kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

রিয়ালকে পাত্তাই দিল না চেলসি

অল ইংলিশ ফাইনাল

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রিয়ালকে পাত্তাই দিল না চেলসি

চ্যাম্পিয়নস লিগে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদকে প্রথমবারের মতো আতিথ্য দিয়েছে চেলসি। স্টামফোর্ড ব্রিজের আবহটা চিন্তা করুন! কিন্তু হায়! করোনায় শূন্য গ্যালারি। এমন বিশেষ ম্যাচ মাঠে বসে উপভোগ করা হলো না ব্লু সমর্থকদের। তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা গেল না ১৩ বারের ইউরোপিয়ানদের বোতলবন্দি করে ফেলার প্রতিটি মুহূর্ত। এটুকুই শুধু খেদ। তা ছাড়া পরশু রাতে চেলসির গাঢ় নীল রঙে শুধুই গৌরব আর উচ্ছ্বাসের ছোঁয়া।

৯ বছর পর তারা উঠে গেছে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে। টমাস টুখেলের হাতে পুনর্জন্ম হয়েছে যেন ব্লুদের। তাতে লস ব্লাংকোরা মলিন, যেন পুরনো। মেসন মাউন্ট, কাই হাভার্তজ, টিমো ভেরনার, ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচদের তারুণ্যের সামনে লুকা মডরিচ, টনি ক্রোস, কাসেমিরোরা যেন সেরা সময়টা ফেলে আসা এক দল অবসাদগ্রস্ত খেলোয়াড়। প্রথম লেগে আধিপত্য দেখিয়েও রিয়ালের মাঠ থেকে ড্র নিয়ে ফিরেছিল টুখেলের এই দল। কাল নিজেদের মাঠে জিনেদিন জিদান শিষ্যদের ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো পথ না দিয়ে নিজেদের খেলাটাই খেলেছে তারা পুরো ৯০ মিনিট। শেষ পর্যন্ত স্কোরলাইন ২-০। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১। যে দলটি সর্বশেষ পাঁচটি চ্যাম্পিয়নস লিগের তিনটিই জিতেছে, তাদের বিপক্ষে এমন পারফরম্যান্স সেই দলের যারা কিনা সেই ২০১২ সালের ফাইনালের পর ইউরোপীয় এ আসরে তেমন আলোচনাতেই ছিল না। দুই মৌসুম তো খেলার সুযোগই পায়নি—মাঠে না থাকতে পারলেও ব্লুদের হৃদয়ের উচ্ছ্বাসটা তাই আন্দাজ করাই যায়। ম্যাচ শেষে কোচ টুখেলও তাই প্রাণভরে প্রশংসা করেছেন শিষ্যদের, ‘জয়টা ওদের (শিষ্যদের) প্রাপ্য। কারণ রিয়াল মাদ্রিদ সব সময়ই বিপজ্জনক। বিবর্ণ অবস্থা থেকেও ওরা গোল বের করে ফেলতে পারে। আর বল পজেশন রেখে সেই চেষ্টা করছিলও তারা, কিন্তু আমরাও এক মুহূর্তের জন্য মনোযোগ হারাইনি। এমনকি সুযোগ নষ্ট করেও আবার একই একাগ্রতা নিয়ে ঝাঁপিয়েছি। কাউন্টার অ্যাটাকে সত্যিই আমরা ছিলাম দুর্দান্ত। আর ডিফেন্ডিংয়েও এতটুকু ক্লান্তি ছিল না।’

ঠিক তাই, রিয়াল সেই অর্থে কোনো সুযোগই দেয়নি চেলসি। বেনজেমা তাও যে দুবার সম্ভাবনা জাগিয়েছিলেন, পোস্টের নিচে অবিচল এদোয়ার্দ মেন্ডিতে নষ্ট হয়ে গেছে তা। প্রথটা বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিরিয়েছেন বেনজেমার শট, পরের হেড ফিরিয়েছেন বাজপাখির ক্ষিপ্রতায়। ওদিকে রিয়াল ডিফেন্সের ফাঁক-ফোকর বের করে ফেলেছিলেন এনগোলো কান্তে-ভেরনাররা শুরুতেই। দারুণ পাস খেলে অষ্টম মিনিটে তো ভেরনার বল জালেও জড়িয়েছিলেন, কিন্তু অফসাইডে বাতিল হয় তা। কিন্তু ২৮ মিনিটে মিডফিল্ডে কান্তের আরেকটা মাস্টার ক্লাস মুভমেন্টে একেবারে পোস্টের সামনে থেকে হেডে বল জালে জড়াতে ভুল করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে ভেরনারের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বাঁয়ে ফাঁকায় হাভার্তজকে দিয়েছিলেন কান্তে। থিবো কর্তোয়াকে সামলে হাভার্তজের নেওয়া শট পোস্টে লাগলে সামনেই দাঁড়ানো ভেরনার হেডে তা জালে জড়িয়ে দিয়েছেন।

দ্বিতীয়ার্ধে চেলসি আধিপত্য বাড়ায়। গোলের সুযোগ তৈরি করে বেশ কয়েকটি। হাভার্তজের শটই এগিয়ে এসে পা বাড়িয়ে ফেরান কর্তোয়া। একইভাবে আবার ফিরিয়েছেন কান্তেকেও। হাভার্তজের আরেকটা হেড লাগে ক্রসবারে। অবশেষে ৮৫ মিনিটে বদলি নামা পুলিসিচের ক্রসে মাউন্ট বল জড়িয়ে করেছেন ২-০। রিয়ালের ম্যাচে ফেরার আশা সেখানেই শেষ হয়ে যায়। চেলসি তৈরি করে অল ইংলিশ ফাইনালের মঞ্চ ২৯ মে, ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ইস্তানবুলে। বিবিসি



সাতদিনের সেরা