kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

দশে মিলে মুবীনের মোহামেডান

৮ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দশে মিলে মুবীনের মোহামেডান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ‘আমি নিজে খেলোয়াড় ছিলাম। সেনাবাহিনী দলের হয়ে হকি খেলেছি। আমার চিন্তাধারা তাই দলভিত্তিক। এখানেও এককভাবে কোনো কিছু অর্জন সম্ভব না। বা অধিনায়কই দলকে জিতিয়ে দেবেন—এই ভাবনাটাও মনে হয় ঠিক হবে না। এখানে সবাইকে যার যার পজিশনে খেলতে হবে। আমি সেভাবেই ক্লাবটাকে গোছাতে চেষ্টা করব’, বক্তার নাম জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল মুবীন। সদ্যই মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি নির্বাচিত হওয়া সাবেক সেনাপ্রধান পরিচালনা পর্ষদের সবাইকে নিয়ে এভাবেই ফিরিয়ে আনতে চান হারানো ঐতিহ্য।

মোহামেডানের ঐতিহ্যে অনেক দিন ধরেই ধুলো জমেছে। ধুলোর পুরু সেই স্তর সরাতে কিছু সময় তো লাগবেই। আর আব্দুল মুবীন নিজেও জানেন যে রাতারাতি কোনো কিছু বদলে ফেলা সম্ভব নয়। মোহামেডানের মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের প্রেসিডেন্ট পদে আসীন হলেও এ বাস্তবতা দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন তিনি। যে কারণে এখনই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন না আগামী বছরই মোহামেডান দলটাকে ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন করে ফেলবেন বা এমন কিছুর। বরং দুই বছরের দায়িত্বে সেই জায়গায় ওঠার ভিতটা গড়ে দিয়ে যেতে চান, সেই প্রত্যয় মুবীনের কণ্ঠে, ‘ক্লাব পরিচালনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে সবার আগে। মোহামেডান ক্লাবে এখন কর্মকর্তারা যানই না। কাজের সঙ্গে যদি আত্মার সম্পর্ক হয় তাহলে তো কিছু হবে। তাই এখনই বলব না ছয় মাস বা এক বছরে ফুটবল দলটাকে একটা কিছু করে দাঁড় করাব। সত্যি বলতে সেই লক্ষ্য আমার নেই। আমি চাচ্ছি ঘরটাকে আগে গোছাতে। যাতে সবাই যার যার দায়িত্ব উপলব্ধি করতে পারে।’ ফুটবল-ক্রিকেটের যে সোনালি দিন হারিয়েছে তা ফিরিয়ে আনতে ভিত্তিটাকে শক্তিশালী করা ছাড়া বিকল্পও দেখেন না মুবীন, ‘মোহামেডান-আবাহনী আমাদের অনেক সোনালি সময় উপহার দিয়েছে। মাঠে গিয়ে খেলা দেখা, খেলা শেষে সেই খেলা নিয়ে চর্চা করা—এই পরিবেশ এক দিনে তৈরি করা সম্ভব নয়। তাই আমি বলছিও না আমার মেয়াদেই আমি সব করে ফেলব। কিন্তু এর ভিতটা করে দিয়ে যেতে চাই আমরা, যাতে করে পরবর্তীতে যারা আসবে তারা যেন এটাকে এগিয়ে নিতে যেতে পারে।’

ক্লাবের ক্রান্তিকালে দায়িত্ব নিয়ে এই মুহূর্তে আসলে ক্ষত সারানোর কাজটাই বেশি করতে হবে মুবীনকে। সেই লক্ষ্য পূরণে গত পরশু যে পরিচালনা পর্ষদ পেয়েছেন এবং পর্ষদের বাইরে যাঁরা আছেন সবার কাছ থেকেই আন্তরিক সহযোগিতা পাবেন বলে তাঁর বিশ্বাস, ‘এত দিন পর মোহামেডানের এজিএমে এসে সবাই কিন্তু মন খুলে কথা বলেছে। সবাই আন্তরিক ও আগ্রহী ক্লাবের ভালোর জন্য। নির্বাচনেও সবাইকে স্বতঃস্ফূর্ত দেখেছি। ফল ঘোষণার আগেই তাঁরা বলেছেন, যে-ই আসুক ক্লাবের জন্য তাঁরা কিছু একটা করতে চান। রাতারাতি হয়তো চূড়ায় নিয়ে যেতে পারবেন না। কিন্তু একটা আগ্রহ আছে সবার যে, এই ক্লাব এত পুরনো, এর ভিত এত বড়, গভীর, সমর্থকপুষ্ট একটা ক্লাব, এটাকে তো এই অবস্থায় চলতে দেওয়া যায় না।’ নিজের প্রতিও বিশ্বাস রাখেন মুবীন তিনি সবাইকে সংগঠিত করতে পারবেন, ‘আমার একটা ব্যাকগ্রাউন্ড আছে জানেন। প্রজাতন্ত্রের হয়ে কাজ করেছি, সরকারপ্রধানের আস্থা নিয়ে কাজ করেছি। আশা করছি নির্বাচনে যাঁরা জয়ী হয়েছেন সবার সহযোগিতা আমি পাব। আমি এখানে জড়িত হয়েছি, সরকারপ্রধানও চাইছেন মোহামেডানের মতো একটা ক্লাবের ঐতিহ্য কিছুটা হলেও ফিরিয়ে আনতে। এর জন্য সময় প্রয়োজন। তবে আমরা পারব।’

এই মুহূর্তে অবশ্য ‘শর্ট টার্ম’ পরিকল্পনার কথাই ভাবছেন মোহামেডানের নতুন সভাপতি, ‘অনেকে অনেক কিছুই করতে বলবেন। তবে এই মুহূর্তে আমাদের শর্ট টার্ম টার্গেট সেট করতে হবে, যা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে করা সম্ভব। তাহলে হবে কি, আমরা ফলও পাব, কাজের উৎসাহও বাড়বে। হঠাৎ ৫০ তলা ৬০ তলা ভবন করার অবাস্তব চিন্তা করলে তো কাজ হবে না।’ তবে সব পরিকল্পনাই তিনি দলীয় ছকে ফেলে করতে চান। দশে মিলে করা কাজের সুফল সর্বজনস্বীকৃতও।

মন্তব্য