kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

শুভ জন্মদিন

নিজ ভুবনের ‘রাজা’

১৪ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিজ ভুবনের ‘রাজা’

বাহারি স্ক্র্যাপবুক। নামটিও যথাযথ—‘অ্যাক্টিভিটিস অব গোলাম আম্বিয়া’। কী নেই সেখানে। সংবাদপত্রে তাঁকে নিয়ে লেখা প্রতিবেদন ও ছবির পেপার কাটিং জমিয়ে তৈরি করেছেন এই স্ক্র্যাপবুক। সেখানে আছে পছন্দের সতীর্থ অ্যাথলেট ফিরোজা, রাফেসা, রেহানা, মিলজার, আবদুর রহমান নঈম—এমন আরো অনেকের ছবি। এমনকি আছে কার্ল লুইস, লিনফোর্ড ক্রিস্টিদের পেপার কাটিংও! কারণ তাঁদের সঙ্গে খেলেছেন অলিম্পিক আর বিশ্ব অ্যাথলেটিকস চ্যাম্পিয়নশিপে।

আজ ৫৮তম জন্মদিনে স্মৃতিটা হাতড়ে গোলাম আম্বিয়া জানালেন, ‘ লুইস-ক্রিস্টিরা এত বড়, কিন্তু আমার সঙ্গে গেমসে গিয়ে বন্ধুত্ব হয়ে যায়। তাই ওদের ছবি স্ক্র্যাপবুকে রেখেছি। রাখব জন্মদিনের শুভেচ্ছার আপনাদের পত্রিকার লেখাটাও। এবারের জন্মদিনে এটাই আমার সেরা উপহার। গরিব কৃষকের ছেলে আমি। তেমন টাকা না থাকলেও জীবনটা কাটছে রাজার মতো!’

গোলাম আম্বিয়া ছিলেন ট্র্যাকের রাজা। ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ১২টি মিটেই ১০০ ও ২০০ মিটারে চ্যাম্পিয়ন তিনি। ১৯৯১ সালে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট শেষ করেছিলেন ১০.৪০ সেকেন্ডে। ২০১৯ সালে সেই রেকর্ড ভাঙেন মোহাম্মদ ইসমাইল। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর সোনা ৪১টি। সাফে জিতেছেন চারটি রুপা, একটি ব্রোঞ্জ। ১৯৯৩ সালে সেরা ছন্দে থাকার সময় জন্ডিস আক্রান্ত হয়ে চলে গিয়েছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। সুস্থ হওয়ার পর মাসল পুল করায় ’৯৩ সাফ গেমসটা হয়ে যায় হতাশার নাম।

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে এক কৃষক পরিবারে ১৯৬৩ সালের ১৪ জুন জন্ম গোলাম আম্বিয়ার। তাঁরা আট ভাই, পাঁচ বোন। এত ছেলে-মেয়েকে মানুষ করতে গিয়ে তাঁর বাবা একেবারে নিঃস্ব হয়ে যান। অভাবের তাড়নায় পড়ালেখা ছেড়ে আম্বিয়া ১৯৮৩ সালে ২৪০ টাকা বেতনে যোগ দেন সেনাবাহিনীতে। ১৯৮৯ সালে আন্তঃ সেনাবাহিনী প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ এশিয়ার দ্রুততম মানব শাহ আলমের পেছনে থেকে ১০০ ও ২০০ মিটারে রানার্স আপ হয়ে আলোচনায় আসেন আম্বিয়া। এরপর শুধুই এগিয়ে যাওয়ার গল্প।

২০০০ সালে অবসর নেওয়ার পর গোলাম আম্বিয়া ১০ বছর ছিলেন সেনাবাহিনীর অ্যাথলেটিকস দলের প্রধান কোচ। সেই দায়িত্ব ছেড়ে এখন মোহনগঞ্জে কাটাচ্ছেন জীবনের বাকি সময়টা। তিন একর জায়গার ওপর করেছেন একটি কৃষি প্রজেক্ট। আম, লিচু, নারকেল, লেবুগাছের পাশাপাশি সেখানে তিনটি পুকুরে করেন মাছ চাষও। বড় মেয়ে আফসানা মিমি জয়া পড়াশোনা করছেন মেডিক্যাল তৃতীয় বর্ষে। মেজ ছেলে শাওন সাকিব গ্রিন ইউনিভার্সিটির আইনের ছাত্র। আর ছোট ছেলে আবদুল্লাহ আল সাইফ এসএসসি পরীক্ষার্থী। স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নিজ ভুবনে ‘রাজা’ হয়েই আছেন আম্বিয়া।