kalerkantho

শুক্রবার । ৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৩ জুলাই ২০২১। ১২ জিলহজ ১৪৪২

থেমে গেল মিলখার জীবনের দৌড়

জীবন বাঁচাতে তখন থেকেই দৌড় শুরু মিলখার। দৌড়ই এনে দিয়েছে কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে পদক। সঙ্গে খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা আর অসংখ্য পুরস্কার। সেই দৌড় থেমে গেল শুক্রবার রাতে।

২০ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



থেমে গেল মিলখার জীবনের দৌড়

মিলখা সিংয়ের চোখের সামনেই হত্যা করা হয়েছিল তাঁর বাবা, মা, এক ভাই ও দুই বোনকে। মৃত্যুর ঠিক আগে বাবা চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘ভাগ মিলখা ভাগ।’ জীবন বাঁচাতে তখন থেকেই দৌড় শুরু মিলখার। দৌড়ই এনে দিয়েছে কমনওয়েলথ ও এশিয়ান গেমসে পদক। সঙ্গে খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা আর অসংখ্য পুরস্কার। সেই দৌড় থেমে গেল শুক্রবার রাতে। করোনা আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হলেও পরবর্তী জটিলতা ও নানা রোগে ভুগে ৯১ বছর বয়সী ভারতীয় এই অ্যাথলেট শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মোহালির পিজিআইএমইআর হাসপাতালে। ‘ফ্লাইং শিখ’ খ্যাত মিলখার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ভারতীয় ক্রীড়াঙ্গনে।

১৯২৯ সালের ২০ নভেম্বর বর্তমান পাকিস্তানের মুজাফফর নগরে জন্ম মিলখা সিংয়ের। ১৯৪৭ সালে চলে আসেন ভারতে। কিন্তু ভারত ভাগাভাগির দাঙ্গায় বাবা-মাসহ ১৫ ভাই-বোনের আটজনকেই হারান তিনি। জীবনের এমন বাঁকে দাঁড়িয়ে হতে পারতেন ডাকাতও। বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ করায় যেতে হয় জেলে। তাঁকে ছাড়িয়ে আনতে গয়না বিক্রি করেন এক বোন। ১৯৫২ সালে ৩৯ রুপি ৮ আনা বেতনে ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে বদলে যায় মিলখার জীবন। ১৯৫৮ সালে কার্ডিফ কমনওয়েলথ গেমসে প্রথম ভারতীয় অ্যাথলেট হিসেবে সে সময়ের ৪৪০ গজ দৌড়ে জেতেন সোনা। ১৯৫৮ এশিয়ান গেমসে সোনা জেতেন ২০০ ও ৪০০ মিটারে। দুটি সোনা জেতেন ১৯৬২ এশিয়ান গেমসেও। ১৯৬০ রোম অলিম্পিকে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয় ৪০০ মিটারে। তবে মিলখার চতুর্থ হওয়াটাই উৎসাহিত করে গেছে প্রজন্মের পর প্রজন্মকে। মিলখার ছেলে জিভ মিলখা সিং গলফে ১৪টি আন্তর্জাতিক ট্রফি জেতায় পেয়েছেন পদ্মশ্রী পুরস্কার।

১৯৫৯ সালে পদ্মশ্রী পাওয়া মিলখা সিং ২০০১ সালে প্রত্যাখ্যান করেন অর্জুন পুরস্কার। ভারত সরকারকে জানান, ‘এই পুরস্কার তরুণদের জন্য, আমার মতো বুড়োদের জন্য নয়।’ নিজের জেতা সব পদক আর ট্রফি দান করে দিয়েছেন মিলখা। তাঁর জীবন নিয়ে তৈরি সিনেমা ‘ভাগ মিলখা ভাগ’ মাইলফলকই হয়ে আছে বলিউডে। ছোট থেকে দৌড়াতে থাকা সেই মিলখার ‘রেস’ থামল ৯১ বছর বয়সে। পিটিআই



সাতদিনের সেরা