kalerkantho

বুধবার । ১১ কার্তিক ১৪২৮। ২৭ অক্টোবর ২০২১। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

কাতারে ভাগ্য নির্ধারিত হবে জেমির!

২১ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : কয়েক দিন পরই বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলতে জেমি ডে দল নিয়ে যাচ্ছেন কাতারে। রওনা হওয়ার আগেই অবশ্য বুঝতে পারছেন, চাকরিটি তাঁর সুতায় ঝুলছে।

সে রকমই আওয়াজ শোনা যাচ্ছে ফুটবলের অন্দরমহল থেকে। নীতিনির্ধারকরা প্রথমবারের মতো দেশের ফুটবলের সামগ্রিক অবস্থা জানতে প্রিমিয়ার লিগের কোচ-ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তাঁদের আলোচনা শুনছেন বাফুফে সভাপতি। সার্বিক ফুটবল আলোচনার বড় একটি বিষয় জাতীয় দলের পারফরম্যান্স। কোচের পারফরম্যান্স ও তাঁর দল নির্বাচন। এ নিয়েও লিগের কোচ-ম্যানেজারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। সবাই নিজের মতো করে মতামত দিয়েছেন।

শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাবের কোচ শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘বাংলাদেশ দলে আমার খেলোয়াড় সুযোগ পেল কি পেল না, এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই। এটি কারো থাকাও উচিত নয়। কারণ কোচ দলের জন্য যাকে ভালো মনে করেছেন, তাকেই নিয়েছেন। জেমি পেশাদার কোচ এবং জাতীয় দলের পারফরম্যান্স তাঁর জন্য খুব জরুরি। তাঁর সহকারী কোচ আছেন, ফিজিও আছেন, গোলরক্ষক কোচ আছেন। সঠিক খেলোয়াড় বাছাই করার জন্য তাঁরাই যথেষ্ট। এখানে কারো হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।’ কিন্তু বাফুফে জাতীয় দল নির্বাচনে কোচকে প্রভাবিত করছেন কেউ। তাই বাফুফের সিরিজ মিটিংয়ে দু-একজন কোচের কাছে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল দুটি খেলোয়াড় তালিকা। কোনটি তাঁদের কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে, সেটি জানতে চাওয়া হয়েছিল।

সাইফ স্পোর্টিংয়ের বেলজিয়ান কোচ পুট মনে করেন, জাতীয় দলের পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে বড় বাধা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের শারীরিক সামর্থ্য। কারো কারো কাছে মনে হয়েছে, অতিরিক্ত বিদেশি খেলানোর কারণে দেশি ফুটবলারদের মান নামছে নিচের দিকে। মোহামেডানের ম্যানেজার সাবেক ফুটবলার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব বলেছেন, ‘সালাউদ্দিন ভাই জানতে চেয়েছিলেন জাতীয় দলের অবস্থা সম্পর্কে। জাতীয় দলের ফুটবলার বাছাই ঠিক আছে কি না, জিজ্ঞাসা করেছিলেন। আমি মনে করি, বর্তমান দলে চাইলে দু-এক জায়গায় পরিবর্তন করা যায়, নইলে দল ঠিকই আছে। আমাদের ঘরোয়া লিগে বিদেশিদেরই আধিপত্য থাকে, বলার মতো পারফরম্যান্সও থাকে তাদের। কোচ যে দল বাছাই করেছেন মোটামুটি ঠিকই আছে। তবে জামাল ভূঁইয়া তার পজিশনে সেরা ফর্মে নেই। লিগের ফিরতি পর্বে এ জন্য তার দল সাইফ স্পোর্টিংও ভুগেছে।’

এ ছাড়া নেপালে গত মার্চে তিন জাতি ফুটবলে বাংলাদেশের ব্যর্থতার প্রসঙ্গটিও আলোচিত হয়েছে। এ ব্যাপারে নকীবের স্পষ্ট মতামত, ‘ফাইনালে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত হয়নি কোচের। সোহেলের মতো দু-একজন খেলোয়াড়কে বাইরে রেখে একাদশ না সাজালেও পারতেন। যদিও কোচ নেপালে যাওয়ার সময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা বলেননি, খেলোয়াড় পরীক্ষার কথা বলে গিয়েছিলেন।’

কিন্তু কোচের পারফরম্যান্সের এই ময়নাতদন্ত টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর করলেই ভালো হতো মনে করেন অনেকে। আগামী ৩ জুন থেকে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের খেলা। ঠিক তার আগে এই কর্মকাণ্ড কি জেমিকে চাপে ফেলবে না? জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদের উত্তর, ‘চাপ হতেও পারে কোচের জন্য। কিন্তু চাপ নিয়েই তাঁকে পারফরম করতে হবে। তাঁর পারফরম্যান্সই বলে দেবে তিনি থাকছেন কি থাকছেন না।’ ইঙ্গিতটা পরিষ্কার, কাতারে অগ্নিপরীক্ষাই হবে জেমির। তাঁর দুই বছর মেয়াদের এক বছর ফুরালেও দোহায় তিন ম্যাচের ওপর নির্ভর করছে চুক্তির বাকি এক বছর। মাত্র একটি জয়ই পারে ব্রিটিশ কোচের ভাগ্য ফেরাতে।



সাতদিনের সেরা