kalerkantho

শনিবার । ২৫ বৈশাখ ১৪২৮। ৮ মে ২০২১। ২৫ রমজান ১৪৪২

প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ

১৬ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রস্তুতিতে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সফরে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচ প্রস্তুতি নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি অনেকেই। কারণ দলের বেশির ভাগ সদস্যই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টির সফরে ছিলেন নিউজিল্যান্ডে। তবে টেস্ট বিশেষজ্ঞরা দেশে জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দুই রাউন্ড খেলে প্রস্তুত করেছেন নিজেদের। তাঁদের মধ্যে কারো কারো প্রস্তুতি হয়েছে অন্য যে কারো চেয়ে বেশি। যেমন সাইফ হাসান ও ইয়াসির আলী চৌধুরী।

তাঁরা এনসিএলের দুটি করে রাউন্ডই শুধু খেলেননি, এর আগে সফরে আসা আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে খেলেছেন একটি আনঅফিশিয়াল টেস্টও। দুজনের মধ্যে সাইফ দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই টেস্ট সিরিজের স্কোয়াডেও ছিলেন। তবে খেলা হয়নি একটি ম্যাচও। কেন হয়নি, সেটিও প্রশ্নের ঊর্ধ্বে নয়। কারণ চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে তামিম ইকবালের সঙ্গে ওপেন করা সাদমান ইসলাম চোটের কারণে ছিটকে পড়ায় পরের ম্যাচে সাইফেরই সুযোগ পাওয়ার কথা। কিন্তু সাকিব আল হাসানের চোটে ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টের দলে আসা সৌম্য সরকার ওপেন করেন তামিমের সঙ্গে। তাতে ক্যারিয়ারের তৃতীয় টেস্ট খেলার জন্য সাইফের অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হলেও প্রস্তুতি থেমে ছিল না। সেই সঙ্গে ব্যাটে রানও ছিল। আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরিও করেছিলেন। এরপর বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচেও তিন অঙ্ক পেরোনো ইনিংস, রংপুরের বিপক্ষে এনসিএলের প্রথম রাউন্ডেই। সম্প্রতি জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ না পেলেও তাই প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি ছিল না এই ওপেনারের। দুটি সেঞ্চুরিসহ রানে থাকায় আত্মবিশ্বাসের দিক থেকেও আছেন ভালো জায়গায়ই। দুইয়ে মিলে শ্রীলঙ্কায় এবার সুযোগ পেলে তা কাজে লাগানোর বিশ্বাসও গভীর সাইফের। শ্রীলঙ্কায় তিন দিনের রুম কোয়ারেন্টিন শেষ করে বাংলাদেশ দলের গতকাল থেকে অনুশীলনে নেমে পড়ার দিন সেই বিশ্বাসের কথাই বললেন এই তরুণ।

১২ এপ্রিল শ্রীলঙ্কা পৌঁছানোর পর মমিনুল হকদের নিয়ে তোলা হয়েছিল রাজধানী কলম্বোর অদূরে নেগোম্বোর হোটেলে। সেখানে তিন দিন রুমবন্দি হয়ে থাকা ক্রিকেটাররা কাল এসেছেন খোলা হাওয়ায়। এর আগে দ্বিতীয় করোনা পরীক্ষায়ও সবাই নেগেটিভ হয়েছেন। নেগোম্বোর কাছেই কাতুনায়েকের সিএমসিসি মাঠে অনুশীলন করেছে দল। সেখানে ১৭-১৮ এপ্রিল নিজেদের মধ্যে প্রস্তুতি ম্যাচও আছে। ২১ এপ্রিল থেকে ক্যান্ডির পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে প্রথম টেস্টের আগে এই ম্যাচটিও কাজে লাগানোর তাগিদ শোনা গেল সাইফের কণ্ঠে। কভিডের কারণে স্থানীয় নেট বোলারও যখন পাওয়া যাচ্ছে না, তখন প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপহীন ম্যাচ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিসিবির পাঠানো ভিডিও বার্তায় সাইফ বললেন, ‘আমাদের সামনে যে প্রস্তুতি ম্যাচটি আছে, তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। একটিই সুযোগ আমাদের এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার। উইকেট কেমন হতে পারে, এই ম্যাচটি খেলে আমাদের বুঝতে হবে। আমার মনে হয়, প্রতিটি অনুশীলন সেশন আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি দিনও। যত কাজে লাগানো যায়, তত ভালো।’

কাজে লাগাতে চান দেশে তাঁর প্রস্তুতির আত্মবিশ্বাসও, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের সময়ও খুব ভালো প্রস্তুতি চলছিল আমাদের। আমরা যারা বাইরে ছিলাম, খুব ভালো অনুশীলন হয়েছে। এরপর আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যখন খেলেছি, ওখানেও ভালো একটি সিরিজ হয়েছে। এখানে আসার আগে জাতীয় লিগেও খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে। সব মিলিয়ে খুব ভালো প্রস্তুতি। আশা করি, ওই পারফরম্যান্সগুলো এখানেও কাজে লাগবে। কারণ রান করলে আত্মবিশ্বাস থাকে।’



সাতদিনের সেরা