kalerkantho

মঙ্গলবার । ৮ আষাঢ় ১৪২৮। ২২ জুন ২০২১। ১০ জিলকদ ১৪৪২

হকি মাঠেই শেষবিদায় বারীর

১৯ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হকি মাঠেই শেষবিদায় বারীর

শামসুল বারী (জন্ম : ১৯৪৬-মৃত্যু : ২০২১)

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হকি মাঠ ছেড়ে থাকাটা তাঁর জন্য ভীষণ কঠিন ছিল। কারণ তাঁর কর্মময় জীবনের পুরোটা জুড়েই যে ছিল হকি। তবু বয়স, অসুস্থতার বিপরীতমুখী টানে গত কয়েক বছর একরকম ঘরবন্দিই ছিলেন। শেষ কয়টা দিন হাসপাতালে। করোনা আক্রান্ত হয়ে মুক্তও হয়েছিলেন, কিন্তু ৭৪ বছরের শরীর সে ধকল আর সামলাতে পারেননি। ফিরতে পারেননি বাসায়। কাল সেই শামসুল বারী শেষবার বিদায় নিলেন তাঁর প্রিয় হকি মাঠে।

আবাহনীর হয়ে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, খেলেছেন পূর্ব পাকিস্তান দলে। খেলায় থাকতে থাকতেই সংগঠক হয়েছেন। ২৫ বছরের সাংগঠনিক জীবন, যার মধ্যে টানা ১৯ বছরই ছিলেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক—হকি থেকে বারীকে তাই বিচ্ছিন্ন করা যায় কী করে! অমোঘ মৃত্যুই কেবল পেরেছে তা। বারীর সঙ্গে আবাহনীতে খেলা, ১৯৭০—সর্বজয়ী পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দেওয়া ম্যাচটিতে একসঙ্গে মাঠে নামা আব্দুস সাদেকের বন্ধু হারানোর ব্যথা পুরো হকি অঙ্গনের কথাই যেন বলেছে, ‘আবাহনীতে খেলেছি তো অনেক পরে, বারী আমার ছোটবেলার খেলার সাথি। একসঙ্গে বেড়ে উঠেছি আরমানিটোলায়। পারিবারিকভাবেই ওর সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। ও নেই, ভাবতেই পারছি না। একে একে আপন মানুষগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। হকিতে এমন সজ্জন আর কাউকে পাব না।’ সাদেকের শেষ কথাটি নিশ্চিত অনুরণিত হবে সবার মাঝে। কথায়, কর্মে, আচরণে এমন একটা সম্মোহনী শক্তি ছিল যে সবাই তাঁকে আপন ভাবতেন। শামসুল বারী হকি ফেডারেশনের দীর্ঘদিনের কর্তাব্যক্তি হয়েছিলেন তো সেই গুণেই।

মোহামেডান, মাহুতটুলি, আবাহনী, আবার মাহুতটুলি হয়ে মোহামেডানেই খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করেছেন বারী। আশির দশকের শুরু থেকেই সাংগঠনিকভাবে জড়িয়ে যান ফেডারেশনের সঙ্গে। প্রথমে সদস্য, পরে যুগ্ম সম্পাদক, ১৯৮৮ সালে প্রথম সাধারণ সম্পাদক, সেই থেকে টানা ২০০৭ পর্যন্ত। হকিতে আশির দশক মানেই, ’৮৫-র এশিয়া কাপ। সারা দেশে খেলাটার জাগরণ। আর নব্বইয়ের দশক ঘরোয়া হকির জমজমাট সময়। সেই সময়েরই সফল সংগঠক বারী। হকি মাঠে তাঁর স্মৃতি জুড়ে থাকবে তাই সব সময়।