kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

প্যারিসে বায়ার্নের অগ্নিপরীক্ষা

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্যারিসে বায়ার্নের অগ্নিপরীক্ষা

অজেয় হয়ে উঠেছিল বায়ার্ন মিউনিখ। গত মৌসুমে জিতেছে সম্ভাব্য ছয় শিরোপার সবগুলো। সেই বায়ার্নই এখন দেখছে মুদ্রার উল্টো পিঠ। জার্মান কাপের দ্বিতীয় রাউন্ড থেকেই বিদায় নিয়েছে এ বছর। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেও ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় এখন। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে নেইমার-এমবাপ্পেদের কাছে হেরেছে ৩-২ গোলে। আজ প্যারিসে ফিরতি লেগে তাই অগ্নিপরীক্ষায় হানসি ফ্লিকের দল। পার্ক দ্য প্রিন্সেসে অন্তত দুই গোলের ব্যবধানে না জিতলে দর্শক হয়ে যেতে হবে এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগে।

অন্য ম্যাচে পোর্তোর মুখোমুখি হচ্ছে চেলসি। করোনার কারণে স্টাম্পফোর্ড ব্রিজের বদলে তাদের ‘হোম ম্যাচ’ খেলতে হচ্ছে স্পেনের সেভিয়ায়। প্রথম লেগে ২-০ গোলে জিতে সেমিফাইনালের দুয়ারে টমাস টুখেলের দল। ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর আর সেমিফাইনাল খেলা হয়নি চেলসির। ২৫০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচে নতুন দল গড়ে সেই অতৃপ্তি পেছনে ফেলার স্বপ্ন দেখতেই পারে ইংলিশ দলটি।

গত ১০ বছরে মাত্র একবার কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে যেতে পারেনি বায়ার্ন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের পর আবারও সেই শঙ্কায় জার্মান ঐতিহ্যবাহী দলটি। টানা ১৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার যাত্রাটি প্রথম লেগে থামিয়েছে পিএসজি। কিলিয়ান এমবাপ্পে বড় মঞ্চে জ্বলে উঠেছিলেন আরো একবার। শেষ ষোলোতে ন্যু ক্যাম্পে হ্যাটট্রিকের পর কোয়ার্টার ফাইনালে অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায়ও করেছেন জোড়া গোল। দুটি অ্যাসিস্ট ছিল ২২২ মিলিয়ন ইউরোয় পিএসজিতে আসা নেইমারের। এই দুজন আর একবার জ্বলে উঠলে পুড়ে ছাই হতে হবে বায়ার্নকে।

দলের প্রাণভোমরা রবার্ত লেভানদোস্কির না থাকাটা এমনিতেই বড় ধাক্কা বায়ার্নের। পাশাপাশি অনিশ্চিত সার্জ জেনাব্রি, জেরোম বোয়াটেং, লিয়ন গোরেত্জকাদের একাদশে থাকা। পক্ষে নেই ইতিহাসও। প্যারিসে এখনো পিএসজিকে হারানোর স্বাদ পায়নি তারা। সর্বশেষ ২০১৭-১৮ মৌসুমের গ্রুপ পর্বে এই স্টেডিয়ামে খেলা ম্যাচে হেরেছিল ৩-০ গোলে। এমনকি সর্বশেষ গোলটিও ১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে। ৩-১ ব্যবধানে হারা সেই ম্যাচে বায়ার্নের পক্ষে একমাত্র গোলটি মার্কাস বাবেলের। এই দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলার চ্যালেঞ্জ নিয়েই প্যারিসে হানসি ফ্লিকের দল। প্রস্তুতিটা অবশ্য ভালো হয়নি। বুন্দেসলিগায় ইউনিয়ন বার্লিনের বিপক্ষে সর্বশেষ খেলা ম্যাচটি ড্র করেছে ১-১-এ। আর পিএসজি ৪-১ গোলে স্ট্রাসবুর্গকে বিধ্বস্ত করে বার্তাই দিয়ে রেখেছে বায়ার্নকে। আজ জিতলে এমনকি ড্র করলেও প্রতিশোধ নেওয়া হবে গত মৌসুমের ফাইনালের হারের।

২০১১-১২ মৌসুমে ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছিল চেলসি। রানার্স আপ হয়েছিল ২০০৮ সালে। এরপর ২০১৩-১৪ মৌসুমের সেমিফাইনাল খেলাই সেরা পারফরম্যান্স ইংলিশ দলটির। আজ পোর্তোর বিপক্ষে ১-০ গোলে হারলেও শেষ চারের টিকিট পাবে তারা। পোর্তো এবার শেষ ষোলো থেকে বিদায় করে দিয়েছে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের জুভেন্টাসকে। তবে ২০০৩-০৪ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর এই টুর্নামেন্টে কোয়ার্টার ফাইনালের দেয়াল আর টপকাতে পারেনি পর্তুগিজ দলটি। চেলসির বাধাটা আজ টপকাতে পারবে কি? ইএসপিএন