kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

‘স্পেশালিস্ট’দের গুরুত্ব মিলবে এবার?

১২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : সৌম্য সরকার দৃশ্যপটেই ছিলেন না, কিন্তু শাদমান ইসলাম চোট পাওয়ায় উড়িয়ে এনে খেলানো হয়েছিল তাঁকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টটিও তাই ড্রেসিংরুমে বসেই দেখতে হয়েছিল স্পেশালিস্ট ওপেনার সাইফ হাসানকে। অভিজ্ঞতা আর বোলিং বিকল্পের ধোয়া তুলে স্কোয়াডের বাইরে থেকে এনে খেলিয়ে দেওয়া হয়েছিল সৌম্যকে।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে এটাই একমাত্র উদাহরণ নয়। সেই ব্যাটসম্যান অগ্রাধিকার পান, যিনি সামান্য বোলিংও জানেন। বোলার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায় তাঁর ব্যাটিং সামর্থ্য! তাতে দেখা যায় ব্যাটসম্যান হিসেবে স্বীকৃত কেউ খণ্ডকালীন বোলিংয়ে উইকেট পেয়ে যাচ্ছেন আর রান করছে লোয়ার অর্ডার। তাতে কাজের কাজ কিছু হয় না। খণ্ডকালীন বোলার উইকেট পান তখনই, যখন প্রতিপক্ষ বড় ইনিংস গড়ে ফেলে। লোয়ার অর্ডারে রান বেশি করা দলের পুঁজিও হয় যৎসামান্য।

তবে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেটের অন্দরমহলে স্পেশালিস্ট ক্রিকেটারদের ব্যাপারে আগ্রহ বৃদ্ধির ফিসফাস শোনা যাচ্ছে। গতকাল যেমন উইকেটরক্ষক নির্বাচনে স্পেশালিস্টদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক, ‘টেস্ট ম্যাচে সব সময়ই ভালো উইকেটরক্ষণটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় এটাকেই (স্পেশালিস্ট) গুরুত্ব দেব বেশি।’

গতকাল যেমন উইকেটরক্ষক নির্বাচনে স্পেশালিস্টদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মমিনুল হক, ‘টেস্ট ম্যাচে সব সময়ই ভালো উইকেটরক্ষণটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছে মনে হয় এটাকেই (স্পেশালিস্ট) গুরুত্ব দেব বেশি।’

আধুনিক ক্রিকেটের উইকেটরক্ষক প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও দলের হাল ধরা জানতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেটে এর চর্চাটা এমনই একতরফা যে, ব্যাটিং সামর্থ্যের বিনিময়ে উইকেটরক্ষণ দক্ষতায় কমতির সঙ্গে আপস করে ফেলে। সম্প্রতি সে ধারা থেকে কিছুটা বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ, টেস্টের গ্লাভস তুলে দেওয়া হয়েছে লিটন কুমার দাসের হাতে। আরো আশার কথা, শ্রীলঙ্কা সফরের জন্য ঘোষিত ২১ জনের স্কোয়াডে তর্কাতীতভাবে দেশের সেরা উইকেটরক্ষকের নামও আছে; তিনি নুরুল হাসান।

অধিনায়ক মমিনুল কি স্পেশালিস্টদের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার যুক্তিতে নুরুল হাসানকে টেস্টে ফেরার পথ করে দেবেন? কিন্তু তাঁর ব্যাটিংয়ে আস্থা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের। যদিও ২০১৭ সালে ক্রাইস্টচার্চে টেস্ট অভিষেকে ৪৭ রান করেছিলেন নুরুল হাসান। সর্বশেষ দুটি টেস্ট ২০১৮ সালে, ওয়েস্ট ইন্ডিজে। শেষ টেস্টের দুই ইনিংসেই ‘গোল্ডেন ডাক’ পাওয়া নুরুলের একটি ফিফটিও আছে ওই সিরিজে। মজার ব্যাপার হলো, তাঁর ৬৪ রানের ইনিংসটিই ওই সফরে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ স্কোর।

কিন্তু নুরুলের ব্যাটিং সামর্থ্যে বিশ্বাস আছে অনেকের। তবে তিনি স্পেশালিস্ট উইকেটরক্ষক, যিনি লোয়ার অর্ডারে কিছু রান করার সামর্থ্যও রাখেন। তা ছাড়া কিপিংয়ের ক্লান্তি কাটানোর যুক্তিতে সাতে নামিয়ে লিটনের ব্যাটসম্যানশিপকে অপচয় করা হচ্ছে কি না, সেটিও ভাবার সময় এসেছে।