kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

শীর্ষে প্রাইম ব্যাংক

সাকিবকাণ্ডের পর মোহামেডানের জয়

দিনের বাকি চারটি ম্যাচেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ লাগেনি, শুরুর সঙ্গে তাল মিলিয়েই শেষ হয়েছে। মিরপুরে সকালের ম্যাচে যেমন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ১০১ রানে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে প্রাইম ব্যাংক। নিজ নিজ খেলায় জিতেছে গাজী গ্রুপ, খেলাঘর ও শাইনপুকুর।

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সাকিবকাণ্ডের পর মোহামেডানের জয়

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পুরনো জমিদারির অহমিকাটাও সম্ভবত নিভতে বসেছে। নেভার আগে আবাহনী-মোহামেডান দ্বৈরথ শেষবার দপ করে জ্বলে ওঠার নিদর্শনই যেন সাকিব আল হাসানের অভব্য আচরণ। মাঠের ক্রিকেটে সেই সর্বস্বান্ত জমিদারের দীর্ঘশ্বাস—এই ক্রিকেট দেখার জন্য এমন পড়িমরি ছোটা! তার চেয়ে বহুগুণ উত্তেজক ক্রিকেট হয়েছে বিকেএসপিতে, জিয়াউর রহমানের বীরত্বে হারতে বসা ম্যাচের শেষ ওভারে প্রাইম দোলেশ্বরকে হারিয়েছে শেখ জামাল ধানমণ্ডি। অবশ্য দিনের বাকি চারটি ম্যাচেও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আঁচ লাগেনি, শুরুর সঙ্গে তাল মিলিয়েই শেষ হয়েছে। মিরপুরে সকালের ম্যাচে যেমন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ১০১ রানে হারিয়ে শীর্ষে উঠেছে প্রাইম ব্যাংক। নিজ নিজ খেলায় জিতেছে গাজী গ্রুপ, খেলাঘর ও শাইনপুকুর।

মোহামেডানের চেয়ে সাকিবের ভক্ত এখন দেশে অনেক বেশি। তাই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির দুর্দশার চেয়ে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সাফল্যেই নজর বেশি। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরার পর প্রত্যাশিত ব্যাটসম্যান সাকিবকে খুঁজছে জনতা। বোলিংটাও কি বেসুরো? এর মধ্যে আবাহনী অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের বিরুদ্ধে সাকিবের ওরকম আবেদন সঙ্গে সঙ্গে নাকচ করে দিলেন আম্পায়ার ইমরান পারভেজ! সাকিব ফুঁসলেন, লাথি মেরে স্টাম্প ভেঙে দিলেন। এবং ইউটিউবে লাইভ খেলার কমেন্ট বক্সে অভাবিত কমেন্টের উন্মাতাল ঢেউ আছড়ে পড়েছে—সাকিব ঠিকই করেছেন। আম্পায়ারকে তো মারা উচিত ছিল!

ভাগ্য ভালো এরপর আর খেলা বেশি দূর গড়ায়নি। পরের ওভারে আম্পায়ার স্টাম্প আছড়ে ফেলেন সাকিব। সেইসঙ্গে বৃষ্টিতে আবাহনী ইনিংসের অনেকটা ধুয়ে যাওয়ার সময়ই জিতে বসে ছিল মোহামেডান। বৃষ্টি আইনে মুশফিকদের জন্য টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয় ৯ ওভারে ৭৬ রান। আগেই ৩ উইকেটে ৩১ রান তোলা আবাহনীকে শেষার্ধে করতে হতো ১৯ বলে ৪৫ রান। কিন্তু তাসকিন আহমেদের দুর্দান্ত ইয়র্কারে স্টাম্প উপড়ে গেছে নাজমুল হোসেনের। এরপর আরো দুটি উইকেট হারিয়ে আবাহনী থেমেছে ৪৪ রানে। তার আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা মোহামেডান ইনিংসের একমাত্র ইতিবাচক দিক রানের জন্য সাকিবের মরিয়া চেষ্টা। মেরে সেট হওয়ার অভ্যাস ফেলে আবাহনীর বিপক্ষে রয়েসয়ে শুরুর পর ২৭ বলে ৩৭ রান করেছেন সাকিব। অবশ্য প্রথম ওভারেই আবাহনীর দুই ওপেনারকে যদি শুভাগত হোম ফেরাতে না পারতেন, তবে মিরপুরের অপেক্ষাকৃত ভালো উইকেটে ৬ উইকেটে করা ১৪৫ রান সামলানো কঠিন হতে পারত মোহামেডানের জন্য।

বিকেএসপিতে দুই তরুণ ইমরানুজ্জামান (৪৬ বলে ৬৫) ও শামীম হোসেনের (১৯ বলে ৪৯) দুর্ধর্ষ ব্যাটিংয়ে ৫ উইকেটে ১৬৬ রান তুলেছিল প্রাইম দোলেশ্বর। কিন্তু পাঁচ ছক্কায় জিয়াউর রহমানের ফিফটির পর শেষ বলে ম্যাচ জিতেছে শেখ জামাল।

শেখ মেহেদীর (২১ বলে ৪৭) ঝড়ে উড়ে গাজী গ্রুপ থামে ৬ উইকেটে ১৭৩ রানে। বৃষ্টি আইনে ব্রাদার্সের জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ১১.২ ওভারে ১০৫ রান। তবে ৫ উইকেটে ৮৫ রানের বেশি তুলতে পারেনি তারা। ৮ উইকেটে ১০৮ রান তোলা পারটেক্সকে বৃষ্টি আইনে ১৫ রানে হারিয়েছে খেলাঘর।

রনি তালুকদার ও এনামুল হকের ফিফটিতে প্রাইম ব্যাংকের ৫ উইকেটে তোলা ১৬৯ রানের জবাবে ৬৮ রানেই গুটিয়ে গেছে রূপগঞ্জ। আর রেলিগেশন জোনের আশপাশে ঘুরঘুর করতে থাকা শাইনপুকুর-ওল্ড ডিওএইচএস ম্যাচটি জিতেছে প্রথম দলটি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

গাজী গ্রুপ-ব্রাদার্স

গাজী গ্রুপ : ২০ ওভারে ১৭৩/৬ (মেহেদী ৪৭, ইয়াসির ৪৭; আলাউদ্দিন ৪/২৫)। ব্রাদার্স : ১১.২ ওভারে ৮৫/৫ (সুজন ২৬, নুরুজ্জামান ২২; নাসুম ৩/১৬)। ফল : গাজী গ্রুপ ১৫ রানে জয়ী (ডি/এল)। ম্যাচসেরা : মেহেদী হাসান।

আবাহনী-মোহামেডান

মোহামেডান : ২০ ওভারে ১৪৫/৬ (সাকিব ৩৭, মাহমুদুল ৩০*; স্বাধীন ৩/২৪)। আবাহনী : ৯ ওভারে ৪৪/৬ (মুশফিকুর ১৮*, নাজমুল ১৫; শুভাগত ৩/১৭)। ফল : মোহামেডান ৩১ রানে জয়ী (ডি/এল)। ম্যাচসেরা : শুভাগত হোম।

পারটেক্স-খেলাঘর

পারটেক্স : ২০ ওভারে ১০৬/৮ (রাজিবুল ২৮*, তাসামুল ১৮; ইফরান ৩/২৩)। খেলাঘর : ৭ ওভারে ৫০/২ (ইমতিয়াজ ২৭, মিরাজ ১২*; নিহাদুজ্জামান ১/১০)। ফল : খেলাঘর ১৫ রানে জয়ী (ডি/এল)। ম্যাচসেরা : মেহেদী হাসান মিরাজ।

প্রাইম ব্যাংক-লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ

প্রাইম ব্যাংক : ২০ ওভারে ১৬৯/৫ (এনামুল ৫৮*, রনি ৫৩; মুক্তার ৩/২৮)। রূপগঞ্জ : ১৮ ওভারে ৬৮/১০ (জাকের ১৬, আজমির ১২; নাহিদুল ৩/১৫)। ফল : প্রাইম ব্যাংক ১০১ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা : নাহিদুল ইসলাম।

প্রাইম দোলেশ্বর-শেখ জামাল

প্রাইম দোলেশ্বর : ২০ ওভারে ১৬৬/৫ (ইমরান ৬৫, শামীম ৪৯*; সানি ২/২৫)। শেখ জামাল : ২০ ওভারে ১৬৭/৭ (জিয়াউর ৫৩, তানবির ৪৫*; কামরুল ৪/২৪)। ফল : শেখ জামাল ৩ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : জিয়াউর রহমান।

ওল্ড ডিওএইচএস-শাইনপুকুর

ওল্ড ডিওএইচএস : ২০ ওভারে ১১৯/৬ ( রাকিব ৫৬*, মাহমুদুল ২১; সুমন ২/২৪)। শাইনপুকুর : ১৯.১ ওভারে ১২০/৩ (তানজিদ ৭৯*, তৌহিদ ২৮ ; আসাদুজ্জামান ২/১৮)। ফল : শাইনপুকুর ৭ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা : তানজিদ হাসান।



সাতদিনের সেরা