kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১০ আষাঢ় ১৪২৮। ২৪ জুন ২০২১। ১২ জিলকদ ১৪৪২

এএফসি কাপ নিয়ে সংশয়ে কিংস

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৭ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এএফসি কাপ নিয়ে সংশয়ে কিংস

মালদ্বীপ রওনা হওয়ার মাত্র দুই দিন আগে আবার সংশয়ে পড়েছে বসুন্ধরা কিংস। তাদের ‘ডি’ গ্রুপের খেলা নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন শঙ্কা। কারণ করোনা সংক্রমণ বাড়ছে মালদ্বীপে আর তাই খেলা নিয়ে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা পড়েছে দোটানায়।

এএফসি কাপের কেন্দ্রীয় ভেন্যু মালদ্বীপে খেলতে যাওয়ার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন বসুন্ধরা কিংসের। ৯ মে রাজধানী মালের উদ্দেশে তাদের ঢাকা ছাড়ার কথা। কিন্তু মালদ্বীপে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, তাই তাদের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আহমেদ মাহলুফ গতকাল এক টুইটে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ‘দেশে খুব আশঙ্কাজনকভাবে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। তাই মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এএফসি কাপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কেন্দ্রীয় ভেন্যুর খেলা স্থগিত করতে কথা বলছে এএফসির সঙ্গে।’

গত এপ্রিলেও তাদের সংক্রমণ ছিল নামমাত্র, দিনে গড় সংক্রমণ হতো মাত্র ৮৪ জনের। এ মাসে হঠাৎ বাড়তে শুরু করে সংক্রমণ। গত ৫ মে ৭৩৪ জনের শরীরে করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এটাই হয়ে গেছে তাদের বড় দুশ্চিন্তার কারণ। খেলা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে এএফসির সঙ্গে মালদ্বীপ এফএর আলোচনা চলছে।

এই খবরে স্বাভাবিকভাবে ‘ডি’ গ্রুপের দলগুলো পড়েছে দুশ্চিন্তায়। বসুন্ধরা কিংস ৯ মে মালদ্বীপ যাত্রার সব কিছু চূড়ান্ত করে ফেলেছে। ক্লাবের মিডিয়া ম্যানেজার আহমেদ শায়েক অবশ্য বলেছেন আশাবাদের কথা, ‘আমরা এখনো জানি এএফসি কাপ হচ্ছে। কারণ আজ (কাল) সকালেও ম্যাচ কমিশনারের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। তিনি আমাদের ফোন করে ক্লাবের জার্সির ছবি চেয়েছেন। ১০ মে মালদ্বীপে ম্যানেজার্স মিটিংয়ে উপস্থিত থাকতে বলেছেন। আমাদের ম্যানেজারের ফোন নম্বর ও ই-মেইল আইডি চেয়েছেন। আসলে মালদ্বীপের ক্রীড়ামন্ত্রীর এক টুইটে কারো কারো মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে মালদ্বীপ ফুটবল ফেডারেশন আমাদের নতুন করে কিছু জানায়নি।’ বসুন্ধরা কিংস মালদ্বীপ যেতে চেয়েছিল ১১ মে। কিন্তু আগের দিন ম্যানেজার্স মিটিং দেওয়ায় তাদের যেতে হচ্ছে ৯ মে।

কিংসের মিডিয়া ম্যানেজারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপের একটি দল বাদে বাকিরা খেলার ব্যাপারে ইতিবাচক, “এএফসি এত অল্প সময়ের মধ্যে সাধারণত টুর্নামেন্ট স্থগিত করে না। তা ছাড়া গতবার এ টুর্নামেন্ট বাতিল করার পর এবার যেকোনো মূল্যে সেটি আয়োজনের চেষ্টা করছে এএফসি। ‘ডি’ গ্রুপের দলগুলোর মধ্যে এটিকে মোহনবাগান ছাড়া বাকিরা প্রস্তুত। বেঙ্গালুরু চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছালে মালদ্বীপের কোন হোটেলে থাকবে, সেটিরও বুকিং দেওয়া আছে।” ১১ মে বেঙ্গালুরু এফসি ও ইগলসের মধ্যে প্লে-অফ হওয়ার কথা আছে। সেই ম্যাচের বিজয়ী দল ‘ডি’ গ্রুপে খেলবে চতুর্থ দল হিসেবে। গ্রুপের দলগুলোর মধ্যে একমাত্র এটিকে মোহনবাগানই মালদ্বীপ যেতে নিম রাজি ছিল। ভারতে লকডাউনের কারণে তাদের দুই বিদেশি আসতে পারেনি, মাদ্রিদে থাকা কোচ আ্যাান্থনিও হাবাসও ফিরতে পারেননি। এ জন্য তাদের প্রস্তুতিও সেভাবে হয়নি বলে করোনার কারণ দেখিয়ে এএফসিকে খেলা পেছানোর অনুরোধ করেছিল। অথচ চূড়ান্ত পর্বের স্বপ্ন দেখা বেঙ্গালুরু এখনই মালদ্বীপে হোটেল বুকিং দিয়ে রেখেছে।

মালদ্বীপে করোনার প্রকোপ বাড়লেও আইপিএল ক্রিকেট স্থগিতের পর অনেক বিদেশি ক্রিকেটার ওখানেই যাচ্ছেন। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররা তো ঘাঁটি গেড়েছেন মালদ্বীপে। তাই এএফসি কাপ নিয়ে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বসুন্ধরা কিংসের ভাগ্যটাই যেন মন্দ। গতবারও এই টুর্নামেন্টের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে তারা শুরু করেছিল। মালদ্বীপের টিসি স্পোর্টসকে ঢাকা মাঠে গোলবন্যায় ভাসিয়ে শুরু করেও আর এগোতে পারেনি করোনার কারণে। কয়েক মাস অপেক্ষার পর শেষ পর্যন্ত স্থগিত হয়ে যায় এএফসি কাপ। এবারও দারুণ ফর্মে বসুন্ধরা কিংস। পুরনো বিদেশি ছেঁটে ব্রাজিল-আর্জেন্টাইনে নতুন ফরোয়ার্ড লাইন নিয়ে চ্যাম্পিয়নরা মৌসুম শুরু করে এখন লিগের শীর্ষে অবস্থান করছে। প্রথম লেগের পর করোনার মধ্যেও থেমে ছিল না তাদের প্রস্তুতি। তারই ফল পাচ্ছে তারা দ্বিতীয় লেগে। তাই এএফসি কাপ আবার পেছালে ফর্মে থাকা বসুন্ধরা কিংসের জন্য ক্ষতিই হবে। এ ছাড়া আর্থিক ক্ষতিও হবে ব্যাপক।



সাতদিনের সেরা