kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

রেফারিং

সম্মান ও সম্মানী বাড়লেই মান বাড়বে

রেফারিদের ‘থ্যাংকলেস জব’-এর সম্মান ও সম্মানী কিছুই যে মিলছে না পেশাদার ফুটবল লিগের সঙ্গে। আবার সেই নামমাত্র সম্মানীও যদি বকেয়া পড়ে, রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি সংগত হয়!

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : ভিএআর নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হয়ে বাফুফে ভুলেই গেছে রেফারিদের ভালো-মন্দের কথা। তাঁরা ভালো না থাকলে তাঁদের বাঁশিই বা সুরেলা হবে কী করে। রেফারিদের ‘থ্যাংকলেস জব’-এর সম্মান ও সম্মানী কিছুই যে মিলছে না পেশাদার ফুটবল লিগের সঙ্গে। আবার সেই নামমাত্র সম্মানীও যদি বকেয়া পড়ে, রেফারিংয়ের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি সংগত হয়!

ফুটবল মৌসুম শুরু হয়েছে ফেডারেশন কাপ দিয়ে। এখন প্রিমিয়ার লিগ আছে মাঝপথে। কিন্তু সেই ফেডারেশন কাপের রেফারিংয়ের টাকাই যে এখনো বকেয়া। এর পরও কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। এক রেফারির আক্ষেপ, ‘ফেডারেশনের কর্তাদের মুখে ভিএআরের কথা শুনে হাসি পায়। পেশাদার লিগের ম্যাচের সঙ্গে তুলনা করলে রেফারিদের সম্মানী খুবই কম। সেটাও সাধারণত মাসের পর মাস বকেয়া থাকে। তাহলে এই রেফারিং পেশার প্রতি শিক্ষিত লোকজন ঝুঁকবে কেন। বাফুফেই রেফারিদের অবস্থান নড়বড়ে করে রেখেছে।’ একটি ম্যাচের জন্য রেফারি দুই হাজার ৪০০ টাকা, তাঁর দুই সহকারী দুই হাজার ২০০ টাকা এবং চতুর্থ রেফারিকে এক হাজার ৮০০ টাকা করে দেয় বাফুফে। এটা কি যথেষ্ট? পাশের দেশ ভারতে রেফারিদের সম্মান ও সম্মানী দেখলে ধারণাটা পরিষ্কার হয়ে যায়। সেখানে আই লিগ কিংবা টুর্নামেন্টের জন্য রেফারিদের একটা প্যানেল তৈরি করা হয়। এই প্যানেল রেফারিরা লিগ ও টুর্নামেন্ট চলাকালীন প্রতিদিনের জন্য পান দুই হাজার রুপি করে আর ম্যাচের দিন বাড়তি থাকে তিন হাজার রুপি। আর আইএসএলের সম্মানী তো কল্পনাতীত, প্রতি মাসে একজন রেফারির আয় আট লাখ রুপি করে।

রেফারিজ কমিটির নতুন চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেছেন, ‘আমি কেবল দায়িত্ব নিয়েছি। রেফারিদের সম্মানী বাড়ানোর কোনো প্রস্তাব এলে অবশ্যই ভেবে দেখব আমরা। চেষ্টা করব সেটা যেন তাদের প্রত্যাশামতো হয়।’ রেফারিদের সম্মানের জায়গাটাও বাফুফের কয়েকজন নির্বাহী মিলে নষ্ট করে দিচ্ছেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন রেফারি। ছয় রেফারির সঙ্গে আলাদা আলাদা কথা বলে পাওয়া গেছে একই অভিযোগ, ‘বাফুফে সাধারণ সম্পাদকের প্রশ্রয়ে শহীদুল ইসলাম লিমন রেফারিংয়ের জায়গাটা শেষ করে দিচ্ছে। তাঁর নির্দেশনায় রেফারিদের ম্যাচ দেওয়া হয়। ফিটনেস ও মেডিক্যাল পরীক্ষায় দু-দুবার ফেল করা তিনজনের নাম পাঠিয়েছে ফিফা রেফারি জন্য। এখন বলুন, বাফুফে কি সত্যি এই পেশার উন্নতি চায়!’ গত বছর বাফুফে পাঁচ রেফারির নাম পাঠায় ফিফার কাছে। তাঁদের মধ্যে ফিজিক্যাল টেস্টে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন মাত্র দুজন—বিটু রাজ বড়ুয়া ও সোহরাব হোসেন। বাকি তিনজন পাস করেননি, মাঠের ফিজিক্যাল টেস্টে যে তাঁরা পাস করেননি সেটা সতীর্থরা স্বচক্ষে দেখেছেন। তাঁদের মধ্যে আলমগীর হোসেন ও গোলাম মোরশেদ কখনো দেশের মাঠে বড় ম্যাচই পরিচালনা করেননি। তাঁরাই কিনা এখন ফিফা রেফারি! ‘এ রকম অনিয়ম হয়ে থাকলে আমি দেখব। মোট কথা, ভালো রেফারিংয়ের ক্ষেত্রে কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে অবশ্যই তা বিবেচনায় নেওয়া হবে। রেফারিংয়ের উন্নতির জন্য যা করণীয় সবই করব’—বলেছেন রেফারিজ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী।

তিনি সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সবার আগে অনিয়ম দূর করতে হবে। এরপর পেশাদার লিগের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে রেফারিদের সম্মান ও সম্মানী বাড়াতে হবে। নইলে ভিএআর যোগ করেও কিছু হবে না, প্রযুক্তির পেছনেও তো রেফারিরাই থাকবেন।

মন্তব্য