃত্ব, ২০০৬ সালে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া—সব কিছুর জন্যই ব্রাদার্সের প্রতি কৃতজ্ঞ ওয়াসিম ইকবাল, ‘ ব্রাদার্সের অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মনে করিয়ে দেয় জন্মদিনটা। বছরের ৩৬৫ দিনই তো থাকি ওখানে! ক্লাবের কোন পদে কখনও ছিলাম না। তবে এখনো দরকার হলে কোচিংয়ে ডাকে আমাকে।’

বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একটি মিস ওয়াসিমকে পোড়ায় এখনো। ১৯৮৫ সালের লিগে আবাহনীর বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকার সময় গোলরক্ষককে পেয়ে গিয়েছিলেন একা। সেটা গোল হলে শিরোপা একপ্রকার নিশ্চিতই হতো ব্রাদার্সের। উল্টো সেই মিসের খেসারত দিয়ে ম্যাচটি ৩-২ গোলে হেরে আর চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি গোপীবাগের ক্লাবটি।

ফুটবল ক্যারিয়ার যখন তুঙ্গে, তখনই হঠাৎ জনি ওস্তাদ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন ওয়াসিম ইকবাল। রাজ্জাক, অঞ্জু ঘোষ, এ টি এম শামসুজ্জামানরাও অভিনয় করেছিলেন তাঁর সহশিল্পী হিসেবে। গ্ল্যামারার্স এই ফুটবলার এরপর অনেক প্রস্তাব পেলেও আর পা বাড়াননি ঢালিউডে। অবসরের পর অনেক ব্যবসা করলেও থিতু হতে পারেননি। এ নিয়ে তাঁর আফসোস, ‘অনেকেই বলে আমি কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল ছিলাম। এ জন্যই কিনা অবসরের পর পেপার মিলের ব্যবসা, লিফট ব্যবসা, বায়ো-ইকুপমেন্টস সাপ্লাইয়ের কাজ, যমুনা ব্রিজ তৈরির সময় টুকটাক কাজ, স্টোনের ব্যবসা—এত কিছু করেও থিতু হতে পারিনি একটিতেও। কোচিংও নিয়মিত করতে পারিনি। তবে চেষ্টা করে চলেছি, দেখা যাক সামনে কী হয়।’

স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে গোপীবাগেই থাকেন ওয়াসিম ইকবাল। ছেলেও ফুটবলপ্রেমী। ছেলে ক্যারিয়ার হিসেবে ফুটবল বেছে নিতে চাইলে বাধা দিতে চান না তিনি।