kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

মমিনুলের চরিত্রই টেস্ট আদলে গড়া

২৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : গলে টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু মমিনুল হকের। একমাত্র ইনিংসেই ফিফটি। এরপর হারারেতে আবার ৬৪ ও ৩৭। ২০১৩ সালেই হারারেতে ২৩ ও ২৯। এ দেশে প্রশ্ন উঠতে সময় লাগে না। মমিনুল উত্তর দিয়েছিলেন সে বছরের অক্টোবরে, চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১৮১ রানের ইনিংস খেলে। গতকাল পাল্লেকেলেতে সেঞ্চুরি করে দেশের বাইরে রান না পাওয়ার ‘ব্যর্থতা’ ঘোচালেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক।

এটা তাঁর একাদশ টেস্ট সেঞ্চুরি। বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সঙ্গে ফিফটির (১৩) সংখ্যাই বলে দেয় উইকেটে সেট হয়ে গেলে লম্বা ইনিংস খেলেই সাজঘরে ফেরেন মমিনুল। পঞ্চাশকে শতরানে টেনে নিয়ে যাওয়ার সামর্থ্য বিবেচনায় তিনি বাংলাদেশের সফলতম টেস্ট ব্যাটসম্যান। ব্যাটিং গড়েও তাই সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের চেয়ে এগিয়ে মমিনুল। অন্তত ২০ টেস্ট খেলেছেন এমন বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে একমাত্র তাঁর টেস্ট গড়ই (৪২.৩৩) চল্লিশের ওপরে।

অন্যদের চেয়ে মমিনুলের স্বাতন্ত্র্যও চোখে পড়েছে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোর, ‘আমার মনে হয় মমিনুল ওর খেলাটি খুব ভালো বোঝে। খুবই শান্ত প্রকৃতির। আমার মনে হয় ওর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই ওকে গোছানো টেস্ট ব্যাটসম্যান হতে সাহায্য করেছে। নিজের প্রস্তুতির ব্যাপারে খুবই সচেতন। কঠোর পরিশ্রম করে। নিজের শক্তি ও দুর্বলতার দিকগুলো ভালো জানে। আমার দৃষ্টিতে ও দারুণ একজন টেস্ট ব্যাটসম্যান। নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও মমিনুল সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছে। এখানেও (পাল্লেকেলে) আবার করল। ১১টা বোধ হয় সেঞ্চুরি হলো। দারুণ ব্যাপার।’

এই ‘দারুণ’ কিছুর জন্য মমিনুলের প্রস্তুতির প্রেক্ষাপটটি কিন্তু ভিন্ন। বাংলাদেশ দল ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিই বেশি খেলে। তাই টেস্ট সফর ছাড়া মমিনুলের সঙ্গে বলতে গেলে দেখাই হয় না জাতীয় দলের কোচিং স্টাফদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওয়ানডে সিরিজ চলাকালে ওয়ানডে দলকে সুযোগ করে দিতে হোটেলবন্দি থাকতে হয়েছে মমিনুলদের। সে অবস্থার পরিবর্তনের ইঙ্গিত গতকাল দিয়েছেন রাসেল ডমিঙ্গো, ‘জাতীয় দলের বাইরে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন। এটা নিয়ে চাচার (খালেদ মাহমুদ) সঙ্গে কথা হচ্ছিল। উদাহরণ হিসেবে সৌম্য (সরকার) ও মাহমুদ উল্লাহর কথা বলেছি। জানতে চেয়েছি ওদের কারা দেখাশোনা করছে? প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে কি না। সবাই সব ফরম্যাট খেলে না। তাদের জন্যও নিজেকে তৈরি রাখা কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থা বদলাতে চাই।’



সাতদিনের সেরা