kalerkantho

রবিবার। ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৬ মে ২০২১। ০৩ শাওয়াল ১৪৪২

এবারই সেরা সুযোগ দেখছে পিএসজি

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এবারই সেরা সুযোগ দেখছে পিএসজি

অ্যানফিল্ডে আসার পথে লিভারপুল সমর্থকদের ক্ষোভের মুখে পড়ে রিয়াল মাদ্রিদের টিম বাস। কিছু একটা ছুড়ে ভেঙে দেওয়া হয় জানালার কাচ। জবাবে জিনেদিন জিদানের দল মাঠে ‘পার্ক দ্য বাস’ করে ভেঙেছে লিভারপুল সমর্থকদের হৃদয়ই। গতি কমিয়ে জমাট রক্ষণ দিয়ে ফিরতি লেগের ম্যাচটা ড্র হয়েছে গোলশূন্যতে। দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে এগিয়ে গত ১১ বছরে নবম সেমিফাইনালের টিকিট রিয়ালের। শেষ চারে তাদের প্রতিপক্ষ চেলসি। পোর্তোর কাছে ১-০ গোলে হারলেও দুই লেগ মিলিয়ে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে সাত বছর পর সেমিফাইনালে তারা।

পার্ক দ্য প্রিন্সেসে অন্য ম্যাচে দুটি শট পোস্টে লাগে নেইমারের। আরো দুবার ম্যানুয়েল নয়ারকে একা পেয়েও ব্যর্থ। পিএসজিও ১-০ গোলে হারে বায়ার্নের কাছে। তবু ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস নেইমারেরই। ড্রেসিংরুমেও হয়েছে উৎসব। কারণ দুই লেগ মিলিয়ে ৩-৩ সমতা থাকলেও প্রতিপক্ষের মাঠে বেশি গোলের সুবাদে সেমিফাইনালে পিএসজি। গত ফাইনালে হারের প্রতিশোধ নেওয়ায় আনন্দ বাঁধ ভেঙেছিল তাদের। শেষ চারে পিএসজির প্রতিপক্ষ ম্যানচেস্টার সিটি। টানা তিনবার কোয়ার্টার ফাইনালের অভিশাপ পেছনে ফেলেছে পেপ গার্দিওলার দল। বরুশিয়া ডর্টমুন্ডকে ফিরতি লেগে তারা হারায় ২-১ গোলে, সব মিলিয়ে অগ্রগামিতা ৪-২। দুই লেগেই একটি করে গোল করা ফিল ফোডেন ম্যাচ শেষে বার্তাও দিয়ে রাখলেন পিএসজিকে, ‘এমবাপ্পে, তোমরা প্রস্তুত তো?’ বিবিসি তো লিখেই ফেলেছে, ‘আর্লিং হালান্ডের দাম ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ড হলে ফোডেনের কত?’

অ্যানফিল্ডে বাসের কাচ ভাঙার জন্য রিয়ালের কাছে আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চেয়ে নেয় লিভারপুল। হিলসবরো দুর্ঘটনার ১০৯ বছর পূর্তিতে নীরবতাও পালন করে দুই দল। তবে মাঠে যে লিভারপুল চড়াও হয়ে খেলবে ভালোই জানা ছিল জিনেদিন জিদানের। সের্হিয়ো রামোস, রাফায়েল ভারান, দানি কারভাহাল, লুকাস ভাসকেস না থাকায় মিডফিল্ডার ফেদ ভালভার্দেকে খেলাতে হয়েছে রাইটব্যাক হিসেবে। আর কাসেমিরোর তো জুড়ি ছিল না লিভারপুলের একের পর এক আক্রমণ নসাৎ করায়। মো সালাহ, রবার্তো ফিরমিনোরাও নষ্ট করে গেছেন একের পর এক সুযোগ। উল্টো বেনজিমার একটি শট পোস্টে লেগে না ফিরলে উল্টো হারতে হতো ক্লপের দলকে। ১৫টি শট পোস্টে নিয়ে আর ১১টি কর্নার কাজে লাগাতে না পারায় হতাশ ক্লপ, ‘আমরা ভালো শুরু করেছিলাম, কিন্তু জনতাম না কিভাবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে হয়।’ জিদান কৃতিত্বটা দিলেন শিষ্যদের, ‘প্রথম ১৫ মিনিট ওরা ঝড় তুলবে, আমরা জানতাম সেটা। সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলাম আর সেমিফাইনালে পৌঁছে খুুশি আমরা।’

ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে জুডে বেলিংহাম ১৫ মিনিটে গোল করে আশা দেখাচ্ছিলেন ডর্টমুন্ডকে, কিন্তু ৫৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান রিয়াদ মাহারেজ আর ৭৫ মিনিটে ফিল ফোডেনের গোলে স্বস্তির জয় ম্যানসিটির। এর আগে ২০১৫-১৬ মৌসুমে সেমিফাইনাল খেললেও পেপ গার্দিওলা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার শেষ চারে ম্যানসিটি। তাই খুশি গার্দিওলা, ‘এটা নতুন ইতিহাস নয়, তবে আমরা আরো এগিয়ে যেতে চাই। এই ক্লাব, মালিক, খেলোয়াড় আর সমর্থকদের জন্য খুশি আমি।’

পিএসজিকে টানা দ্বিতীয়বার সেমিফাইনালে নিয়ে যাওয়ায় খুশি নেইমারও। মেসির ছায়া থেকে বের হতে ২০১৭ সালে প্যারিসে আসা তাঁর। বায়ার্নকে ছিটকে দেওয়ার পর তাঁর উচ্ছ্বাস, ‘আমাদের দলটা দারুণ। মার্কুইনোস কথা বলে দলকে উদ্দীপ্ত করেছিল। আজ কী দারুণ খেলেছে দি মারিয়া। আসলে আমাদের সবারই অভিনন্দনপ্রাপ্য।’ গত ফাইনালে হারের পর এবারই শিরোপা জয়ের সেরা সুযোগ দেখছেন কোচ মরিসিও পচেত্তিনো, ‘আমি উপভোগ করছি মুহূর্তটা। শেষ চারের সব দলই দুর্দান্ত। আমরা ছন্দে থাকায় বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতেই পারি।’

৪০ মিনিটে চুপো মোতিংয়ের হেডে এগিয়ে গিয়েছিল বায়ার্ন। এই গোলে প্রথমবার প্যারিসে জিতলেও সেমিফাইনালের জন্য জিততে হতো ২-০ ব্যবধানে। তাই বায়ার্ন অধিনায়ক নয়ারের হতাশা, ‘ক্ষতিটা আগেই হয়ে গিয়েছিল। ১-০ গোলের জয় যথেষ্ট ছিল না। আমরা ভয়ংকর ছিলাম, কিন্তু ওরাও ছিল যোগ্য প্রতিপক্ষ।’