kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

‘আদর্শ’ জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলিং কোচ ওটিস গিবসন বুঝিয়ে দিলেন আজ সিরিজ জয় নিশ্চিতে কেমন জয় পাওয়া চাই, ‘ভালো দলগত পারফরম্যান্স ছিল (প্রথম ম্যাচে)। কন্ডিশন আদর্শ ছিল না, উইকেটেও টার্ন ছিল। কিন্তু আমাদের দল সব দিক দিয়েই পরিপূর্ণ ছিল। সাকিব ও মিরাজকে নিয়ে স্পিন আক্রমণ এবং পেসাররা তো ছিলই। জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে পারা দারুণ ব্যাপারই। তবে সব কিছু মিলিয়ে আদর্শ পারফরম্যান্স ছিল না আমাদের।’

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘আদর্শ’ জয়ের খোঁজে বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কোনো উইকেট না পেলেও প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের দুই ওপেনারকে যথেষ্ট ভুগিয়েছেন আলজারি জোসেফ। তাঁর বাড়তি বাউন্স সামলাতে কখনো কখনো হিমশিমও খেতে হয়েছে। আবার মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান কিংবা মুশফিকুর রহিমও যে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করেছেন, তা নয়। বিশেষ করে অভিষিক্ত বাঁহাতি স্পিনার আকিল হোসেনের চাতুরীও নজর কেড়েছে। দুইয়ে মিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং খুব সহজবোধ্যও ছিল না। যে কারণে ১২৩ রানের মামুলি লক্ষ্য তাড়ায়ও বাংলাদেশের জয়কে খুব সাবলীল বলার উপায় ছিল না। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডের পর সে রকম কিছু বলার সুযোগ না রাখতেই কিনা গতকাল ঐচ্ছিক অনুশীলনেও হাজির তামিম ইকবাল-লিটন কুমার দাস থেকে শুরু করে সাকিব-মুশফিকরা।

মিরপুরের ইনডোর লাগোয়া মাঠের নেটে ব্যাটসম্যানদের থ্রো ডাউন করে যাওয়া হলো। বাড়তি বাউন্স সামলানোর প্রস্তুতিতেই স্পষ্ট জোসেফের বোলিং নিয়ে স্বাগতিক শিবিরের ভাবনা কম নয়। কখনো হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো, আবার কখনো ব্যাটিং কোচ জন লুইসকে সারাক্ষণই কোনো না কোনো ব্যাটসম্যানকে দিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেল। ব্যাটিংয়ে আরো আলো ছড়িয়েই যেন আজ সিরিজ জয় নিশ্চিত করতে চায় বাংলাদেশ। সেটি নিশ্চিত হলে তা হবে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে তাদের টানা তৃতীয় ওয়ানডে সিরিজ জয়। এর আগে ২০১৮ সালেই দুইবার। ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে গিয়ে, আবার নিজেদের চেনা আঙিনায়ও।

এবার যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সামনে, তাদের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে প্রত্যাশিত জয় মিললেও তা খুব অনায়াস ছিল না। ছয় উইকেটের জয় তুলে নিতে খেলতে হয়েছে ৩৩.৫ ওভার। দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর ব্যাটিং এমন সাদামাটা হওয়ায় এটিকে ঠিক মনের মতো জয়ও বলতে পারলেন না ওটিস গিবসন। বাংলাদেশ দলের এই ফাস্ট বোলিং কোচ কথায় বুঝিয়ে দিলেন আজ সিরিজ জয় নিশ্চিতে কেমন জয় পাওয়া চাই, ‘ভালো দলগত পারফরম্যান্স ছিল (প্রথম ম্যাচে)। কন্ডিশন আদর্শ ছিল না, উইকেটেও টার্ন ছিল। কিন্তু আমাদের দল সব দিক দিয়েই পরিপূর্ণ ছিল। সাকিব ও মিরাজকে নিয়ে স্পিন আক্রমণ এবং পেসাররা তো ছিলই। জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করতে পারা দারুণ ব্যাপারই। তবে সব কিছু মিলিয়ে আদর্শ পারফরম্যান্স ছিল না আমাদের।’ দারুণ বোলিংয়ের সঙ্গে মানানসই ব্যাটিং যোগ করে আজ সেই ‘আদর্শ’ জয়ের খোঁজেই থাকবেন তামিমরা।

স্বাগতিকরা যখন জেতার পরও ব্যাটিংয়ের খুঁত নিয়ে চিন্তিত, তখন সফরকারীরাও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে চাচ্ছে লড়াই জমিয়ে তোলার পুঁজি। প্রথম ম্যাচে মাত্র ১২২ রান করার পরও ক্যারিবীয় বোলাররা যে হাল না ছাড়া মানসিকতা দেখিয়েছেন, তাতে স্কোরবোর্ডে আরো কিছু রান জমা না হওয়ার অস্বস্তি কালও কুরে কুরে খাচ্ছিল আলজারি জোসেফকে। বুধবার আট ওভার বোলিং করে তিনটি মেডেনসহ মাত্র ১৭ রান খরচ করেছেন এই পেসার। স্পিনার আকিল অভিষেকেই ১০ ওভারে একটি মেডেনসহ ২৬ রানে নিয়েছেন লিটন-নাজমুল-সাকিবের উইকেট। সন্ধ্যার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তাই জোসেফ নিজেদের বোলিংয়ের প্রসঙ্গ টেনে আফসোসই করলেন, ‘আমাদের বোলাররা যেমন বোলিং করেছে, তাতে স্কোরবোর্ডে ২২০ রান থাকলে বোধ হয় আরো বেশি চ্যালেঞ্জ জানাতে পারতাম আমরা। সে ক্ষেত্রে অন্য রকম কিছুও হতে পারত।’ কিন্তু বাংলাদেশ যে আবার সে রকম কোনো সম্ভাবনাই রাখতে চায় না। অনায়াস জয়েই লিখতে চায় আরেকটি সিরিজ জেতা সাফল্য। সে জন্য ব্যাটিং আরো জমাট হওয়া চাই। সেই ভাবনা থেকেই ঐচ্ছিক অনুশীলনেও ভীষণ সিরিয়াস দেখা গেল তামিম-সাকিব-মুশফিকের মতো সিনিয়রদেরও।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা