kalerkantho

শুক্রবার । ২২ শ্রাবণ ১৪২৮। ৬ আগস্ট ২০২১। ২৬ জিলহজ ১৪৪২

মেসির ম্যাচে ড্র চিলির

সবার ব্যর্থতা ভুলিয়ে মেসি ৩৩ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন বাঁ পায়ের এক জাদুকরী ফ্রি-কিকে। এটি যেন হুবহু ১৯৮৭-র কোপায় ম্যারাডোনার ফ্রি-কিকের মতো। এরপর আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বরের’ মতো করেই গোল উদযাপন করে ‘খুদে জাদুকর’ আলবিসেলেস্তেদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন স্মৃতির সরণিতে।

১৬ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেসির ম্যাচে ড্র চিলির

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দাপটে খেলেও আর্জেন্টিনা জয়ে শুরু করতে পারেনি কোপা আমেরিকা। চিলির বিপক্ষে তাদের মাঠের দাপট ফুটে ওঠেনি স্কোরলাইনে। তবু ১-১ গোলের ড্র ম্যাচটি থাকবে লিওনেল মেসির দুর্দান্ত ফ্রি-কিক গোলের স্মারক হয়ে। সেই গোলই আর্জেন্টাইন সমর্থকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ৩৪ বছর আগের স্মৃতিতে। ইকুয়েডরের বিপক্ষে ফ্রি-কিক থেকে একদম একই রকম গোল করেছিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা।

গতকাল এই ম্যাচে প্রয়াত আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’কে ফিরিয়ে এনেছেন লিওনেল মেসি। প্রায় সবগুলো আক্রমণের কেন্দ্রে তিনি। বল তাঁর পায়ে পড়লে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে, কিন্তু সতীর্থদের গোল মিসের মহড়ায় বৃথা গেছে সব। আট মিনিটে অবশ্য মেসি নিজেই সুযোগ নষ্ট করেন ভলি পোস্টে না রেখে। কয়েক মিনিট বাদে লো সেলসোর বাঁ দিকের ক্রসে লাউতারো মার্তিনেস ছয় গজি বক্সের ভেতর থেকে বল তুলে দেন ক্রসবারের ওপরে। এরপর মিসের মহড়ায় যোগ দেন নিকোলাস গঞ্জালেস। প্রথমে স্টুটগার্টের এই ফরোয়ার্ডের শট দারুণ সেভ করেন চিলির গোলরক্ষক ক্লদিও ব্রাভো। কিন্তু পরের দুটি মুভের একটি তাঁর জালে পাঠানো উচিত ছিল। মেসির কর্নার কিকে গঞ্জালেস হেড করেন বারের ওপরে, এরপর লো সেলসোর বানিয়ে দেওয়া বলটি নিরীহ শটে তুলে দেন ব্রাভোর হাতে।

সবার ব্যর্থতা ভুলিয়ে মেসি ৩৩ মিনিটে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন বাঁ পায়ের এক জাদুকরী ফ্রি-কিকে। এটি যেন হুবহু ১৯৮৭-র কোপায় ম্যারাডোনার ফ্রি-কিকের মতো। এরপর আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বরের’ মতো করেই গোল উদযাপন করে ‘খুদে জাদুকর’ আলবিসেলেস্তেদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছেন স্মৃতির সরণিতে। আর ফ্রি-কিক গোলের হিসাবে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক (৫৭) টপকেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোকে এবং দেশের হয়ে স্বীকৃত ম্যাচে তিনি সর্বোচ্চ গোলের (৩৯) মাইলস্টোনে দাঁড়িয়ে। কিন্তু ব্যক্তিগত অর্জনের ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত জিততে না পারায় হতাশ মেসি, ‘জয় দিয়ে কোপা শুরু করতে চেয়েছিলাম আমরা। কঠিন প্রতিপক্ষের সঙ্গে জয়টা খুব দরকার ছিল। তা ছাড়া সামনে উরুগুয়ের সঙ্গে আরেকটি কঠিন ম্যাচ। তাই এই ম্যাচটা...।’ জেতার মতো খেললেও দুর্ভাগ্য তাদের পিছু টানছিল। ৫৭ মিনিটে ভিদাল শট নেওয়ার সময় তেলিয়াফিকোর পায়ে লেগে গেলে ভিএআর দেখে রেফারি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেন। ভিদালের স্পট কিক ক্রসবার ফিরিয়ে দিলেও ভারগাসের হেড জালে জড়িয়ে গেলে ম্যাচটি কঠিন হয়ে যায় আর্জেন্টিনার জন্য।

তাদের ফরোয়ার্ডদের পায়ে গোলখরার কারণেই ম্যাচটি কঠিন হয়ে গেছে। নইলে সমতা ফেরানোর পরও তারা আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। সবচেয়ে সহজ সুযোগটি ছিল বোধহয় ৮০ মিনিটে। মেসির হাওয়ায় ভাসানো বলটি পোস্টের মাত্র সাত গজ দূর থেকে অবিশ্বাস্যভাবে বাইরে পাঠিয়েছেন গঞ্জালেস। সবচেয়ে সহজ সুযোগ নষ্ট করলে তো ৩ পয়েন্টের স্বপ্ন আর বেঁচে থাকে না। চোখের সামনে স্বপ্নের অপমৃত্যু দেখে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠে হতাশা, ‘জয়টা আমাদের প্রাপ্য ছিল।’ পরে অবশ্য সামনের ম্যাচগুলোর জন্য আশা জাগানিয়া কথা বলেছেন, ‘আমরা যদি গোলের সুযোগ তৈরি করতে না পারতাম, সেটা খুব দুশ্চিন্তার হতো। গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, আমরা সুযোগ তৈরি করছি এবং অনেক খেলোয়াড় বক্সে থাকছে। এভাবেই হবে।’ এএফপি



সাতদিনের সেরা