kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

সোনালি দিন ফিরবে মোহামেডানে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৪ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সোনালি দিন ফিরবে মোহামেডানে?

সাবেক সেনাপ্রধান আব্দুল মুবীনের মোহামেডান ক্লাবের সভাপতি হতে আর কোনো বাধা নেই। সাদা-কালোয় সাবেক জেনারেলের অধিষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গে মোসাদ্দেক আলী ফালু-লোকমান অধ্যায়ের ইতি টেনে শুরু হতে যাচ্ছে নতুন অধ্যায়। নতুন সভাপতিকে আলিঙ্গন করে ক্লাবটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে ফিরিয়ে আনতে চায় সোনালি অতীত।

মোসাদ্দেক আলী ফালু ক্লাবের সভাপতি পদে ১৫ বছর কাটিয়ে বিদায় নিয়েছেন ২০১০ সালে। এরপর বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক মহাসচিব কুতুব উদ্দিন এবং পরে ওরিয়ন গ্রুপের চেয়ারম্যান ওবায়দুল করিম ক্লাবের সভাপতি পদে আসীন হলেও লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার আধিপত্যই জারি ছিল। মোসাদ্দেক আলীর দাক্ষিণ্যে ১৯৯৪ সালে মোহামেডানে আসা এই সংগঠক ২০১৯ সালে ক্যাসিনো-কাণ্ডে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হন। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের ঐতিহ্যে পড়ে কালো দাগ। সেই অঘটনে সাদা-কালোয় খর্ব হয় লোকমানের আধিপত্য। এবার নির্বাচনে মনোনয়নপত্র কিনেও তিনি শেষ পর্যন্ত জমা দেননি। তাতে ২৫ বছর মোহামেডান লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ হতে যাচ্ছে ফালু-লোকমানবিহীন।

আসন্ন ৬ মার্চের নির্বাচনে গতকাল ছিল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন। সে অনুযায়ী মোহামেডানের সভাপতি পদে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আব্দুল মুবীন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হচ্ছেন। তিনিই ক্লাবের নতুন শীর্ষ কর্তা, তাঁর দিকেই তাকিয়ে আছেন ক্লাবের সাধারণ সদস্য ও সমর্থকরা। সাবেক তারকা ও বর্তমান মোহামেডান ফুটবল দলের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীবের অনেক প্রত্যাশা নতুন সভাপতির কাছে, ‘ক্লাবের যিনি প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন, তাঁর সম্পর্কে আমার বিশেষ কোনো ধারণা নেই। তাঁর কাছে একটাই চাওয়া মোহামেডান যেন তার ঐতিহ্যের পথে ধরে হাঁটতে পারে। একটা দল ২০০২ সালের পর ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে না, সুনাম ক্ষয়ে এখন সাধারণের কাতারে নেমে এসেছে। নতুন সভাপতি ক্লাবের এই অবস্থা পরিবর্তনে উদ্যোগী হবেন। ফুটবল-ক্রিকেটে শক্তিশালী দল গড়ে মোহামেডান আবার শিরোপার জন্য লড়াই করবে—এটাই দেখতে চাই।’ ফুটবলে মোহামেডানের করুণ দশা, অন্যান্য খেলাগুলোতেও ভালো অবস্থা নেই এই ক্লাবের। এখন শুধু নামেই মোহামেডান, বাস্তবে গড়পড়তা মানের এক দল।

আরেক সাবেক ফুটবল তারকা ইমতিয়াজ সুলতান জনির বিশ্বাস, ‘আমাদের নতুন সভাপতি একজন চমৎকার মানুষ এবং খেলার প্রতিও তাঁর ঝোঁক আছে। আমাদের ক্লাবের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল আগে থেকেই। তিনি দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবের সাংগঠনিক ভিত্তিটা মজবুত করে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।’

কিন্তু আর্থিক জোরটাও যে খুব নড়বড়ে হয়ে গেছে। ভালো দল গড়তে গেলে আর্থিকভাবে শক্তিশালী হতে হবে ক্লাবটিকে। জনি মনে করেন, ‘সভাপতি নিজে এখন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তা ছাড়া পরিচালনা পর্ষদে অনেক ব্যবসায়ীও আছেন। অর্থনৈতিক দিকটা দেখতে গিয়ে আমরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছি, যেন শক্তিশালী একটা পর্ষদ হয় ক্লাবের।’ আব্দুল মুবীন ইউনাইটেড গ্রুপের পাওয়ার ডিভিশনের চেয়ারম্যান, সঙ্গে অনেক ব্যবসায়ীর সম্মিলন ঘটায় এই ক্লাবের অর্থ সংকট মোচন হওয়ার প্রত্যাশায় আছেন অনেকে।

নকীবও সেই আশায় আছেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে এই তারকা বলেছেন, ‘আগে অনেক ক্লাব সভাপতিকে দেখেছি, তাদের অর্থ ছিল কিন্তু ক্লাবের স্বার্থে কিছুই করেনি। বরং অনেকে এই ক্লাবকে ভাঙিয়ে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি করেছে। ক্লাবের দল গড়তে গিয়ে নিজে ব্যবসা করেছে। নতুন সভাপতির অধীনে এ রকম দুষ্কর্ম দেখতে চাই না। এ জন্য পরিচালনা পর্ষদের কমিটমেন্ট ও পরিকল্পনা খুব জরুরি। পাঁচ বছর পর ক্লাবকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সেই ছক কষে এগোতে হবে।’

আসলে মোহামেডান ক্লাবের অনেক দুর্নাম। কোনো ভালো খেলোয়াড় এই ক্লাবে খেলতে চায় না, কারণ প্রতিবছর পেমেন্ট নিয়ে ঝামেলা হয়। নকীব যেমন বলেন, ‘ক্যারিয়ারে কখনো চুক্তির ৫০ ভাগের বেশি অর্থ পাইনি।’ আগে আবাহনী-মোহামেডানে ফুটবলের শিরোপা লড়াইটা সীমায়িত থাকলেও এখন লড়াইয়ের ব্যাপ্তি অনেক বড় হয়েছে। তাই খেলোয়াড়দের সামনে আছে অনেক বিকল্প, যেখানে টাকা বেশি সেখানেই ছুটে যায়। তাই মোহামেডানকেও ফিরতে হবে আকর্ষণীয় হয়ে।

মন্তব্য