kalerkantho

সোমবার । ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৭ মে ২০২১। ০৪ শাওয়াল ১৪৪

খেলেছিলেন এশিয়ান একাদশে

১৯ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খেলেছিলেন এশিয়ান একাদশে

বর্তমান আর ভবিষ্যৎ চিন্তায় আমরা অতীতকে ভুলেই যাই। কোনো কিংবদন্তির প্রয়াণে মনে পড়ে অতীতকে। তবে কালের কণ্ঠ স্পোর্টস চিরকালীন এ বৃত্ত ভেঙে অতীতের নায়কদের স্মরণ করতে চায় তাঁদের জন্মদিনে। সেই ধারাবাহিকতায় আজ হকি তারকা আজিজুল্লাহ হায়দার জামালের গল্প লিখেছেন রাহেনুর ইসলাম

১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগুনঝরা সেই ভাষণ শুনতে রেসকোর্স ময়দানে ছুটে গিয়েছিলেন আজিজুল্লাহ হায়দার জামাল, বাংলাদেশ হকিতে জামাল হায়দার নামেই পরিচিতি তাঁর। সেখানে মহিলাদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল ইউটার্নের মতো ব্যারিকেড। ১৪ বছরের জামাল হায়দার গিয়ে দাঁড়ান সেখানেই। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর পুরান ঢাকার এই বাসিন্দা পাকিস্তানি সেনাদের গাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছুড়ে কয়েকবার পালিয়েছেন ড্রেনের নিচ দিয়ে।

স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে মুক্তিযোদ্ধার সনদ না পাওয়ার কোনো আক্ষেপ নেই বাংলাদেশ হকির অন্যতম সেরা তারকা ও কোচ জামাল হায়দারের। বরং আজ ৬৪তম জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণের কথাই মনে পড়ছে তাঁর, ‘‘আমার কণ্ঠটা বেশ চিকন। পাকিস্তানে যখন খেলতে গিয়েছিলাম তখন ওরা বলত, ‘বঙ্গবন্ধুর মতো বজ্রকণ্ঠে কথা বলবে। গর্ব হতো খুব। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ আসলে ভোলার নয়।’’

১৯৮২ সালে করাচিতে এশিয়া কাপ খেলার পর এশিয়ান অল স্টার হকি দলে ডাক পান জামাল হায়দার। নানা কারণে সেই দলটিরই খেলা হয়নি তখন। সে সময় পাকিস্তান জাতীয় দলের কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার আতিফ পাকিস্তানের হয়ে খেলার প্রস্তাব দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি পিআইএ অথবা হাবিব ব্যাংকে চাকরির ব্যবস্থা করে দেব। নাগরিকত্ব বদলে পাকিস্তানি হয়ে যাও। অলিম্পিক, বিশ্বকাপ সবই খেলতে পারবে।’ তিনি সাড়া দেননি সেই ডাকেও।

১৯৮৬ সালে এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক ছিলেন জামাল হায়দার। ভালো পারফরম্যান্সের কারণে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন এশিয়ান অল স্টার হকি দলে। সফরটি হয় ১৯৮৮ সালে। বোম্বে, মালয়েশিয়া, জাপান, করাচি, নাইরোবি, জিম্বাবুয়ে এবং শেষে করাচি হয়ে ফেরেন বাংলাদেশে। সিনিয়র হওয়ায় সম্মান জানিয়েছিলেন শাহবাজ আহমেদ, মোহাম্মদ শহীদ, রাশিদুল হাসান, পারগাত সিংরা। তবে দেশে মাতামাতি হয়নি জামাল হায়দারকে নিয়ে। মন্ত্রণালয়ে যাওয়া, জিও নেওয়া, দৌড়াদৌড়ি করা—সব একাই করেছেন। এমনকি বিমানবন্দরেও গিয়েছিলেন চাচাতো ভাইয়ের মোটরসাইকেলে চড়ে।

হকি মাঠের পরিশ্রমী খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি জামাল হায়দার ’৭৭ সালে সুযোগ পান জুনিয়র বিশ্বকাপ দলে। ’৮১ সালে যোগ দেন মোহামেডানে। পরের বছরই নেতৃত্ব পান প্রিয় ক্লাবটির। টানা না হলেও সাত মৌসুম খেলেছেন মোহামেডানে, লিগে চ্যাম্পিয়নই হয়েছেন বেশির ভাগ সময়। খেলেছেন সাধারণ বীমা, ঊষা, অ্যাজাক্সেও। টানা দুইবার মোহামেডানকে লিগ চ্যাম্পিয়ন করিয়ে ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নেন অবসর। কয়েকটি ক্লাবের পাশাপাশি কোচিং করিয়েছেন জাতীয় দলেরও। দুই বছর কোচ ছিলেন সেনাবাহিনীরও, তবে করোনার কারণে এখন আছেন বিশ্রামে।

জামাল হায়দারে বড় ছেলে থাকেন ইংল্যান্ডে। ছোট ছেলে আর নাতি-নাতনি নিয়ে সুখের সংসার হলেও জন্মদিনে জানালেন কিছু আফসোসের কথা, ‘পাড়ার ছেলে হয়েও আরমানিটোলা স্কুলের হয়ে খেলতে পারিনি। ১৯৮৫ সালে চোটের জন্য খেলতে পারিনি দেশের মাটিতে হওয়া এশিয়া কাপ।’ আর হকির স্থবিরতা তাঁকে শেষ বয়সে খুব কষ্ট দেয়, ‘প্রচুর টাকা আর সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে কেউ এগিয়ে এলেই কেবল ঘুরে দাঁড়াবে খেলাটা।’ জন্মদিনে এই চাওয়াটুকু পূরণ হবে তো জামাল হায়দারের?