kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

নিজের শহরে

৩-০ নাকি যোদ্ধার চেহারায় ক্যারিবীয়রা?

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩-০ নাকি যোদ্ধার চেহারায় ক্যারিবীয়রা?

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : অলংকার মোড় থেকে স্টেডিয়ামের দিকে এক-দেড় কিলোমিটারের সাগরিকা রোডে এবার কোনো সাজসজ্জাই নেই। ‘নিউ নরমাল’ ক্রিকেট যেন এই শহরের আন্তর্জাতিক সিরিজ থেকে কেড়ে নিয়েছে আনুষঙ্গিক এসব অলংকারও। বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠান তবু দুই দলকে স্বাগত জানিয়ে টানিয়েছে কিছু ব্যানার। যার কয়েকটিতে লেখা বার্তা এই সিরিজের সুরের সঙ্গে যায় না বলেও মনে হতে পারে যে কারো। কী লেখা? ‘ওয়েলকাম ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওয়ারিয়র্স!’

এ রকম ব্যানার চোখে পড়ে থাকলে ক্যারিবীয় দলের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছে, তা জানতে পারলেও মন্দ হতো না! তবে এই সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে তাদের অসহায় আত্মসমর্পণের ছবিতে অন্তত যোদ্ধার মেজাজ ছিল না কিছুতেই। ভেতরে ভেতরে তা থেকে থাকলেও ঢাল-তলোয়ার আকারে এর প্রকাশ ঘটেনি। বরং এখন পর্যন্ত এই সিরিজ যা যা দেখেছে, তাতে ক্যারিবীয়দের ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে কৌতূহলও আর তেমন অবশিষ্ট নেই।

অবশিষ্ট আছে শুধু একটি ম্যাচই এবং সেটি জিতে বাংলাদেশের ৩-০ করা নিয়েই একমুখী আলোচনায় অবশ্য বাদ সাধার চেষ্টা তবু করলেন তামিম ইকবাল। সম্ভবত করতে হয় বলেই করলেন স্বাগতিকদের ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘প্রথম দুই ম্যাচে অতটা ভালো করতে না পারলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিপজ্জনক দল। যেকোনো সময়ে তারা ঘুরে দাঁড়াতেও সক্ষম।’ আজ জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শেষ ম্যাচে নিজেদের সক্ষমতার জোরে আরেকবার প্রতিপক্ষের অক্ষমতা প্রকাশ করে দেওয়ার চেষ্টাও নিশ্চিতভাবেই করবেন তামিমরা।

পুরো শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজই যেখানে আগের দুটি সিরিজে ২-১-এ হেরেছে, করোনাভীতির কারণে শীর্ষস্থানীয় ক্রিকেটারদের ছাড়াই আসা এবারের দলটির বিপক্ষে অনেক পুরনো এক সাফল্যের পুনরাবৃত্তির প্রহরও গুনছে বাংলাদেশ। ২০০৬ সালে কেনিয়াকে দিয়ে শুরুর পর গত দেড় দশকে সব মিলিয়ে ১৩ বার প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হোয়াইটওয়াশের আনন্দে ভেসেছে তারা। এর মধ্যে একবার ২০০৯-এর সফরে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষেও। যেবার বোর্ডের সঙ্গে বেতন-ভাতা নিয়ে ঝামেলায় শীর্ষ ক্রিকেটাররা ধর্মঘটে থাকায় কোনোমতে ধরে-বেঁধে খেলোয়াড় এনে দল নামাতে হয়েছিল। এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও গুণে-মানে-দুর্বলতায় প্রায় একই রকম দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

তাদের বিপক্ষে টানা দুই জয়ে ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা উদযাপন করা হয়ে গেছে বাংলাদেশের। এবার চট্টগ্রামেও জয় দিয়ে ফেরার তাড়না আরো বেশি থাকার কথা। কারণ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এই মাঠে হওয়া সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচে যে আফগানিস্তানের কাছে টেস্ট হারের লজ্জায় ডুবেছিল বাংলাদেশ। এবার ক্যারিবীয়দের হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবিয়ে সেই দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলার অভিযানে স্বাগতিকদের নিয়ে অনাস্থাও নেই কারো। তাতে অবশ্য সফরকারীদের দায়ই বেশি। যোদ্ধার মেজাজই যে দেখাতে পারেনি তারা!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা