kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

শুভ জন্মদিন

ছাত্ররাই মনে করিয়ে দেয় জন্মদিনের কথা

২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাত্ররাই মনে করিয়ে দেয় জন্মদিনের কথা

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করতে চায় তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ সাবেক মিস্টার বাংলাদেশ আবুল কালাম আজাদ-এর গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

ফুটবলে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা তারকা সালাম মুর্শেদী। তাঁর বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ  শরীরগঠন ও ভারোত্তোলনের কিংবদন্তি। ১৯৭৪ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ হয়েছেন ২৫ বার। ভারোত্তোলনে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ১৫ বার। সেই আবুল কালাম আজাদ একেবারে সাদাসিধে জীবন যাপন করছেন খুলনার নৈহাটির নিভৃত পল্লীতে। জাতীয় ভারোত্তোলন ফেডারেশন দূরে থাক, খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার অনেকে নাম পর্যন্ত জানেন না তাঁর!

নিজের বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন ‘আজাদ বডিবিল্ডিং অ্যান্ড ওয়েটলিফটিং ক্লাব’। ৫০-৬০ জন ছেলেমেয়েকে প্রশিক্ষণ দেন বিনে পয়সায়। সর্বশেষ জাতীয় ভারোত্তোলনে ১০ সোনার চারটি জিতেছে তাঁর একাডেমির ছাত্ররা। গতকাল ৬৫ বছরে পা রাখা আবুল কালাম আজাদ বাকি জীবনটা কাটাতে চান এই ছাত্রদের নিয়ে, ‘নিভৃত পল্লীতে ভালোই আছি আমি। এলাকার সবাই সম্মান করে। ছেলে-মেয়েরা শিখতে আসে। ওদের বড় খেলোয়াড় হওয়ার ভিতটা গড়ে দিই। জন্মদিনটা ওরাই স্মরণ করিয়ে দেয় নানা উপহার নিয়ে এসে।’ সালাম মুর্শেদী সংসদ সদস্য হলেও রাজনীতি থেকে দূরে আবুল কালাম আজাদ। একটা সময় গড়েছিলেন গরু ও মুরগির খামার। লোকসানের কারণে সেগুলো বন্ধ করে দিয়ে এখন মাছ চাষ করছেন। এমবিএ শেষ করা একমাত্র ছেলেকে অবশ্য রেখেছেন সালাম মুর্শেদীর কাছেই।

এমন সাধারণ জীবন যাপনের মন্ত্রটা আবুল কালাম আজাদ শিখেছেন বক্সিং কিংবদন্তি মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে। ১৯৭৮ সালে আলীর বাংলাদেশ সফরের সময় মিস্টার বাংলাদেশ হিসেবে দেখা করেছিলেন তিনি। প্রথম দেখাতেই কাঁধে হাত রেখে বাহবা দেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই খেলোয়াড়। সেদিনের স্মৃতি আগলে বললেন, ‘মানুষ যত বড় হবে, তত বেশি পা মাটিতে রেখে চলতে হবে—আলীকে প্রথম দেখে এটাই শিখেছিলাম আমি।’

বাংলাদেশের সেরা এই বডিবিল্ডার ১৯৭৭ সালে হতে পারতেন মিস্টার এশিয়া। কিন্তু কর্মকর্তাদের কাণ্ডজ্ঞানহীনতায় সেটা হয়নি। সেবার ১৩তম মিস্টার এশিয়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে কলকাতায় খেলোয়াড়দের পাঠানো হয়েছিল বাস ও ট্রেনে। আর কর্মকর্তারা যান বিমানে! টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র এক ঘণ্টা আগে পৌঁছান বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। পৌঁছেই ডাক্তারি পরীক্ষা করানোরও সময় পাননি। এর পরও হয়ে যান মিস্টার এশিয়া। কিন্তু মেডিক্যাল টেস্ট না হওয়ায় ইরান, চীন আর দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তারা জানান অভিযোগ। তাতে হাতছাড়া হয়ে যায় পদক। তোলপাড় হয় বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গন। দেশে ফেরার পর তখনকার স্পোর্টস কন্ট্রোল বোর্ডের চেয়ারম্যান জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাতিল করেছিলেন পুরো ফেডারেশনের কমিটি।

কর্তাদের শিক্ষা হয়নি এর পরও। ১৯৭৯ সালে ফিলিপাইনে শরীরের ওজন কমিয়ে লাইট ওয়েটে অংশ নেন আবুল কালাম আজাদ। কিন্তু টুর্নামেন্টের আগে যে ওজন কমানো যায় না, জানা ছিল না বাংলাদেশি কর্তাদের। পদক পাওয়া হয়নি তাই। এই ক্ষোভ আর কষ্ট নিয়েই নিভৃত পল্লীতে জীবনের শেষ সময়টা পার করছেন মিস্টার বাংলাদেশ। একটাই সান্ত্বনা, জীবিত থাকতে ২০০৬ সালে পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার।



সাতদিনের সেরা