kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

নিভে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাতিঘর

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নিভে গেলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাতিঘর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বাবার চাকরির সুবাদে ছোটবেলায় বছরের ছয় মাস তাঁর কাটত দার্জিলিংয়ে। পাহাড়ের বিশালতাই হয়তো তাঁকে বড় স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের চাল-চুলাহীন সংসারের কর্তা হয়েও তাই পাদদেশে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন চূড়ায় ওঠার স্বপ্ন।

যা বামন হয়ে চাঁদের পানে হাত বাড়ানোর মতো দুঃসাহসী ব্যাপার বলেই চিহ্নিত হয়েছে সেই সময়ে। হওয়ারই কথা। কোষাগারশূন্য সংস্থার বিদ্যুৎ সংযোগ তখন প্রায়ই কাটা যায় বিল দিতে না পারায়। কাজ করতে হয় মোমবাতি জ্বালিয়ে। তবু তখনকার বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের (বিসিসিবি) সাধারণ সম্পাদক রাইসউদ্দিন আহমেদ এমসিসি দলকে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি লিখতে বলেন যুগ্ম সম্পাদক রেজা-ই করিমকে। এরপর নিজেই লন্ডনে এমসিসির সদর দপ্তরে দৌড়ঝাঁপ করে তাদের নিয়েও আসেন।

১৯৭৭ সালের সফর থেকে ফিরে এমসিসির দেওয়া ইতিবাচক প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আইসিসির সহযোগী সদস্য পদও পায় বাংলাদেশ। এরপর কোনো একদিন পূর্ণ সদস্য পদ নিয়ে টেস্ট খেলার স্বপ্নও বুকে ধারণ করেন রাইসউদ্দিন। সহযোগী সদস্য পদ পাওয়ার মাধ্যমে বড় স্বপ্নের পেছনে ছোটার শুরুতে তাঁর সঙ্গী বাংলাদেশ ক্রিকেটের ‘দুঃসময়ের মোমবাতি’ রেজা-ই করিম নিভে গেছেন আরো আগেই। এবার নিভে গেলেন বাতিঘর রাইসউদ্দিনও।

করোনায় সংক্রমিত হয়ে গত ২৫ ডিসেম্বর ভর্তি হয়েছিলেন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। একপর্যায়ে করোনা নেগেটিভ হলেও তত দিন ফুসফুস আক্রান্ত হওয়ায় শারীরিক অবস্থার শুধুই অবনতি হচ্ছিল। যে কারণে জীবনের শেষ সপ্তাহটি পার করতে হয়েছে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেই। লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল তাঁকে। অবশেষে গতকাল সকালে তা খুলে নিয়ে জীবনাবসান ঘোষিত হয় ৮২ বছর বয়সী রাইসউদ্দিনের। গতকালই বাদ আসর কাকরাইল সার্কিট হাউস মসজিদে জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে বনানী কবরস্থানে। মৃত্যুকালে স্ত্রী, এক ছেলে ও মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকে মুষড়ে পড়ে গোটা ক্রিকেটাঙ্গনও। 

তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও (বিসিবি)। শোকবার্তায় সভাপতি নাজমুল হাসান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছেন দেশের ক্রিকেটে তাঁর অবদানের কথাও, ‘রাইসউদ্দিন আহমেদ এমন সময়ে কাজ করেছেন, যখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের কিছুই ছিল না। তাঁর মতো মানুষের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টার কারণেই দেশের ক্রিকেট আজকের জায়গায়।’ পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রশাসনিক প্রধান। এই পরিচয়ের সুবিধাও পেয়েছে দেশের ক্রিকেট। এমসিসির সফরের আগে দেখেন বোর্ডের কোষাগারে কোনো টাকা নেই। বিমানের চেয়ারম্যানকে ধরে ঠিকই এমসিসি দলের আসা-যাওয়ার ফ্রি টিকিটের বন্দোবস্ত করে ফেলেন। সেই প্রথম বাংলাদেশের ক্রিকেটে চালু হয় স্পন্সর প্রথাও।

১৯৭৫-৮১ মেয়াদে সাধারণ সম্পাদক থাকার সময় নতুন আরো অনেক কিছুই চালু করেছিলেন রাইসউদ্দিন। দীর্ঘ বিরতির পর ১৯৯১ সালে বোর্ডে ফেরেন সহসভাপতি হিসেবে। ২০০১ সালে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হিসেবে বিদায় নেওয়ার আগে তাঁর দেখা সব স্বপ্নই পেয়েছে পূর্ণতা। আইসিসি ট্রফি জিতে বিশ্বকাপ খেলা থেকে শুরু করে ওয়ানডে এবং টেস্ট মর্যাদা পাওয়া, সবই দেখে গেছেন বোর্ডে থেকেই। এরপর বাংলাদেশের ক্রিকেটে ক্ষমতার অনেক পালাবদল ঘটলেও তাঁর শ্রদ্ধার আসনটি অটুট ছিল সব সময়ই। তিনি বাতি না জ্বালালে যে এখনকার মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেট জ্বলতই না!

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা