kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

শেখ রাসেল আবার সেরা চেহারায় ফিরবে

৩০ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শেখ রাসেল আবার সেরা চেহারায় ফিরবে

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেডের সাধারণ নির্বাচনে কাল ভোট দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন ক্লাবের চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। নির্বাচনে শতভাগ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে আবার সেরা চেহারায় ফেরাতে চান ক্লাবটির চেয়ারম্যান ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীর। ২০১২-১৩ মৌসুমে ক্লাবটি ঘরোয়া ফুটবলে ট্রেবল জেতে। আবারও সেই শ্রেষ্ঠত্ব ফিরবে বলে কাল ক্লাবের সাধারণ নির্বাচনে ভোট দিতে এসে জানিয়েছেন সায়েম সোবহান আনভীর, ‘মাঠের ফুটবলে জয়-পরাজয় আছে। একবার এই দল জিতবে তো আবার অন্য দল। তবে অবশ্যই আমরা শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রকে আবার সেরা চেহারায় দেখতে চাই।’

২০২১-২৪ মেয়াদের সাধারণ নির্বাচনে বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শতভাগ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন। অর্থাৎ ৮৪ ভোটের ৮৪টিই পেয়েছেন তিনি। ৬০ জন প্রার্থীর মধ্যে থেকে মোট ৩০ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন এদিন। তাঁদের মধ্যে কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন ও বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজামও শতভাগ ভোট পেয়েছেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৩ ভোট পেয়েছেন লিয়াকত আলী খান। নির্বাচিত পরিচালকরাই পরবর্তী সভায় নিজেদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান, একজন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান, দুজন ভাইস চেয়ারম্যান, ডিরেক্টর ইন চার্জ, পরিচালক (ক্রীড়া) ও পরিচালক (অর্থ) নির্বাচিত করবেন। সায়েম সোবহান আনভীর জানিয়েছেন, ক্লাব সদস্য এবং এই পরিচালকরা মিলেই সর্বসম্মতভাবে ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়ার নতুন কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবেন। মূলত ফুটবলের ক্লাব শেখ রাসেল। তবে এর আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল ক্লাবটি ক্রিকেটেও দল গড়বে। কাল সায়েম সোবহান আনভীর জানিয়েছেন, ‘সেই প্রতিশ্রুতিতে আমরা অটল আছি। ক্রিকেট দল করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই করোনা মহামারিতে আমরা কোনো কাজই এগিয়ে নিতে পারিনি। তবে অবশ্যই ক্রিকেট দল হবে।’

ফুটবল নিয়ে তাঁর নিজস্ব ভাবনা আছে। শুধু শেখ রাসেলকে সেরা করে তোলাই নয়, দেশের ফুটবলকেও দারুণ জায়গায় নিয়ে যাওয়া তাঁর স্বপ্ন বলে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের এক নম্বর খেলা হলো ফুটবল। কিন্তু বাংলাদেশ ফুটবলে পিছিয়ে আছে। তবে আস্তে আস্তে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে যেমন একটা জোয়ার এসেছে, সেটা ফুটবলেও আসবে। ধাপে ধাপে সবই হবে।’

করোনার কারণে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের একাডেমি, মাঠ করার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। সেগুলো হবে বলে তিনি আশার কথা জানিয়েছেন। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সের উদাহরণ টেনে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্য বড় বড় গ্রুপগুলোকেও ফুটবল উন্নয়নে এগিয়ে আসার জন্য, ‘বিশ্বের এক নম্বর খেলা হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ফুটবলটা কেন জানি অবহেলিত। ফুটবলের অনেক বিষয়ে উন্নয়নের সুযোগ আছে। বসুন্ধরা গ্রুপের পক্ষ থেকে আমরা একটা স্পোর্টস কমপ্লেক্স করেছি। বাংলাদেশে এ রকম আরো অনেক বড় গ্রুপ আছে, তাদেরও উচিত ফুটবল একাডেমি গড়ে ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ গ্রহণ করা।’

আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় কাল শেখ রাসেল ক্লাবের নির্বাচনও একটি মাইলফলক। বাংলাদেশে ফেডারেশনগুলোতেই যেখানে নির্বাচনের সংস্কৃতি প্রায় উঠে গেছে, সেখানে ক্লাব পর্যায়ে শেখ রাসেল উপহার দিয়েছে সুষ্ঠু, জমজমাট এক নির্বাচন। তাতে সায়েম সোবহান আনভীর, নঈম নিজাম, ইমদাদুল হক মিলন, লিয়াকত আলী খানের সঙ্গে নির্বাচিত অন্য পরিচালকরা হলেন মাকসুদুর রহমান, শাহীন আহমেদ, মোহাম্মদ ফুল মিয়া, হাবিবুর রহমান খান, বি এম জাহেদুল হক (মিঠু), আলিমুজ্জামান আলম, আল-মারুফ এনায়েত হোসেন, হেদায়েত উল্লাহ, আসাদুর রহমান খান, এস এম জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ গোলাম, ক্যাপ্টেন নাজমুল হক, রফিকুল আলম, মীর মোহাম্মদ শাহাবউদ্দিন টিপু, তরিকুল ইসলাম চৌধুরী, ইঞ্জিনিয়ার লক্ষ্মণ কুমার দে, ইসমত জামিল আকন্দ, মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, এস এম হাসান জামান, মোহাম্মদ আবু বকর, সালেহ জামান সেলিম, হামিদুল হক, আবুল কাশেম, খলিলুর রহমান, বেলায়েত হোসেন বেপারী ও আসাদুজ্জামান এসিএস।