kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

ফুটবল দল নেপালমুখী

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফুটবল দল নেপালমুখী

বাফুফে কর্মকর্তারা যতই আফগানিস্তান ম্যাচের অপেক্ষায় থাকার কথা বলুন, ভেতরে ভেতরে বাংলাদেশ দল নেপালমুখী হয়ে আছে। সেখানে তিন জাতি টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি নিতে আগামী ১৪ মার্চ শুরু হচ্ছে জাতীয় দলের ক্যাম্প।

এখনো বাংলাদেশ-আফগানিস্তান ম্যাচের জট খোলেনি। কভিডের অজুহাতে আফগানিস্তান এ দেশে আসতে চায় না। আর বাংলাদেশও নিজের মাঠে খেলার সুবিধা হাতছাড়া করতে চায় না। বাফুফের দাবি, বিশ্বকাপ বাছাইয়ের এ ম্যাচ নিয়ে চিঠি চালাচালি চলছে। শেষমেশ জট খুললে ম্যাচটি হবে ২৫ মার্চ, সিলেটে। কিন্তু এর সম্ভাবনা বাস্তবে খুব ক্ষীণ। জাতীয় দল কমিটির প্রধান কাজী নাবিল আহমেদের দেওয়া সর্বশেষ তথ্যেও এ ম্যাচের ব্যাপারে ইতিবাচক বার্তা নেই, ‘আফগানিস্তানও দুদিন আগে আমাদের চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, তারা আসতে পারবে না। পাশাপাশি তারা অনুরোধ করেছে ম্যাচটি কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে আয়োজনের। এখন আমরা এএফসিকে জানিয়ে দেব, ম্যাচটি আয়োজনের সব প্রস্তুতি নিয়ে রাখার পরও আফগানিস্তান আসতে অপারগতা প্রকাশ করেছে। এরপর ব্যাপারটা এএফসিই দেখবে।’ এএফসি ‘দেখলে’ ম্যাচটি কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ ভারত ও বাহরাইনের বিপক্ষে পরের দুটো ম্যাচে বাংলাদেশ ‘হোম’ হওয়ার কথা থাকলেও বৈশ্বিক মহামারির প্রেক্ষাপটে ম্যাচগুলো চলে গেছে কেন্দ্রীয় ভেন্যুতে। সেখানে যুক্ত হতে পারে আফগানিস্তানের ম্যাচটিও।

বাফুফেও এই বাস্তবতা বুঝে নেপালের দিকে ঘুরে গেছে। এটাকে কাজী নাবিল ‘প্ল্যান বি’ বললেও এখন এ লক্ষ্যে কাজ করছে তাঁর কমিটি, ‘আফগানিস্তান ম্যাচ না হলেও আমাদের নেপাল যেতে কোনো বাধা নেই। সেখানে তিন দলের মধ্যে খেলা হবে। এই টুর্নামেন্টে নেপাল জাতীয় দল, কিরগিজস্তানের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের সঙ্গে বাংলাদেশও খেলবে। আমরা চাই জাতীয় দল ব্যস্ত থাকুক খেলার মধ্যে, যেন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পরখ করে দেখতে পারেন কোচ। নতুন কিছু ফুটবলারকে নেওয়া হতে পারে, নেপালে তাদের সুযোগ করে দিতে পারি আমরা।’

নেপালে তিন জাতির টুর্নামেন্টের সূচিও হয়ে গেছে। তিন দল ২৩, ২৫ ও ২৭ মার্চ নিজেদের মধ্যে দুটো করে ম্যাচ খেলবে। এরপর ২৭ মার্চ সেরা দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে।  

গতকাল জাতীয় দল কমিটির সভায় আগামী ১৪ মার্চ থেকে জাতীয় দলের অনুশীলন শিবিরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগের দিন হবে কভিড পরীক্ষা, তার ফলের ভিত্তিতে খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে যোগ দেবেন। দেশে কয়েক দিন ট্রেনিংয়ের পর ২০ মার্চের দিকে দল চলে যাবে নেপালে। বলা হয়েছে, নেপাল পৌঁছানোর পর এক দিন কোয়ারেন্টিনে থেকে বাংলাদেশ ট্রেনিংয়ে নামতে পারবে। আর এই ম্যাচগুলোর জন্য দলের সঙ্গে ফিজিও ও গোলরক্ষক কোচ যোগ করা হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় দল কমিটি। তবে নেপালগামী দলে অনেক নতুন খেলোয়াড় সুযোগ পেতে পারে। সর্বশেষ জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা ঘরোয়া ফুটবলের পারফরম্যান্স দিয়ে মন ভরাতে পারেননি কোচ জেমি ডে’র। জাতীয় দলের ইংলিশ কোচ তাই বিভিন্ন সময় নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছিলেন। কাজী নাবিল আহমেদও এটাকে সুযোগ মনে করেন, ‘কখনো না কখনো আমাদের নতুন খেলোয়াড়দের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ভালো দল গঠনের জন্য এই প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে হবে। নেপালের এই টুর্নামেন্টটা আমাদের জন্য উত্তম সুযোগ। বিশেষ করে কিরগিজস্তান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের ম্যাচটি ফিফা স্বীকৃত না হলে ওই ম্যাচে আমরা বেশ কিছু নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে পারি।’ নতুন খেলোয়াড়ের সংখ্যা কত, সেটা আজ জাতীয় দলের খেলোয়াড় তালিকা দেখলেই স্পষ্ট হবে। জেমি ডেও অন্তর্ভুক্তির কারণ ব্যাখ্যা করবেন।

তার মানে বাফুফের সামগ্রিক তৎপরতা এখন নেপালের টুর্নামেন্টকে ঘিরে। দেশের মাঠে আফগানিস্তান ম্যাচ নিয়ে আলোচনার ফল আপাতত শূন্যই।

মন্তব্য