kalerkantho

রবিবার । ৬ আষাঢ় ১৪২৮। ২০ জুন ২০২১। ৮ জিলকদ ১৪৪২

নানা প্রশ্ন তুলে সময় চেয়েছে কিংস

জাতীয় দলে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় অংশটি বসুন্ধরা কিংসের—১০ ফুটবলার। তাঁদেরকে চেয়ে কিংসের কাছে বাফুফে চিঠি দিলেও ক্লাব চাইছে আরেকটু সময় নিয়ে খেলোয়াড় ছাড়তে।

১২ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : বসুন্ধরা কিংস এখনই জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য ফুটবলার ছাড়তে চায় না। নানা যৌক্তিক কারণ তুলে ধরে তারা সুবিধামতো সময়ে ফুটবলারদের ছাড়তে চায় জাতীয় দলের জন্য।

জাতীয় দলের কোচ জেমি ডে গত পরশু রাতে পৌঁছেছেন ঢাকায়। ইংলিশ কোচ আসার আগে থেকেই শুরু হয় জাতীয় দলের ট্রেনিং ক্যাম্পের আয়োজন। এরই মধ্যে কয়েকজন ফুটবলার যোগ দিয়েছেন ক্যাম্পে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে বড় অংশটি বসুন্ধরা কিংসের—১০ ফুটবলার। তাঁদেরকে চেয়ে কিংসের কাছে বাফুফে চিঠি দিলেও ক্লাব চাইছে আরেকটু সময় নিয়ে খেলোয়াড় ছাড়তে। কিংস গতকাল পাল্টা চিঠি দিয়ে বলেছে, ‘আমাদের ফুটবলাররা এএফসি কাপ নিয়ে খুব উৎসাহী ছিলেন। হঠাৎ করে এই টুর্নামেন্ট স্থগিত হওয়ায় তাঁরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। মানসিকভাবে তাঁদের তৈরি হওয়ায় জন্য কিছু সময়ের দরকার। তাই আমরা সুবিধামতো সময়ে ফুটবলারদের ছাড়ব জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য।’

প্রায় দুই মাস কঠিন পরিশ্রম করে সেরা ফর্ম নিয়ে তাঁরা মালদ্বীপে পৌঁছাতে চেয়েছিলেন এএফসি কাপ খেলতে। কিন্তু গত ৯ মে মালদ্বীপের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় এএফসি স্থগিত করে টুর্নামেন্টটি। এই দুঃসংবাদ শুনে খেলোয়াড়রা সত্যি খুব মুষড়ে পড়েন। তাঁদের মানসিকভাবে আগের জায়গায় ফেরাতে কাজ করছেন কোচ ও ক্লাব ম্যানেজমেন্ট।

কিংস প্রেসিডেন্ট ইমরুল হাসান স্বাক্ষরিত চিঠিতে তাঁদের ইনজ্যুরড ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষকে জাতীয় দলের জন্য ছাড়বে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। জাতীয় দলের হয়ে নেপালে খেলতে গিয়েই ইনজুরিতে পড়েছিলেন এই ফুলব্যাক। তিনি এখন ইনজুরি-পরবর্তী পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। অর্থাৎ তারা ৯ জনকে পাঠাবে জেমির ট্রেনিং ক্যাম্পে। এ ছাড়া চিঠিতে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা লিখেছে, ‘বিশ্বস্ত সূত্রে আমরা জেনেছি, ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ফিফার কাছে চিঠি লিখেছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচ পেছানোর জন্য। ম্যাচগুলো যে নির্দিষ্ট সময়ে হবে, দয়া করে তা নিশ্চিত করবেন। তা ছাড়া যেখানে খেলা হবে সেখানে ফুটবলারদের কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়া কী রকম হবে আর দেশে ফিরে তাঁদের কোথায় কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে, এ ব্যাপারে আমাদের বিস্তারিত জানাবেন।’ বিশ্বকাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ বাকি। আগামী ৩ জুন আফগানিস্তানের ম্যাচ দিয়ে এগুলো শুরু হওয়ার কথা কাতারে। এরপর একই ভেন্যুতে ৭ তারিখ ভারত ও ১৫ তারিখ ওমানের সঙ্গে শেষ ম্যাচ খেলার কথা। কিন্তু কাতারে যাওয়ার পর এবং দেশে ফিরে খেলোয়াড়দের কোয়ারেন্টিন প্রক্রিয়া সম্পর্কে কারো কোনো ধারণা নেই। ফুটবল ফেডারেশনও এ নিয়ে কাতার কিংবা দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তা ছাড়া ভারতে ভয়াবহ করোনা সংক্রমণের কারণে তারা ইতিমধ্যে খেলা পেছানোর আবেদন করেছে ফিফার কাছে। এই প্রেক্ষাপটে আগামী জুনে কাতারে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ‘ডি’ গ্রুপের খেলা হওয়ার গ্যারান্টি কী? সেই গ্যারান্টি না থাকলে এই মুহূর্তে ট্রেনিং ক্যাম্পেরই বা প্রয়োজন কিসের? তার চেয়ে প্রিমিয়ার লিগ খেলাই ভালো।