kalerkantho

শনিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৪ রজব ১৪৪২

আরেক মেহেদীই ফেরালেন পুরনো মিরাজকে

যখন ১৮ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াডে ঠাঁই করে নিলেন আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান, একই নামের আরেকজন। বরং ব্যাটিং সামর্থ্যে এগিয়ে থাকায় এই মেহেদীই মিরাজের জায়গা দখল করে নেন কি না, ছিল সেই আলোচনাও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নিষ্প্রভ বোলিং (৭ ওভারে ২৯ রানে ১ উইকেট) সেই আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলে দেয় আরো।

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আরেক মেহেদীই ফেরালেন পুরনো মিরাজকে

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সেই কবে একবারই ম্যাচে ৪ উইকেট পেয়েছিলেন তিনি। এরপর ব্যক্তিজীবনে অনেক বদল এলেও তাঁর বোলিং ভাগ্য বদলাচ্ছিল না কিছুতেই। দুই বছর আগে বিয়ে করে সংসারী হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় হয়েছেন সন্তানের বাবাও। কিন্তু একই সঙ্গে বল হাতেও ছন্দ হারাচ্ছিলেন ক্রমেই। এই অধারাবাহিকতায় দলে মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছিল। দিন দিন সে প্রশ্নও উচ্চকিত হচ্ছিল।

এই অফস্পিনার নিজেও শুনতে পাচ্ছিলেন তা। তবু পারফরম্যান্সের ফুল ফোটাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন। এই করে করে যখন দলে জায়গা হারানোর সময় একটু একটু ঘনিয়ে আসছিল, তখনই ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে নিজেকে ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দিলেন মিরাজ। এর মাঝখানে পেরিয়ে গেছে কত ম্যাচ!

২০১৮ সালের ১৪ ডিসেম্বর সিলেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ২৯ রানে ৪ উইকেট নেওয়া ছিল তাঁর ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। এরপর খেলেছেন আরো ২০ ওয়ানডে। নিজের সেরা ছাপিয়ে যাওয়া দূরের কথা, ৩ উইকেটও পাননি কোনো ম্যাচে। ছয় ম্যাচে ছিলেন উইকেটশূন্য। ১১ ম্যাচে নিয়েছেন ১টি করে উইকেট। ২ উইকেট আছে তিন ম্যাচে। একেই উইকেট পাচ্ছিলেন না, তার ওপর কার্যকরী বোলার হিসেবেও নিজেকে সেভাবে মেলে ধরতে পারছিলেন না। তবু যেন দেয়ালে পিঠ ঠেকেও যাচ্ছিল না।

যাচ্ছিল না কারণ বিকল্পের অভাব। নতুন কারো সেভাবে উঠে না আসা পর্যন্ত যেন নিশ্চিন্তই ছিলেন মিরাজ। কিন্তু এই ঘুম এবার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ সামনে রেখে ছুটেই গেল। যখন ১৮ সদস্যের ওয়ানডে স্কোয়াডে ঠাঁই করে নিলেন আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান, একই নামের আরেকজন। বরং ব্যাটিং সামর্থ্যে এগিয়ে থাকায় এই মেহেদীই মিরাজের জায়গা দখল করে নেন কি না, ছিল সেই আলোচনাও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে নিষ্প্রভ বোলিং (৭ ওভারে ২৯ রানে ১ উইকেট) সেই আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলে দেয় আরো।

তবু আরেকটি সুযোগ পান মিরাজ। টিম ম্যানেজমেন্টেরও তাঁর ওপর আরেকবার আস্থা রাখার কারণ সম্ভবত ২০১৮ সালে দেশের মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাঁর পারফরম্যান্স। টেস্ট সিরিজে সর্বোচ্চ ১১ উইকেট নিয়েছিলেন। ৬ উইকেটে নিয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজার সঙ্গে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন ওয়ানডে সিরিজেও। ঘাড়ে আরেক তরুণের গরম নিঃশ্বাস অনুভব করতে করতেই তাই কাল জায়গা করে নেন দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশে।

আর তাতেই নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়া এবং জ্বলে ওঠা পারফরম্যান্স। ২৫ রান খরচে ৪ উইকেট নিয়ে জুটল ম্যাচসেরার পুরস্কারও। যে পুরস্কার নেওয়ার পর দলে জায়গা হারাতে না চাওয়ার আকুতিও শোনা গেল তাঁর কণ্ঠে। সে জন্য প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকার প্রতিজ্ঞার কথাও বললেন, ‘আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিযোগিতা থাকবেই। আমি যদি এখানে ভালো না করি, আরেকজন খেলোয়াড়ের জন্য আমাকে জায়গা ছেড়ে দিতে হবেই। এখন প্রতিযোগিতা অনেক বেশি। প্রতিটা খেলোয়াড়কেই সেই প্রতিযোগিতায় নামতে হচ্ছে। কিন্তু আমার প্রতিযোগিতা আমার নিজের সঙ্গেই। আমি সব সময় চেষ্টা করি নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে যেতে।’

সেই চেষ্টায় সফল মিরাজ জানালেন প্রথম ওয়ানডের পর বিমর্ষ ছিলেন খুব, ‘প্রথম ম্যাচের পর আমি কিছুটা আপসেট ছিলাম। আজকের বোলিংয়ে সত্যিই খুব খুশি। সবাই আমাকে খুব সমর্থন করেছেন।’ সহযোগিতা করেছেন স্পিন বোলিং কোচ সোহেল ইসলাম। বিশেষ করে অমূল্য পরামর্শ পেয়েছেন সাকিব আল হাসানের কাছ থেকেও, ‘সাকিব ভাই দুটো কথা বলেছেন। সেই দুটো কথাই আমার অনেক কাজে লেগেছে। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে লেগ মিডলে বোলিং করার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর কথা শুনে আমি সেটি করেই সাফল্য পেয়েছি। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো ম্যাচে অনেক সাহায্য করে।’

সাহায্য করে দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্নের স্রোত ঠেকাতেও!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা