kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

মেসিদের অভয় পেরেজ-ফিফপ্রোর

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেসিদের অভয় পেরেজ-ফিফপ্রোর

বিকাশ না বিনাশ—কী অপেক্ষা করছে ইউরোপ ছাপিয়ে বিশ্ব ফুটবলের জন্য? সুপার লিগে অংশ নিলে জাতীয় দল ও বিশ্বকাপে খেলতে না দেওয়ার হুমকি দিয়েছে উয়েফা। এই লিগের প্রেসিডেন্ট ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ অবশ্য গায়েই মাখছেন না এসব হুমকি। স্প্যানিশ টিভি শো এল চিরিঙ্গিতোতে লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের আশ্বস্ত করলেন তিনি, ‘সব খেলোয়াড় নিশ্চিন্ত থাকুন, কেউ নিষিদ্ধ হবে না। সব কিছুর মতো এখন ফুটবলকেও বদলাতে হবে। ফুটবল আগ্রহ হারাচ্ছে, টিভি স্বত্বের মূল্য কমে যাচ্ছে। তরুণরা খেলায় আগ্রহী না। এই সংকটময় সময়ে ফুটবলকে বাঁচাতেই সুপার লিগের আয়োজন করতে যাচ্ছি।’

কিন্তু উয়েফা কোনোভাবে এই লিগ মাঠে গড়াতে দিতে চায় না। এমনকি সেমিফাইনাল থেকে ‘বিদ্রোহী’ রিয়াল, ম্যানসিটি আর চেলসিকে নিষিদ্ধ করার কথাও নাকি ভাবছে তারা! সে ক্ষেত্রে ফাঁকা মাঠে চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে পিএসজি। উয়েফার ওপর এ জন্য ক্ষোভই ঝেড়েছেন পেরেজ, ‘উয়েফা মনে করে আমরা তাদের সম্পত্তি, কিন্তু ওদের আধিপত্যের দিন শেষ, সময় এখন নতুন যুগের। উয়েফা আর লা লিগা কর্তাদের বেতন প্রকাশ্যে জানানো হয় না কেন? মহামারিতে আর সবার মতো ওদের বেতন কমানো হয়নি কেন? একটা সময় ইউরোপিয়ান কাপ যেভাবে ফুটবল বাঁচিয়েছিল এখন সেই কাজটা করবে সুপার লিগ। করোনায় গত দুই মৌসুমে আমাদের ক্ষতি প্রায় ৪০ কোটি ইউরো। বার্সেলোনার ক্ষতির অঙ্কও কম নয়। চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন ফরম্যাট আসবে ২০২৪ সালে, তত দিনে আমরা নিঃশেষ হয়ে যাব।’ সুপার লিগের জন্য ছোট ক্লাবগুলোর যেমন ক্ষতি হবে না, তেমনি ঘরোয়া লিগের আকর্ষণও কমবে না বলে যুক্তি দিয়েছেন পেরেজ। রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদান এ নিয়ে জানালেন, ‘সুপার লিগ নিয়ে বলবেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট, আমি এ নিয়ে বলার কেউ না।’

পেরেজ যতই উয়েফাকে পাত্তা না দিন, ফিফা কিন্তু পাশে আছে সংস্থাটির। আগের দিনই বিবৃতি দিয়ে সংহতি জানিয়েছিল। গতকাল ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নিশ্চিত করলেন আরো একবার, ‘উয়েফার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন আছে। কেউ যদি নিজেদের তৈরি পথে চলতে চায় তাহলে পরিণতি ভোগ করার জন্য ছেড়ে দিতে চাই তাদের।’

ফিফা বা উয়েফা যতই হুমকি দিক, খেলোয়াড়দের পাশেই দাঁড়িয়েছে পেশাদার ফুটবলারদের সংগঠন ফিফপ্রো। সংগঠনটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘আমরা ৬০ হাজার খেলোয়াড়ের প্রতিনিধি। যেকোনো পক্ষের নেওয়া খেলোয়াড়দের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত আর জাতীয় দল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের আমরা কঠোর বিরোধিতা করি। খেলোয়াড় ও ফুটবলের সর্বোচ্চ স্বার্থরক্ষায় বিদ্যমান ত্রুটিগুলো শুধরে নিতে আমরা সব পক্ষের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

সুপার লিগ ঘিরে অসন্তুষ্টি বাড়ছে ইংল্যান্ডে। প্রিমিয়ার লিগ থেকেই সর্বোচ্চ ছয়টি ক্লাব সম্মতি দিয়েছে। এর প্রতিবাদে বাকি ১৪টি ক্লাব বিশেষ বৈঠক করেছে। ইংলিশ সাবেক ফুটবলার গ্যারি নেভিলের বিশ্বাস ম্যানচেস্টার সিটি আর চেলসি দ্রুত বের হয়ে আসবে এই প্রকল্প থেকে, আর তাদের অনুসরণ করবে অন্যরাও। কেননা দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনই ঘোর বিরোধী সুপার লিগের। এমনকি ক্লাবগুলোর সমর্থকরাও প্ল্যাকার্ড তুলে দুয়ো জানিয়েছে মালিকদের। এখানে অংশ নিতে চায় না পিএসজি, বায়ার্ন আর বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মতো ক্লাব। গতকাল ‘ডেইলি মেইল’ প্রকাশ করেছে আমন্ত্রণ পাওয়ার পরও এই তিন ক্লাবের ‘না’ বলার নথি। তাই প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়াবে তো ‘বিদ্রোহী’ সুপার লিগ? মার্কা, ডেইলি মেইল



সাতদিনের সেরা