kalerkantho

শুক্রবার। ৩১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ মে ২০২১। ০২ শাওয়াল ১৪৪২

স্বর্ণকন্যার পূর্ণতা-অপূর্ণতার গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

১১ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্বর্ণকন্যার পূর্ণতা-অপূর্ণতার গল্প

সোনার কন্যার ১৫ বছরের সাঁতারজীবনে এমন তৃপ্তির দিন আর আসেনি। আট সোনা ও তিন রুপায় রাঙানো বঙ্গবন্ধু নবম বাংলাদেশ গেমস স্মরণীয় হয়ে থাকবে সোনিয়া আক্তার টুম্পার জীবনে। গেমসের সেরা অ্যাথলেট ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে খানিকটা অপূর্ণতার আক্ষেপেও পোড়েন। আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক জেতেননি যে!

সোনিয়া আক্তার গেমসের সেরা অ্যাথলেট হওয়ার আনন্দে ভেসে যাচ্ছেন। শুরুতে এই চ্যাম্পিয়ন সাঁতারু এতটা ভাবেননি, ‘অনেক দিন পর এতগুলো ইভেন্ট করলাম। মাঝে আমার অনুশীলনের ঘাটতি ছিল, জুনাইনাও ভালো করছিল। এ কারণে গতবার কম ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলাম। এবার স্বল্প সময়ে অনেক পরিশ্রম করেছি, নিজেকে তৈরি করেছি গেমসের জন্য। তবে এতটা ভালো হবে, ভাবিনি। নিজের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছি, সুফলও পেয়েছি পুলে। আমি খুব খুশি।’

৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সোনা জিতে শুরু করেন নৌবাহিনীর এই সাঁতারু। এরপর ২০০ মিটার বাটারফ্লাই, ৮০০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল, ৪০০ মিটার ব্যক্তিগত মিডলে রিলে নিয়ে মোট পাঁচ ইভেন্টে তিনি এককভাবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। বাকি তিনটি সোনা জেতেন রিলেতে—৪ গুণিতক ১০০ মিটার মিডলে, ৪ গুণিতক ২০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও ৪ গুণিতক ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে ইভেন্টে। সঙ্গে তিনটি রুপাও আছে তাঁর।

২০০৭ সালে ঝিনাইদহের এই স্বর্ণকন্যার ক্যারিয়ার শুরু হয় জাতীয় সাঁতারে। এরপর সুইমিং পুলে ঝড় তুলে এগিয়ে গেছেন। এখন ২৬ বছর বয়সে দাঁড়িয়ে মনে করেন, ‘আরো ভালো ট্রেনিং পেলে হয়তো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভালো করতে পারতাম। আমাদের সাঁতারে এটার বড় অভাব।’ সাঁতারে আন্তর্জাতিক অঙ্গন রাঙিয়েছেন শুধু মাহফুজা খাতুন শিলা, ২০১৬ সালে গুয়াহাটি-শিলং এসএ গেমসে দুটি সোনা জিতে। এর আগে-পরে কোনো মেয়ে সাঁতারুই সোনার রঙে রাঙাতে পারেননি নিজেকে। সোনিয়া আক্তারের আছে একটি ব্রোঞ্জ, সেটাও শিলং-গুয়াহাটি এসএ গেমসে। ‘আসলে আমাদের দেশের মেয়ে সাঁতারুদের পক্ষে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সোনা জেতা কঠিন। কারণ আমাদেরকে সেভাবে তৈরি করা হয় না। আমার কথাই বলি, নিজে সেভাবে তৈরি হলে কখনো এতগুলো ইভেন্ট আমি করতাম না। আন্তর্জাতিক লক্ষ্য থাকলে নির্দিষ্ট কয়েকটি ইভেন্ট নিয়েই পড়ে থাকতাম। কিন্তু আমাদের সেভাবে গড়ে ওঠার সুযোগ নেই’, নিজেদের ওপরও দায় নিয়েছেন সোনিয়া। 

সাঁতারুরা সাধারণত দরিদ্র পরিবার থেকেই আসেন, কিন্তু তাদের নিয়ে সাঁতার ফেডারেশনের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা থাকে না। তাঁদের সামর্থ্যকে আন্তর্জাতিক মানে তুলে নেওয়ার জন্য কোনো কাজও হয় না। ছেলেদের বৃত্তি দিয়ে বিদেশে ট্রেনিংয়ে পাঠানো হলেও মেয়ে সাঁতারুদের সেই সুবিধা দেওয়া হয় না। সেই কৈশোর থেকেই তারা পুলে ঝাঁপাতে থাকেন সবগুলো ইভেন্টে। অথচ বহির্বিশ্বে নির্দিষ্ট ইভেন্টের জন্য স্পেশালিস্ট সাঁতারু তৈরি করা হয়। ‘বিশেষ ইভেন্টের জন্য তৈরি হলে অবশ্যই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমাদের মেয়েরা ভালো করত। এ জন্য ছোটবেলা থেকেই বিশেষ ট্রেনিং দরকার হয়, একদম বিজ্ঞানভিত্তিক ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে তৈরি হতে হয়। আমার সেই সৌভাগ্য হয়নি, নইলে হয়তো দু-একটি আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদকও থাকত ক্যারিয়ারে’, এই অপূর্ণতাটুকু থেকেই যাচ্ছে জাতীয় পর্যায়ে দারুণ সফল এই সাঁতারুর ক্যারিয়ারে।