kalerkantho

রবিবার । ২৬ বৈশাখ ১৪২৮। ৯ মে ২০২১। ২৬ রমজান ১৪৪২

স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মিশন

সাইদুজ্জামান   

১৪ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বস্তি ফিরিয়ে আনার মিশন

টানা ব্যর্থতায় কাঁধ ঝুলে পড়ে। দলীয় সংহতি, আত্মনিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। হঠাৎ অসুখী হয়ে পড়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ভেতরে একে অন্যের ঘাড়ে দায় চাপানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায়। অসুস্থ এ প্রতিযোগিতার ময়দানে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শ্রীলঙ্কায় এবারের সফরে মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠা ‘অসুখ’টাও সারাতে হবে।

দায়িত্বটা আপাতত টিম লিডার হিসেবে দলের সঙ্গে যাওয়া বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাহমুদের। ‘মাত্রই দুই দিন হলো দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। তার মধ্যে এখানে (নেগোম্বো) এসেই তো রুমবন্দি। পরশু রুম থেকে বের হতে পারব। এরপর দলটাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হবে’, গতকাল টেলিফোনে বলছিলেন মাহমুদ।

বাংলাদেশ দলের সঙ্গে তাঁর সরাসরি যোগাযোগ কম দিনের নয়। খেলা ছাড়ার পর বিভিন্ন মেয়াদে প্রায় সাড়ে চার বছর ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন। জাতীয় দলের সুসময় এবং দুঃসময়েরও সাক্ষী মাহমুদ। সেই অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, ‘আমি যখন প্রথম জাতীয় দলে খেলি, তখন গর্ডন (গ্রিনিজ) কোচ। উনি যেটা বলতেন, সেটাই শিরোধার্য মনে করতাম। বিদেশি কোচদের সঙ্গে কিছু জড়তা ছিল। হাই প্রফাইল কোচ হলে আমরা আরো গুটিয়ে থাকতাম। এখন কিন্তু পরিস্থিতি অনেক বদলেছে। একজন হেড কোচের অধীনে সব ডিপার্টমেন্টের জন্য আলাদা কোচ আছে। এখনকার ছেলেরাও বিদেশি কোচদের সঙ্গে অনেক স্বচ্ছন্দ। আপনি যদি তামিমের (ইকবাল) কথাই বলেন, কোচের কাছ থেকে ও কিন্তু ওর প্রয়োজনটা ঠিকই আদায় করে নেবে।’

কিন্তু ক্রিকেটারদের সবার ‘প্রফাইল’ তো আর এক না। তামিম কিংবা সাকিব আল হাসানের সমান গুরুত্ব কি বাকি ক্রিকেটাররা পান বিদেশি কোচিং স্টাফদের কাছে? ‘আগেই বলেছি, এখন কোচিং স্টাফ অনেক বড়। গর্ডন কিংবা ডেভ হয়তো সময়ই পেত না দলের সবাইকে সমান মনোযোগ দেওয়ার। এখন কিন্তু সেই সমস্যা নেই। আমি বিশ্বাস করতে চাই না, কোচরা এমন বৈষম্য করেন। তবে এবার তো কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাব’, আর ৪৮ ঘণ্টা পর থেকে সে মিশন শুরু হবে খালেদ মাহমুদের।

তবে তাঁর কানেও গেছে। শ্রীলঙ্কায় দুই টেস্টের সিরিজের জন্য দল নির্বাচনী সভায় কোচিং স্টাফের এক বিদেশি সদস্য কয়েকজন ক্রিকেটারের আত্মনিবেদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আড়ালে করা এই সমালোচনা সম্ভবত পছন্দ হয়নি মাহমুদের, ‘দেখুন, আমি নিজেও কোচিং করি। আমার দলে যারা আছে, তারা সবাই দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলেই আছে। এখন আমি যদি সেই দলের কারো ওপর আস্থা না রাখি কিংবা কেউ যদি আমার কোচিংয়ে আস্থা না রাখে, তাহলে ভালো ফল করা অসম্ভব। আমি যদি আমার ছাত্রদের সমস্যা ওদের ধরিয়ে না দেই, তাহলে ও শুধরাবে কী করে? আড়ালে ওদের নিন্দা-মন্দ করে দলের কোনো লাভ হবে না। আমি মনে করি, কোচদের এমন কোনো পর্যবেক্ষণ থাকলে সফরের পর সেটি বোর্ডে রিপোর্ট করা উচিত।’

এ দেশের ক্রিকেট সংস্কৃতিতেই অবশ্য এমন অবিশ্বাস মিশে। খেলোয়াড়রা ভয় করেন বিদেশি কোচদের, আবার আস্থা নেই বোর্ড কর্মকর্তাদের ওপর। কারণ ঐতিহাসিকভাবেই বিদেশি কোচদের বাড়তি সমীহ করে আসছে বোর্ড। সেটি চরম পেশাদার বিদেশি কোচও এ দেশে পা রেখে কিছুদিনের মধ্যেই বুঝে ফেলেন। এবং পরবর্তীতে এই সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন। দলের শীর্ষ তারকাদের পিঠে হাত বুলিয়ে আর বিসিবির ঊর্ধ্বতনদের খুশি রেখে চাকরির নিরাপত্তা খোঁজার অভিযোগ আছে অনেক বিদেশির বিপক্ষেই।

হাতের তালুর মতো চেনা দেশীয় ক্রিকেট সংস্কৃতির এই ধারাটির সঙ্গে অপরিচিত নন মাহমুদ, ‘আমি অতীত ঘাঁটতে চাই না। বোর্ড আমাকে বিশেষ একটি দায়িত্ব দিয়েছে। সেটি খুব পরিষ্কার। দলের কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি চিহ্নিত করা। আপনি তারকা ক্রিকেটার নাকি বেশি বেতনের বিদেশি কোচ—সেসব বিবেচনা করার দিন আর নেই। এখানে যারা এসেছে, প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ। সবাই যেন সেটাই মনে করে।’ তাতে যদি সুখ ফেরে বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমে!



সাতদিনের সেরা