kalerkantho

মঙ্গলবার । ১ আষাঢ় ১৪২৮। ১৫ জুন ২০২১। ৩ জিলকদ ১৪৪২

নিজের ওপর অনেক চাপ নিয়ে ফেলেছি

১৩ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নিজের ওপর অনেক চাপ নিয়ে ফেলেছি

দেশসেরা আর্চার, টোকিও অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন করা বাংলাদেশের একমাত্র খেলোয়াড় রোমান সানা অলিম্পিকের আগে আগে কিনা নিজের সেরা ফর্মে নেই। একের পর এক টুর্নামেন্টে হতাশ করছেন তিনি। রোমান নিজে কী ভাবছেন তাঁর এই পারফরম্যান্স নিয়ে? কিভাবে স্বরূপে ফিরে অলিম্পিকে যেতে চান—এসব নিয়েই শাহজাহান কবির কথা বলেছেন তাঁর সঙ্গে।

প্রশ্ন : এসএ গেমস থেকে ফেরার পর এ পর্যন্ত চারটি ঘরোয়া টুর্নামেন্টে আপনি ভালো করেননি। এর মধ্যে দুটি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আছে, একটি বিজয় দিবস টুর্নামেন্ট আর একটি লিগ। তাতে আপনার যে স্কোর, সেটিই বলছে আপনি আপনার নিজের জায়গায় নেই। তো বাংলাদেশ গেমস দিয়ে কি নিজের সেই জায়গাটায় ফেরার চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন?

রোমান সানা : আমি তো চেষ্টা করছিই। দেখুন, এক বছর কিন্তু কোনো টুর্নামেন্ট ছিল না। পাঁচ-ছয় মাস আমরা পুরোপুরি খেলার বাইরে ছিলাম। একটু সময় লাগবেই। এখন টুর্নামেন্টগুলো নিয়মিত খেলতে পারলে... আরো দু-একটা গেম খেললে... আমার নিজের প্রতি বিশ্বাস আছে যে আমি আমার পুরনো ফর্মে ফিরে আসব।

প্রশ্ন : সময় লাগার কথা বলছেন, কিন্তু আপনাকে নিয়ে মূল ভাবনা তো অলিম্পিককেন্দ্রিক। সেই অলিম্পিকের আগে আপনার হাতে কি পর্যাপ্ত সময় আছে পুরনো ফর্মে ফেরার?

রোমান : হ্যাঁ, অবশ্যই। সময় আছে। সামনে আরো পাঁচ-ছয়টি ইভেন্ট, টুর্নামেন্ট আছে আমাদের। বাংলাদেশ গেমস, ওয়ার্ল্ড কাপ, এশিয়া কাপ, ওয়ার্ল্ড কাপ স্টেজ টু...এ ছাড়া আমাদের স্থানীয় টুর্নামেন্টও আছে। সেগুলো খেলতে পারলে আশা করি সম্ভব। আর অনুশীলনে কিন্তু আমি আমার আগের যে স্কোর ছিল তার কাছাকাছি স্কোর করছি। খুব বেশি তফাত নেই। তবে প্রতিযোগিতার যে আত্মবিশ্বাস, সেটা একদমই চলে গেছে। এখন তা ফিরিয়ে আনতে গেলে বেশি বেশি টুর্নামেন্ট খেলতে হবে। সেই টুর্নামেন্টগুলো এখন যেহেতু নিয়মিত হওয়া শুরু হয়েছে, তাতে খেলতে পারলে আশা করি আত্মবিশ্বাসটা চলে আসবে।

প্রশ্ন : যে আন্তর্জাতিক আসরগুলোর কথা বললেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার সবগুলোই হবে বা তার সবগুলোতে আপনার খেলা কি সম্ভব হবে?

রোমান : হবে আশা করি। এভাবে এখনো পর্যন্ত সব মোটামুটি চূড়ান্ত হয়েছে। এপ্রিলে ওয়ার্ল্ড কাপ, মে মাসে এশিয়া কাপ আছে থাইল্যান্ডে, এরপর আবার চায়নাতে একটা টুর্নামেন্ট। এরপর আরো কয়েকটা... গুয়াতেমালা, প্যারিসে—যেগুলোতে অলিম্পিক কোটা নিয়ে খেলা হবে। ওই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। সেখানে দলগতভাবে আমরা কোয়ালিফাই করতে পারি কি না, সেই চেষ্টা থাকবে। এখন আমার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো আমরা যে দল হিসেবে কাজ করছি সেটা। সেভাবে খেলতে খেলতেই নিজের ফর্মটাও আসবে। এখন প্রত্যেক মাসেই আমাদের জাতীয় দলের মধ্যেই দুটি করে কম্পিটিশন হয়। যেখানে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পুরো আবহ সাজানো থাকে। নিজের ওপর তাই আত্মবিশ্বাস আছে যে আমি খুব দ্রুতই ফিরব। কারণ আমার শ্যুটিং আগের চেয়ে অনেক ভালো হয়েছে। করোনার পর প্রথম দিকে যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিলাম, সেটা কাটিয়ে উঠেছি। ইনজুরির অবস্থাও এখন অনেক ভালো। সব মিলিয়ে তাই আশাবাদী।

প্রশ্ন : কক্সবাজারে ৬৪৪ স্কোর করলেন, এটা কি এই কাঁধের চোটের কারণেই?

রোমান : শুধু চোট সমস্যা না, আমার কনফিডেন্স লেভেলও অনেক কমে গেছে, গেম টেম্পারামেন্ট কমে গেছে। সব কিছু মিলিয়েই খারাপ হয়েছে। ইনজুরি মূল সমস্যা না; শ্যুটিংয়ের সমস্যা ছিল, আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি ছিল। একটা জিনিস যখন হারিয়ে যায়, সেটা ফিরে পেতে গেলে কিন্তু সময় লাগে। কারো কম সময় লাগে কম, কারো বেশি সময় লাগে। আমাদের জুনিয়র যারা ভালো করছে, তাদের কিন্তু হারানোর কিছু নেই। তারা তাদের মতো নির্ভার হয়ে খেলে যাচ্ছে। কিন্তু আমার চারদিক থেকে কিন্তু ভালো একটা কিছু করার চাপ থাকে। দেশ চায়, স্যারেরা চান, আমি নিজেও চাই ভালো কিছু করতে হবে। এভাবেই হয়তো আমি বেশি চাপ নিয়ে ফেলছি। গেম খেলতে খেলতে আশা করি তা ঠিক হয়ে যাবে।

প্রশ্ন : এর মধ্যে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক যে বলেছিলেন, আপনি খারাপ করতে থাকলে অলিম্পিকে তাঁরা বিকল্প ভাববেন। এটাও নিশ্চয় একটি বাড়তি চাপ তৈরি করেছে আপনার ওপর?

রোমান : এখন যদি তারা আমার থেকে ভালো কাউকে পায় সে অবশ্যই যাবে। আমিও তো চাই বাংলাদেশ থেকে কেউ ভালো রেজাল্ট করুক অলিম্পিকে। নিজের তো আশা আছেই, যেহেতু আমি নিজেই কোয়ালিফাই করেছি। অলিম্পিকে খেলার ইচ্ছাও আমার শতভাগ। সব খেলোয়াড়ের স্বপ্ন থাকে অলিম্পিকে খেলার, সেখানে ভালো কিছু করার। তো আমারও এর ব্যতিক্রম কোনো কিছুই নাই। এখন দেখা যাক, শেষ পর্যন্ত কী হয়। আমি চেষ্টা করছি আমার সাধ্যমতো, নিজের সব কিছু নিয়ে যেন ফর্মে ফিরতে পারি।