kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ক্রীড়াঙ্গন এবং মাঠ সমস্যা

অনুশীলনের মাঠ দরকার। শক্ত অনুশীলন একজন খেলোয়াড়ের আসল শক্তি। মাঠ কোথায়?! সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বিরাট এলাকাজুড়ে তার বসবাস। এখানে বেশ কিছু অনুশীলন মাঠ করা যায়। এতে পরিবেশ নষ্ট হবে না।

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ক্রীড়াঙ্গন এবং মাঠ সমস্যা

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ১৯৫৪ সালে, এ স্টেডিয়াম বিশ্বের প্রথম দোকানসহ স্টেডিয়াম। তখনকার পশ্চিম পাকিস্তান এবং বর্তমান পাকিস্তানের কোথায়ও দোকানসহ স্টেডিয়াম নেই। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দোকানসহ স্টেডিয়াম তৈরি করে পূর্ব পাকিস্তানের ক্রীড়া পরিবেশ ধ্বংসের যে বীজ বপন করেছিল, আমাদের কর্তারা সেই নীলনকশা আজও অনুসরণ করেই যাচ্ছেন। আর্মি স্টেডিয়ামে দোকান নেই, একজন খেলোয়াড় ওই স্টেডিয়ামে অনুশীলনে যে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে, নিজের ওপর যে আস্থা পায়, দোকানসহ স্টেডিয়ামে গিজগিজ করা লোকের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করে ঢুকতে-বেরোতে মনঃসংযোগ হারাবেই।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম তৈরি হয়েছিল ক্রিকেটের জন্য। সেই মাঠে এখন ফুটবল হয়। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়ই সব গ্যালারি থেকে ভালো করে খেলা অনুসরণ সম্ভব নয়। পল্টন মাঠে সব সময়ই অনুশীলন হতো ফুটবল, হকি, ক্রিকেটের আবার ম্যাচও হতো। হঠাৎ তৈরি হলো স্টেডিয়াম। তবে কোন খেলার জন্য? দেওয়া হলো হকিকে। বিরাট মাঠ, পশ্চিম গ্যালারি থেকে হকির ছোট বলই দেখা দুষ্কর। তবে কেন এই স্টেডিয়াম! দোকানের সেলামি আর মাসিক ভাড়ার জন্য এই স্টেডিয়াম তৈরির দরকার ছিল। এসব দোকানসহ স্টেডিয়ামের সেলামি বা ভাড়া প্রচুর। ক্রিকেট আর ফুটবল বাদে সব ফেডারেশন ধুঁকছে টাকার অভাবে। এই স্টেডিয়ামের দোকানের কিছু আয় এই সব ফেডারেশনকে দিলে তারা অন্তত তাদের স্টাফদের বেতন পরিশোধসহ বিভিন্ন ক্যাম্প করাতে পারত। এই টাকা যায় কোথায়?!

অনুশীলনের মাঠ দরকার। শক্ত অনুশীলন একজন খেলোয়াড়ের আসল শক্তি। মাঠ কোথায়?! সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, বিরাট এলাকাজুড়ে তার বসবাস। এখানে বেশ কিছু অনুশীলন মাঠ করা যায়। এতে পরিবেশ নষ্ট হবে না। পরিবেশ রক্ষার নামে এত গাছপালা করে ছিনতাইকারীর অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে, অসামাজিক কার্যকলাপ তো হচ্ছেই। অনুশীলন মাঠ পাশাপাশি ৮-১০টা হলে সকাল-বিকাল জনতার যাতায়াত থাকবে, অনুশীলনের সঙ্গে পরিবেশেরও উন্নয়ন আসবে। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মনে হয় গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন, মন্ত্রণালয় পর্যায়ের আলোচনা জরুরি। আশা করব, পরিস্থিতি বিবেচনা করে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের কিছু অংশ ক্রীড়াঙ্গনে শামিল করার জন্য ক্রীড়া মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নেবে।

 

মেজর চাকলাদার (অব.)

(লেখক : সাবেক জাতীয় হকিদল অধিনায়ক এবং জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব)

মন্তব্য