kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৮। ১৮ মে ২০২১। ৫ শাওয়াল ১৪৪

ফেলে আসা সেই সময়ে ফেরার আকুতি

১৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফেলে আসা সেই সময়ে ফেরার আকুতি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : পারফরম্যান্সের এমন এক আকাল চলছে যে না পারছেন সিনিয়র ক্রিকেটাররা, না পারছেন জুনিয়ররাও! একসঙ্গে সবাই জ্বলে উঠবেন না স্বাভাবিক। তাই বলে কারো ব্যাটে-বলেই ম্যাচ জেতানো আলোর দ্যুতি ছড়াবে না? অমীমাংসিত এই রহস্যের জট খোলার আগেই দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে গতকাল শ্রীলঙ্কায় গেল বাংলাদেশ দল। দুপুর একটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইট ধরার আগে ‘টিম লিডার’ খালেদ মাহমুদের মনে পড়ে গেল ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা, যখন দলের কনিষ্ঠতম ক্রিকেটারও বুক চিতানো লড়াইয়ে অনন্য জয়কাব্য লিখেছেন। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকার এই বড্ড বাজে সময়ে সেই দিনগুলো ফিরে পাওয়ার প্রবল আকুতিও ঝরল তাঁর কণ্ঠে।

কিছুদিন ধরে বড়রা যখন ব্যর্থ, তখন ছোটদের দায়িত্ব নেওয়ার অক্ষমতাও নজর এড়ায়নি কারো। তা নিয়েও প্রশ্নের ঝোড়ো হাওয়া বইছে। মাহমুদের বিস্ময়টা এখানেই যে তারুণ্যের শক্তিতে পরাক্রমশালী দলকেও মাটিতে নামানোর ঘটনা খুব পুরনো নয়। উদাহরণ হিসেবে এই সাবেক অধিনায়ক টানলেন মেহেদী হাসান মিরাজকে, ‘ভালো খেলার দায়িত্ব সবারই। এর আগে আমরা দেখেছি, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মিরাজের অনবদ্য পারফরম্যান্স। এটি সবারই মনে রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারে মিরাজ। তরুণ বয়সেই সে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশকে টেস্ট জিতিয়েছে।’

২০১৬-র অক্টোবরে মিরপুরে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের নাকাল করে ছাড়া এই অফস্পিনার ম্যাচে নিয়েছিলেন ১২ উইকেট। সেটি ছিল তাঁর মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট। এর আগের টেস্টেই চট্টগ্রামে মিরাজের আন্তর্জাতিক অভিষেকেও জয়ের দুয়ার ঘুরে এসেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচেও ৭ শিকার ধরা তরুণই ঢাকায় জয়ের নায়ক। ১৯ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরা খেলোয়াড়ের মুকুটও উঠেছিল তাঁর মাথায়। ইংল্যান্ডকে হারানোর সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ধরা দিয়েছিল আরো কিছু বড় জয়। পরের বছর দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ারও দর্প চূর্ণ করা বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে জিতেছিল নিজেদের শততম টেস্টেও।

দুপুর একটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের চার্টার্ড ফ্লাইট ধরার আগে ‘টিম লিডার’ খালেদ মাহমুদের মনে পড়ে গেল ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা, যখন দলের কনিষ্ঠতম ক্রিকেটারও বুক চিতানো লড়াইয়ে অনন্য জয়কাব্য লিখেছেন। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকার এই বড্ড বাজে সময়ে সেই দিনগুলো ফিরে পাওয়ার প্রবল আকুতিও ঝরল তাঁর কণ্ঠে।

এবার যখন বাজে সময় পেছনে ফেলার চ্যালেঞ্জ নিয়ে আবার সেই শ্রীলঙ্কায়, তখন অতীতের সাফল্য থেকেই লড়াইয়ের জ্বালানি খুঁজে নিতে চাইলেন মাহমুদ, ‘আমাদের সব ক্রিকেটারেরই সামর্থ্য আছে। এই জিনিসটি মাথায় নিয়েই ইতিবাচক ও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হবে। আমি সব সময় ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার কথা বলি। মনোভাব অনেক গুরুত্বপূর্ণ। যে মনোভাব আমি দেখেছি দুই বছর আগেও (২০১৬-১৭’র সাফল্য ধরলে চার-পাঁচ বছর আগে)। সেরকমটা দেখতে চাই, মাঠে লড়াই করবে। ফল কী হবে, পরে দেখা যাবে। কিন্তু আমরা লড়াই করতে চাই।’

সে জন্য সিনিয়র-জুনিয়র ক্রিকেটারের দায়িত্বে কোনো কমবেশিও দেখতে চান না বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) এই পরিচালক, ‘আমার কাছে সবাই সমান। যদিও তামিম, মুশফিক ও মমিনুলদের অভিজ্ঞতা অনেক। তার পরও দায়িত্ব সবার সমান। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে দিয়ে আপনি যখন নামবেন, তখন সবার একই রকম দায়িত্ব।’ ক্রিকেটাররা সেটি কতটা অনুধাবন করতে পারলেন, এর জবাব মিলতে শুরু করবে ২১ এপ্রিল টেস্ট সিরিজ শুরু হয়ে গেলেই। এর আগে গতকাল বিকেলে কলম্বো পৌঁছানোর পর কভিড পরীক্ষাও হয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের বিশাল বহরের। আপাতত তাঁদের ঠিকানা কলম্বোর অদূরে নেগোম্বোর হোটেল। সেখানে তিন দিনের রুম কোয়ারেন্টিন শেষে প্রস্তুতির সুযোগ মিলবে মমিনুলদের। ১৭-১৮ এপ্রিল নিজেদের মধ্যে খেলবে একটি দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচও। এর পরই শুরু ফেলে আসা সময়ে ফেরার লড়াই।