kalerkantho

সোমবার । ১৮ শ্রাবণ ১৪২৮। ২ আগস্ট ২০২১। ২২ জিলহজ ১৪৪২

ম্যাচ বাছাইয়েরও সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা

১৮ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ম্যাচ বাছাইয়েরও সুযোগ পাবেন ক্রিকেটাররা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একসময় তীর্থের কাকের মতো আন্তর্জাতিক ম্যাচের অপেক্ষায় থাকতেন আকরাম খান। আর এখন তাঁর দপ্তরে একালের ক্রিকেটারদের ছুটি চেয়ে চিঠির স্তূপ! আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজের আগে দল গঠনেও নির্বাচকদের সেসব চিঠিকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। ঠাসা ক্রিকেটসূচি যার প্রধান কারণ।

১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে আকরামের সুযোগ হয়েছে মোটে ৪৪টি। সেখানে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর ১৪তম বছরে এই ফরম্যাটের ২১৬ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও টুর্নামেন্টের সংখ্যা বেড়েছে। সব মিলিয়ে এই দুই প্রজন্মের ক্রিকেটীয় ব্যস্ততার ব্যবধান প্রায় ১০ গুণ! সঙ্গে আবার করোনার কারণে যুক্ত হয়েছে বায়ো-বাবল, যা শুষে নিচ্ছে ক্রিকেটারদের মানসিক শক্তিও।

তাই চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের সঙ্গে আপস করছে ক্রিকেট বোর্ডগুলো। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও সে পথে হাঁটছে। বিসিবি থেকে উদ্যোগী হয়ে ক্রিকেটারদের নিজেদের পছন্দের ফরম্যাট জানতে চাওয়া হয়েছে। কে কোনটায় খেলতে আগ্রহী, সেটি জানানোর পর নতুন চুক্তিপত্র তৈরি এখন শেষ ধাপে।

গতকাল এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখোমুখি হওয়া ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান আকরাম খান আধুনিক ক্রিকেটের নতুন ‘সংকটে’র বিষয়টি উত্থাপন করেছেন, ‘অনেক ঠাসা সূচি। শারীরিকভাবে ফিট থাকলেও মানসিকভাবে ফিট থাকা কঠিন। এটা (রোটেশন) নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করছি। কোচের সঙ্গে আলোচনা করছি। খেলোয়াড়দের মতামত নেব।’

ঘুরিয়ে ফিরিয়ে খেলিয়ে সবাইকে ফিট রাখার প্রক্রিয়ায় এখন খেলোয়াড়দের মতামতই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তাই সাকিব আল হাসান ছুটি পেয়েছিলেন শ্রীলঙ্কা সফর থেকে। আসন্ন জিম্বাবুয়ে সিরিজে ছুটি চাইলেও সম্ভবত তাঁকে আটকে রাখবে না বিসিবি। তবে এ ব্যাপারে অবগত নন আকরাম, ‘আমি কোনো কিছু শুনিনি। কোনো চিঠিও পাইনি।’

তবে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের সুপার লিগে সাকিবকে পাচ্ছে না মোহামেডান। দীর্ঘদিন পর যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে যাচ্ছেন তিনি। এর সূত্র ধরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে উড়ে গিয়ে জিম্বাবুয়ে সিরিজ সাকিব আল হাসান জিম্বাবুয়ে সিরিজ খেলবেন কিনা, সংশয় আছে। তাঁর ছুটির আবেদন করা নিয়ে জোর আলোচনাও চলছে।

সাকিব একা নন, জিম্বাবুয়ে সিরিজে এর মধ্যে একটি ফরম্যাট থেকে ছুটি চেয়ে আবেদন করেছেন মুশফিকুর রহিম। সিরিজের শেষার্ধের টি-টোয়েন্টি না খেলেই দেশে ফিরবেন তিনি। প্র্যাকটিসের জন্য মুখিয়ে থাকা মুশফিক আন্তর্জাতিক ম্যাচ থেকে ছুটির আবেদন করেছেন—তাঁকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যে কারোর কাছেই বিস্ময়কর!

তামিম ইকবালের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্ব ওয়ানডে ফরম্যাট। নিজে সেটির অধিনায়ক। তার ওপর ২০২৩ বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার দীর্ঘ ‘অগ্নিপরীক্ষা’ও চলছে তাঁর দলের। তাই তামিমকে সহসা টি-টোয়েন্টিতে না দেখার সম্ভাবনাই বেশি।

নিউজিল্যান্ড সফরে যাওয়ার আগে টি-টোয়েন্টিতে না রাখার অনুরোধ নির্বাচকদের জানিয়ে গিয়েছিলেন তামিম। সে মতে ফিরেও এসেছিলেন সবার আগে। জিম্বাবুয়ে থেকেও তাই মুশফিকের সঙ্গে তাঁর একই ফ্লাইটে ফেরার সম্ভাবনা বেশি। শুধু এই সিরিজই নয়, অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টিতেও নাকি নিজেকে দেখছেন না তামিম ইকবাল। টেস্ট আর ওয়ানডে—ক্যারিয়ারের শেষ ল্যাপে সম্ভবত এই দু’টতেই তিনি পুরো মনোযোগ দেবেন। গতকাল প্রাইম ব্যাংকের ম্যাচের পর বিশ্রামে চলে যাওয়ার ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন তামিম, ‘গত কয়েকটা ম্যাচে পায়ের ব্যথার কারণে ঠিকভাবে ফিল্ডিং করতে পারিনি। সামনেই জিম্বাবুয়ে সিরিজ। তাই এখন বিশ্রাম আর পুনর্বাসন করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য তৈরি থাকতে চাই। চিকিৎসকরাও একই পরামর্শ দিয়েছেন।’

তিন ফরম্যাট আর ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের চাপে ব্যতিব্যস্ত মুস্তাফিজুর রহমানেরও চোটের ইতিহাস আছে। তার ওপর তিনি পেসার, তাই যত্ন-আত্তিও বেশি দরকার। এই যেমন প্রাইম ব্যাংকের হয়ে আগের দুই ম্যাচে দেখা যায়নি তাঁকে। জিম্বাবুয়েতে একমাত্র টেস্টেও মুস্তাফিজের খেলার সম্ভাবনা নেই। সাদা বলের ক্রিকেটে পুরো ফিট মুস্তাফিজকে চায় বাংলাদেশ।

সাকিবকে যেমন নিউজিল্যান্ড সফরে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে চেয়েছিল বাংলাদেশ দল। জিম্বাবুয়ে সফরেও অন্য দুই ফরম্যাট থেকে ছুটি দিয়ে হলেও সাকিবকে চায় বাংলাদেশ দল। পরবর্তী বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার জন্য যে গুটিকয় সিরিজকে পাখির চোখ করেছে, জিম্বাবুয়েতে জুলাইয়ের তিন ওয়ানডে সেগুলোর একটি।



সাতদিনের সেরা