kalerkantho

বুধবার । ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৯ মে ২০২১। ৬ শাওয়াল ১৪৪

ক্যান্ডি টেস্ট আজ শুরু

শ্রীলঙ্কায় পেসারদের দিকে ফিরছে বাংলাদেশও

২১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শ্রীলঙ্কায় পেসারদের দিকে ফিরছে বাংলাদেশও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামের গতি-প্রকৃতি আগাম বোঝার জন্য শ্রীলঙ্কার টেস্ট স্কোয়াডের দিকে তাকালেই চলছে। একেবারেই নতুন মুখ প্রাভিন জয়াবিক্রমা ছাড়া দলে বিশেষজ্ঞ স্পিনার আর একজনই। এই বাঁহাতি স্পিনারের সঙ্গী লেগস্পিনার ভানিদু হাশারাঙ্গা। স্বাগতিক দলে পাঁচ পেসারের উপস্থিতিই এই বার্তা দিচ্ছে যে আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে সফরকারীদের জন্য সেজে আছে পেসবান্ধব উইকেটই। গতকাল অনুশীলনের আগে উইকেটে হালকা সবুজ ঘাসের আচ্ছাদনও নজর এড়ায়নি বাংলাদেশ দলের। তাই ২১ জনের প্রাথমিক দল ছোট করে মূল স্কোয়াড ঘোষণা করতে গিয়ে সফরকারীরাও অগ্রাধিকার দিয়েছে পেসারদেরই। ১৫ জনের দলে নতুন মুখ শরিফুল ইসলামসহ পেসার চারজন। নিজেদের মাঠে কখনো কখনো একাদশে পেসার না রেখেই খেলতে অভ্যস্ত বাংলাদেশও এবার পেতে চলেছে একেবারেই ভিন্ন স্বাদ। উপমহাদেশের চেনা কন্ডিশনে পেসসজ্জা বাড়িয়ে নামার এমন সুযোগ তো আর সচরাচর আসে না।

এ রকম সুযোগ আসার কারণ শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণে আসা ঐতিহ্যের পালাবদল। একসময় মুত্তিয়া মুরালিধরন ছিলেন তাঁদের প্রাণভোমরা। টেস্টের সর্বাধিক উইকেটধারী বোলার অবসরে যাওয়ার পরও রঙ্গনা হেরাথ স্পিন সাম্রাজ্যের পতাকা উড়িয়ে গেছেন। কিন্তু তিনিও অবসরে যাওয়ার পর আর কোনো স্পিনার সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি। অন্তত মুরালিধরন কিংবা হেরাথের মতো প্রভাববিস্তারী বোলিংয়ের নমুনা রাখতে পারেননি। এই সুযোগে পেসাররাও উঠে এসেছেন। সম্প্রতি পেসারদের সৌজন্যে নতুন দিনও দেখতে শুরু করে দিয়েছে লঙ্কান ক্রিকেট। তাই ঘরের মাঠেও তাঁদের ওপর আস্থা রাখায় দ্বিধাহীন লঙ্কান টিম ম্যানেজমেন্ট। কাল সন্ধ্যায় এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক দিমুথ করুণারত্নেকেও বলতে শোনা গেছে সে কথাই, ‘স্পিন এখন আর আগের মতো আমাদের শক্তির জায়গা নয়।’

বরং তাঁর পক্ষপাত এখন পেসারদের দিকেই, ‘আমাদের পেসাররা সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ পারফরম করেছে। ক্যারিবিয়ানে দুর্দান্ত বোলিং করেছে সুরঙ্গা লাকমল। সেখানে সে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজও হয়েছে। এ জন্যই আমরা পেসারদের ওপর আস্থা রাখছি। তা ছাড়া আমাদের স্পিনাররাও তরুণ এবং অনভিজ্ঞ।’ সেই সঙ্গে চোট-আঘাতের কারণে টেস্টে তাঁদের নিয়মিত স্পিনার লাসিথ এম্বুলদেনিয়াও দলে নেই। তাই একরকম বাধ্য হয়েই লঙ্কান রণপরিকল্পনার পুরোভাগে পেসাররা। কিছুদিন আগে গলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মন্থর ও ধীরগতির উইকেটে খেলা লঙ্কানরা এবার পেস চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতেই পাহাড়ঘেঁষা পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট রেখেছে বলেও খবর দিয়েছে সে দেশের সংবাদমাধ্যম। এই মাঠে যে বরাবরই পেসাররা সহায়তা পেয়ে থাকেন। সেসবের খোঁজখবর রাখা বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হকও তাই নিশ্চিত যে, ‘আমারও মনে হয়, এই ম্যাচে পেসাররাই বড় ভূমিকা রাখবে।’

নিজ দলের পেসারদের কাছেও যে ম্যাচে প্রভাব রাখার মতো ভূমিকাই আশা করবেন মমিনুল, সেটি নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না। তবে এর আগে পেসারদের পিঠে আস্থার হাত তো রাখতে হবে। সেটিও রাখছেন অধিনায়ক। প্রতিপক্ষের রণসজ্জার কারণেই নিজেদের একাদশে পেসার বাড়ানোর আগাম ঘোষণা দিয়ে ফেলতে হলো তাঁকে, ‘হ্যাঁ, আমাদের বোলিং আক্রমণও পেসনির্ভর হবে। আমাদের একাদশেও পেসারদের আধিক্য কম থাকবে না। (এই ম্যাচে) পেসারদের মধ্যেই প্রতিযোগিতা বেশি হবে।’ তবে সম্প্রতি দলের ব্যাটিংয়ের অবস্থা সুবিধার নয়। নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছেতাই ব্যাটিংয়ের পর এবার ব্যাটসম্যানদের পাশাপাশি অধিনায়কের চাহিদায় পেসারদের যুক্ত হতে দেখাও আশার ছবি, ‘(ভালো করার ক্ষেত্রে) আমাদের দলের ব্যাটিং আর পেস বোলিং বিভাগ খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে।’ একাদশে তিন পেসার রাখার বিষয়টিও একরকম নিশ্চিত করে দিয়েছেন মমিনুল, ‘যারা আগে খেলেছে, তারাই সবচেয়ে বেশি নির্ভরযোগ্য হবে বলে আমার মনে হয়। রাহি (আবু জায়েদ), এবাদত ও তাসকিনের মতো যারা নিয়মিত খেলেছে...।’ অর্থাৎ তিন পেসারের সঙ্গে মেহেদী হাসান মিরাজের অফস্পিন ও বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামকে নিয়ে পাঁচজনের বোলিং আক্রমণ হওয়ার কথা বাংলাদেশের। যদিও তিন পেসারের একজন হিসেবে শরিফুলেরও একাদশে ঢুকে পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।



সাতদিনের সেরা