kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

প্রশিক্ষণের জন্য অর্থ চায় অ্যাথলেটিকস

১৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : সাধ আছে সাধ্য নেই অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের। তারা একটি একাডেমি করতে চায়, নামও ঠিক করে রেখেছে, ‘শেখ কামাল একাডেমি’। কিন্তু সেই একাডেমি তৈরির অর্থ তাদের নেই।

মোহাম্মদ ইসমাইল, মাহফুজুর রহমানের মতো অ্যাথলেটদের আগামী এসএ গেমসে সোনা জেতার মতো করে তৈরি করতে চায় ফেডারেশন। স্প্রিন্ট ও হাই জাম্পে তার জন্য অন্তত দুজন বিদেশি কোচ চাই তাদের। কিন্তু সেই কোচের খরচ জোগানোর অর্থও তাদের নেই।

ফেডারেশন কর্মকর্তাদেরই দায়িত্ব এই অর্থের সংস্থান করা, কিন্তু সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব বলছেন, ‘বাংলাদেশের বাস্তবতায় অ্যাথলেটিকসের মতো খেলার জন্য পৃষ্ঠপোষক খুঁজে পাওয়া যায় না। আমরা একরকম নিরুপায়।’ অর্থের জন্য তাই তাকিয়ে তিনি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায়, ‘সরকারের সরাসরি পৃষ্ঠপোষণা ছাড়া অ্যাথলেটিকসের মতো খেলাগুলোকে এগিয়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। বিদেশি একজন কোচ আনতে হলে পাঁচ-ছয় হাজার ডলার করে দিতে হবে তাঁকে। তার ওপর ক্যাম্পের খরচ। সব চালানোর মতো সামর্থ্য আমাদের নেই।’ স্থানীয় কোচ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণেও সুফল মিলবে না বলে ধরেই নিয়েছেন তিনি, ‘আমাদের স্থানীয় কোচরা যা দেওয়ার দিয়েছেন। তাঁদের হাতেই তৈরি আজকের ইসমাইল, শিরিন বা মাহফুজ। কিন্তু ওদের লেভেলটা আর এক ধাপ বাড়াতে হলে আমাদের বিদেশি প্রশিক্ষকের কাছে যেতেই হবে।’ সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য চেয়ে ক্রীড়া পরিষদের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেও এখনো পর্যন্ত কোনো সাড়া পাননি বলেই জানিয়েছেন, ‘এনএসসি (জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ) আমাদের বাৎসরিক যে বরাদ্দ দেয় তা স্থানীয় খেলাধুলা আয়োজন, প্রতিভা অন্বেষণেই ব্যয় হয়ে যায়। ইসমাইল, মাহফুজদের ‘হাই পারফরম্যান্স ট্রেনিং’-এর জন্য প্রয়োজন বিশেষ কিছু। শুধু অ্যাথলেটিকসই নয়, এসএ গেমস বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে লক্ষ্য ধরলে অন্যান্য ডিসিপ্লিনেরও সম্ভাবনাময় অ্যাথলেটদের বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়াটা খুবই জরুরি। মন্ত্রণালয়ের উচিত এর ওপর নজর দেওয়া।’

অ্যাথলেটিকসের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে স্প্রিন্ট ও হাই জাম্পকেই সম্ভাবনাময় মনে করছেন রকিব। হাই জাম্পে গত এসএ গেমসে রুপা জিতেছেন মাহফুজ। মেয়েদের হাই জাম্পে গত জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন রিতু আক্তার, যা দক্ষিণ এশীয় আসরে পদক জেতার মতো। স্প্রিন্টে শিরিন আক্তার এবারের বাংলাদেশ গেমসে নতুন রেকর্ড গড়েছেন ২০০ মিটারে। দ্রুততম মানব মোহাম্মদ ইসমাইলও নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার অপেক্ষায়। এই অ্যাথলেটদের নিয়ে সামনে দুটি পথ খোলা দেখেন রকিব। এক. এভাবেই সম্ভাবনা জাগিয়ে এসএ গেমসে পদকের কাছাকাছি বা কোনো পদক জেতা। দ্বিতীয় পথটি হলো উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুরোপুরি তৈরি হয়ে সোনা জয়ের চ্যালেঞ্জটা নেওয়া। রকিব সেই চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন, ‘যেমন চাই, তেমনিভাবে ওরা প্রশিক্ষণের সুযোগ পেলে আগামী এসএ গেমসে দুটি সোনা জয়ের চ্যালেঞ্জ দিতে পারি আমি।’