kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

বড় শাস্তিও হতে পারত সাকিবের

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচে ক্ষোভ থেকে দুইবার স্টাম্প ভাঙার দায়ে শাস্তি হয়েছে সাকিব আল হাসানের। তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি পাঁচ লাখ টাকা জরিমানাও করা হয়েছে মোহামেডান অধিনায়ককে। তবে শুক্রবারের ম্যাচে বারবার মেজাজ হারানো সাকিবের শাস্তির মাত্রা আরো বেশি হতে পারত, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অন্দরমহলে তেমন আলোচনাই হয়েছে দিনভর।

গতকাল সন্ধ্যায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের বাসভবনের গ্যারেজে দাঁড়িয়ে সাকিবের ওপর আরোপিত দণ্ড ঘোষণার সময় ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান কাজী ইনাম দুটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। একবার লাথি মেরে আরেকবার স্টাম্প উপড়ে আছাড় মারার ঘটনা। কিন্তু একই ম্যাচে সাকিবের আরেকটি ঘটনা বেমালুম উপেক্ষিত থেকে গেছে। সেটি হলো, বৃষ্টিতে ম্যাচ স্থগিতের পর ভিআইপি গ্যালারিতে উপস্থিত গুটিকয় আবাহনী সমর্থকের উদ্দেশে সাকিবের গালাগাল। যদিও করোনাকালে গ্যালারিতে সমর্থক ঢোকার অনুমতি কবে কিভাবে নিয়েছে বিসিবি, সেটি কারোর জানা নেই!

সাকিবের সাজা হয়েছে লেভেল থ্রি মাত্রার। এতে সর্বোচ্চ দুই থেকে পাঁচ ও অন্যূন ২৫ হাজার টাকা জরিমানার কথা আচরণবিধিতে উল্লেখ আছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ দুটির ভারসাম্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে সাকিবের সাজা। কারণ আম্পায়াররা যে প্রতিবেদন দিয়েছেন, সেটিতে নাকি লেভেল ফোর অভিযোগে অভিযুক্ত হতেন মোহামেডান অধিনায়ক। তাতে অভিযুক্তকে এক বছর থেকে আরো বড় মেয়াদে নিষিদ্ধ করার বিধান রয়েছে।  

শুক্রবার সাকিবের ক্ষিপ্ত হওয়ার আগে থেকেই ক্রিকেটপাড়ায় খবর রটে যায়, ১৫ তারিখ আমেরিকায় পরিবারের কাছে চলে যাবেন সাকিব। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে এটি স্বীকার করেনি মোহামেডান কর্তৃপক্ষ। তবে তারাও ওয়াকিবহাল কোনো এক সময়ে ঢাকা ছাড়বেন সাকিব। শুক্রবার দুপুরের শেষভাগে সাকিব স্টাম্প ভাঙতেই সেই গুঞ্জন আরো জোরালো হয়। গতকাল মোহামেডান ক্লাবের একাধিক কর্মকর্তার কাছেও একই সংশয়ের কথা শোনা গেছে। অন্তত মোহামেডান সুপার লিগে না উঠলে যে সাকিবকে রাখা যাবে না, এটি তারা নিশ্চিত।

তবে এই সংশয়ের মাঝেও মোহামেডান এবং ঢাকার সিংহভাগ ক্লাব একটি সমস্যার সমাধান চায়। সেটি আম্পায়ারদের পক্ষপাত। সাকিব নিঃসন্দেহে ভুল করেছেন। ঘটনার পর রাতে হোটেলে ফিরে এ নিয়ে সতীর্থদের কাছে সাকিব নিজেও নাকি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। সে রাতে সাকিবের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলা এক ক্রিকেটার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ‘দ্বিতীয় ঘটনাটির (স্টাম্প আছড়ে ফেলা) কারণে তিনি খুবই লজ্জিত।’ প্রথমটি নিয়ে সাকিবের বিশেষ হেলদোল না থাকার কারণ ঢাকা লিগে আম্পায়ারিং নিয়ে ক্ষমতাবানদের ‘পাওয়ার প্লে’। অনেক দিন ধরেই এ সংক্রান্ত অভিযোগের তীর আবাহনী লিমিটেডের দিকে।

গতকাল এই ক্লাবটিরই এক কর্মকর্তা আক্ষেপ করে বলেছেন, ‘আমরা ইমেজ সংকটে ভুগছি। মানুষের মনে একটা ধারণা ঢুকে গেছে যে আবাহনী চ্যাম্পিয়ন হয় গায়ের জোরে! এই ধারণার দায় আমাদেরই নিতে হবে।’

সহকর্মীদের নাকি পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখার নির্দেশনা দিয়ে একটি কমিটিও গঠন করেছেন বোর্ড সভাপতি। সেই কমিটি কি এ বিষয়টিও তদন্ত করবে?



সাতদিনের সেরা