kalerkantho

সোমবার । ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৪ জুন ২০২১। ২ জিলকদ ১৪৪২

বিশ্বকাপ বাছাই

পয়েন্টের আশায় জামাল ভুঁইয়া

১৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পয়েন্টের আশায় জামাল ভুঁইয়া

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঈদের আগে ফুটবল ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হয়েও হয়নি। সেটি শুরু হচ্ছে আজ সকালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে। জুনে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের শেষ তিন ম্যাচ খেলার প্রস্তুতিটা ‘খুব ভালোভাবে’ সারতে চান অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া।

গত ১০ মে ক্যাম্প শুরুর উদ্যোগ নিয়েও পারেনি ফুটবল ফেডারেশন। বসুন্ধরা কিংস ছাড়েনি তাদের ফুটবলারদের, একেবারে শেষ মুহূর্তে এএফসি কাপ স্থগিত হওয়ায় তারা ভেঙে পড়েছিলেন মানসিকভাবে। অবশেষে ঈদ কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন  দলের ৯ জন যোগ দেওয়ায় পূর্ণাঙ্গ হয়েছে জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্প। ডাক পাওয়াদের মধ্যে কিংসের চোটগ্রস্ত ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ বাদে বাকি ৩২ জন গতকাল রিপোর্ট করেছেন জাতীয় দলের ম্যানেজার ইকবাল হোসেনের কাছে। জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে’র কোয়ারেন্টিনও শেষ হচ্ছে আজ। তাই আজ থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ বাছাই ও এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের শেষ তিন গ্রুপ ম্যাচের প্রস্তুতি পর্ব। ঢাকায় কয়েক দিন ট্রেনিং করার পর তারা চলে যাবে ম্যাচ ভেন্যু কাতারে, ওখানে প্র্যাকটিস হবে আরো সপ্তাহখানেক।

ম্যাচের আগে সব সময় ব্যাপক আয়োজন থাকে বাংলাদেশের। ম্যাচ শেষে দেখা যায়, প্রস্তুতি আর প্রাপ্তির মধ্যে বড় ফারাক। এশীয় অঞ্চলের বাছাইয়ে ‘ই’ গ্রুপে পাঁচ ম্যাচ খেলে তারা পেয়েছে মাত্র ১ পয়েন্ট। ভারতের বিপক্ষে ড্র করা অ্যাওয়ে ম্যাচ বাদে হেরেছে বাকি চার ম্যাচ। করোনার কারণে কেউ আর ‘হোমে’র সুবিধা পাচ্ছে না, এখন সব ম্যাচ হবে দোহায় জসিম বিন হামাদ স্টেডিয়ামে। কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে বাংলাদেশ তিন ম্যাচের প্রথমটি ৩ জুন খেলবে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ৭ তারিখ ভারতের সঙ্গে খেলে ১৫ জুন ওমানের বিপক্ষে খেলবে শেষ ম্যাচটি। তিনটি ম্যাচের মধ্যে আফগানিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে পয়েন্টের স্বপ্ন দেখছে জেমি ডে’র দল। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভুঁইয়া ওই দুই দলের সঙ্গে নিজেদের তেমন তফাত দেখছেন না, ‘ভারত ও আফগানিস্তানের সঙ্গে আমাদের খেলোয়াড়ের তেমন তফাত নেই। তাই আমি চাই ভালো ম্যাচ, ভালো লড়াই এবং পয়েন্টও আশা করছি।’ আসলে পয়েন্টহীন ভালো ম্যাচ, ভালো লড়াইয়ের কোনো মূল্য নেই ফুটবলে। সামনের জন্য বড় প্রত্যাশায় বুক বাঁধলেও তিনি পেছনে তাকিয়ে দেখছেন দুর্ভাগ্যে ভরা অতীত, ‘ওই দুটি দলের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য হলো দুর্ভাগ্য। আফগানিস্তান ম্যাচে সুযোগ নষ্ট করেছি আর ভারতের বিপক্ষে শেষদিকে গোল খেয়ে ম্যাচ ড্র করেছি আমরা। আগামীতে ওদের হয়তো বল পজেশন বেশি থাকবে, কিন্তু আমরা কাউন্টার অ্যাটাকে ভালো।’

কাউন্টারে কতটা ভালো? আগের পাঁচ গ্রুপ ম্যাচে বাংলাদেশ গোল করেছে দুটি আর খেয়েছে ১৩টি। পরিসংখ্যান বলছে, ভালোর মাত্রাটা মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়। সত্যিটা হলো, কাউন্টারে নিখুঁত পাস বাড়ানোর মতো খেলোয়াড়ও নেই আর ফিনিশারের সংকট বাংলাদেশ ফুটবলেরই পুরনো সমস্যা। তাই প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠানোর স্বপ্ন বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বড় আফসোস হয়েই থাকে। উল্টো সবচেয়ে বেশি গোলও ঢুকেছে বাংলাদেশের জালে। কোনো জাদুবলে গোল খাওয়া আর দেওয়ার ব্যাপারটা ঠিক উল্টো করে দেওয়া গেলে পয়েন্টের স্বপ্নটা বড় জোরালো হতো!