kalerkantho

সোমবার । ৫ আশ্বিন ১৪২৮। ২০ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১২ সফর ১৪৪৩

ওমান ম্যাচ দিয়ে শেষ বাংলাদেশের মিশন

১৫ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ওমান ম্যাচ দিয়ে শেষ বাংলাদেশের মিশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ওমানের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ ম্যাচটি শুরু হবে রাত ১১টায়, শেষ হবে ১টা নাগাদ। এর মধ্যে কেউ ঘুমিয়ে পড়ল। পরদিন সকালে উঠে দেখল ম্যাচটা জিতে গেল বাংলাদেশ! এমন হতে পারে ফুটবলে। কিন্তু এমন কল্পনা প্রশ্রয় দিতে চান না কোচ জেমি ডে-ও। এই ম্যাচটা হলো ভালো দলের বিপক্ষে তাঁর খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা অর্জনের। আর নিজের জন্য হয়তো বা বাংলাদেশ অধ্যায়ের শেষ ম্যাচ।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র ম্যাচ পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। মানুষের আগ্রহও ছিল ফুটবলে। কিন্তু পরের ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জয় প্রত্যাশী বাংলাদেশ ২-০ গোলে হেরে যাওয়ায় ওই আগ্রহ উৎসাহেও ভাটা পড়ে। তাই রাত ১টা পর্যন্ত জেগে কজন ম্যাচ দেখবে, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ আছে। তা ছাড়া এই ম্যাচ নিয়ে কোনো পয়েন্টের অঙ্ক ছিল না তপু বর্মণদের। শক্তিশালী ওমানের কাছে আগের ম্যাচ ৪-১ গোলে হারায় তাদের স্বপ্নেও লাগাম টানতে হচ্ছে। টেনেটুনে বড়জোর ড্র পর্যন্ত উঠতে পারছেন তাঁরা। ‘কাতার ও আফগানিস্তানের সঙ্গে ওমানের ম্যাচ দুটি আমরা দেখেছি। তারা কিভাবে খেলে এবং তাদের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো আমাদের কাছে পরিষ্কার। ওসব নিয়ে ট্রেনিংয়ে বেশ কাজ হয়েছে। আমাদের কিভাবে খেলতে হবে, সেটা দেখিয়েছেন কোচ। শেষ ম্যাচে ১ পয়েন্ট নেওয়ার চেষ্টা থাকবে আমাদের’— বলেছেন বসুন্ধরা কিংসের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ।

শেষ দুই ম্যাচে ওমান কাতারের কাছে ১-০ গোলে হারার পর আফগানিস্তানকে হারিয়েছে ২-১ গোলে। সাত ম্যাচ খেলে তারা ১৫ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপে আছে দ্বিতীয় স্থানে। ২ পয়েন্ট পেয়ে তলানিতে থাকা বাংলাদেশের পক্ষে হুঙ্কার দেওয়া মানায় না। তা ছাড়া চোট আর কার্ড সাসপেনশনে জর্জরিত বাংলাদেশের সেরা একাদশ নামাতে পারবেন না কোচ। আরেকটা মজার তথ্য হলো, ১৯ মাস আগে ওমানের বিপক্ষে যে ম্যাচটি হেরেছিল সেই ম্যাচের মাত্র দুজন আছেন জেমির এই স্কোয়াডে। ইংলিশ কোচ এতে খুব সমস্যা দেখছেন না, ‘তাদের (ওমান) দলেও সাতজন নতুন ফুটবলার আছে। আমাদের যারা খেলবে তাদের বলেছি ম্যাচটি উপভোগ করতে। সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে লড়াই করে নতুন অভিজ্ঞতা নেওয়াই ভালো। আগের ম্যাচে বিরতির আগ পর্যন্ত আমরা ভালো লড়াই করেছিলাম, সেটাই তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে এই ম্যাচে।’ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ জয়ের সুপ্ত বাসনা ছিল। তাতে করে রক্ষণ এবং আক্রমণ কোনো কিছুই ঠিকঠাক হয়নি। এই ম্যাচে অন্তত তা নেই, পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়েই মাঠে নামছে জেমির দল। ৯০ মিনিট ঠেকিয়ে যেতে পারলে অন্তত পয়েন্ট পাওয়ার কঠিন স্বপ্ন বাস্তব হয়ে ফিরবে।

ফুটবলারদের সেরা এবং কোচের কৌশলের সম্মিলনে ফল যা-ই হোক, বাংলাদেশ ফুটবলের এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পথটা বেশ কঠিন। নতুন করে প্লে-অফ খেলে বাছাই পর্বে পা রাখতে হবে। কিন্তু প্লে-অফে পা হড়কালে আবার দীর্ঘকালের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে ছুটি হয়ে যাবে বাংলাদেশের। তার আগে জেমি ডে’র ভাগ্যও নির্ধারণ হয়ে যাবে। অনেক চাপ সঙ্গে নিয়েই বিশ্বকাপ বাছাইয়ের শেষ পরীক্ষা দিতে গেছেন বাংলাদেশের এই ইংলিশ কোচ।