kalerkantho

বুধবার । ২০ শ্রাবণ ১৪২৮। ৪ আগস্ট ২০২১। ২৪ জিলহজ ১৪৪২

লাতিন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই

সৌন্দর্য আর বিতর্কের কোপা

১৩ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সৌন্দর্য আর বিতর্কের কোপা

১০৫ বছরের ইতিহাসে এমন উদ্ভট কিছু দেখেনি কোপা আমেরিকা। আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে স্বাগতিক ছিল শুরুতে। রাজনৈতিক অস্থিরতা আর করোনার প্রকোপে একেবারে শেষ বেলায় টুর্নামেন্ট সরে আসে ব্রাজিলে, যা ছিল ফুটন্ত কড়াই থেকে জ্বলন্ত উনুনে পড়ার মতো। করোনার এই মহামারিতে কোপার মতো বড় আয়োজন মানতে পারেননি খেলোয়াড়রাই। তাই কারা চ্যাম্পিয়ন হবে, আলোই বা ছড়াবেন কারা—এর চেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায় আদৌ কোপা হবে তো?

নানা নাটক, বিতর্ক আর বড় তিন পৃষ্ঠপোষকের সরে দাঁড়ানোর পর আদালতের রায়ে আজ দিবাগত রাত ৩টায় মাঠে গড়াচ্ছে লাতিন অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্বের টুর্নামেন্ট। ব্রাসিলিয়ার মানো গারিঞ্চা স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ব্রাজিলের মুখোমুখি ভেনিজুয়েলা। ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে এল আরেক দুঃসংবাদ—খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফের সদস্যসহ করোনা আক্রান্ত ভেনিজুয়েলার ১২জন। প্রথম দিন (বাংলাদেশ সময় আগামীকাল ভোর) অপর ম্যাচে কলম্বিয়া খেলবে ইকুয়েডরের বিপক্ষে।

দর্শকহীন মাঠে খেলা হবে ঠিকই, কিন্তু তাতে প্রাণের উচ্ছ্বাস থাকবে তো? দুই অতিথি কাতার ও অস্ট্রেলিয়া নাম প্রত্যাহার করায় সূচিটাও হয়ে গেছে পানসে। প্রতি গ্রুপের পাঁচ দলের চারটিই টিকিট পাবে কোয়ার্টার ফাইনালের! উত্তেজনার রেণু আর রোমাঞ্চের জন্য অপেক্ষা করতে হবে নকআউট পর্যন্ত।

১০টি দল খেললেও কোপা আমেরিকার আকর্ষণ শেষ পর্যন্ত দুটি দল ঘিরে। আশ্চর্য হচ্ছে, সেই দুই দল ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার কেউই টুর্নামেন্টের ইতিহাসের সফলতম নয়! ব্রাজিল গতবার নবম শিরোপা জিতেছে ১২ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে। আর আর্জেন্টিনা তো ২৮ বছর শিরোপাহীন। লিওনেল মেসি, সের্হিয়ো আগুয়েরো, আনহেল দি মারিয়ারা পারবেন তো কোপায় নিজেদের সম্ভাব্য শেষ আসরটা রাঙাতে?

এমনিতে বিশ্ব ফুটবলে লাতিন অঞ্চলের সূর্যাস্ত হয়েছে অনেক আগে। ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছে সেই ২০০২ সালে। আর্জেন্টিনা এরও আগে ১৯৮৬ সালে। সূর্যোদয়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবার বিশ্বকাপ শুরু করে দল দুটি, হতাশও হয় প্রতিবার। জার্মানি, ইতালি, স্পেন বা ফ্রান্সের মতো দলগুলো শেষ হাসি হাসে বারবার। এবার ইউরোপ সেরার টুর্নামেন্ট ইউরোর সঙ্গেই টক্কর দিতে হচ্ছে কোপাকে। মর্যাদার দুটি টুর্নামেন্টই শুরু প্রায় একই সময়ে। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, কিলিয়ান এমবাপ্পে, রবার্ত লেভানদোস্কিদের সঙ্গে তাই শিল্প আর সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে অন্য রকম লড়াই লিওনেল মেসি, নেইমার, লুই সুয়ারেসদের।

ইতিহাস বলছে, স্বাগতিক হলেই শিরোপা জেতে ব্রাজিল! স্বাগতিক হয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে আগের পাঁচবার। এবারও বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে টানা ছয় জয়ে অন্যতম ফেভারিট তিতের দল। নেইমার, গ্যাব্রিয়েল জেসুসদের পাশাপাশি ‘গ্যাবিগোল’ খ্যাত গ্যাব্রিয়েল বারবাসোর ওপর বাড়তি আলো কোপায়। ২০১৯ সালে তাঁর শেষ সময়ের দুই গোলে কোপা লিবার্তাদোরেসের শিরোপা জিতেছিল ফ্লামেঙ্গো। বার্সেলোনায় যোগ দেওয়া রাইটব্যাক এমারসন রয়ালও হয়ে উঠতে পারেন নতুন তারকা।

২০১৯ সালে কোপার সেমিফাইনালে হারের পর থেকে অপরাজিত আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসি, সের্হিয়ো আগুয়েরোদের সঙ্গে লাউতারো মার্তিনেজ আর আতালান্তার ডিফেন্ডার ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর দ্যুতিতে কোপা আলোকিত করতে পারে ১৪ বারের চ্যাম্পিয়নরাও। উরুগুয়ের লুই সুয়ারেস অপেক্ষায় ‘শেষ কামড়ের’। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা এদিনসন কাভানি, মাঝমাঠে ফাকুন্দো তরেসরা থাকায় হেলাফেলার দল নয় উরুগুয়ে।

হামেস রদ্রিগুয়েসকে না পাওয়াটা ভোগাবে কলম্বিয়াকে। অ্যালেক্সিস সানচেস ও আর্তুরো ভিদালদের ওপর নির্ভরতা না কমানো পিছিয়ে রাখছে ২০১৫ ও ২০১৬ সালের চ্যাম্পিয়ন চিলিকে। এ জন্যই বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে ছয় ম্যাচে মাত্র একটি জয় তাদের। এবারও তাই লাতিন অঞ্চলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ফেভারিট ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। অসন্তুষ্টি নিয়ে খেলা ব্রাজিল পারবে তো শিরোপা ধরে রাখতে? নাকি লিওনেল মেসি বিদায়ের আগে নিজের করে নেবেন এবারের কোপা?  এএফপি



সাতদিনের সেরা