kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

শুধু আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সই ধরেন সাকিব

২১ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শুধু আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সই ধরেন সাকিব

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁকে ঘিরে ক্রিকেট জনতা কাতর হয়ে উঠতে পারে ঠিকই। কিন্তু সাকিব আল হাসানকে তা একদমই ছুঁতে পারে না। নিজের দুনিয়ায় বাইরের উদ্বেগেরও কোনো প্রবেশাধিকার নেই। শোনেন শুধু নিজের মনের কথাই। মন তাঁকে দিচ্ছিল আসল জায়গায় জ্বলে ওঠার বার্তাই।

সেই ‘আসল জায়গা’ হলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট। তাই ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হলেও রাতের ঘুম হারাম হয়নি সাকিবের। তা যতই দুশ্চিন্তায় ক্রিকেটামোদীদের হৃদয় ভারী হোক না কেন! নিষেধাজ্ঞা শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচেই ৮ রানে ৪ উইকেট নেওয়া পারফরম্যান্সে ম্যাচসেরা হওয়ার পর জানালেন সেটিই।

বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ দিয়ে ক্রিকেটে ফিরেছিলেন। জেমকন খুলনার হয়ে ৯ ম্যাচে মাত্র ১১০ রান তাঁর নামের পাশে। উইকেটও মাত্র ৬টি। এমন পারফরম্যান্সে ভাঁজ পড়েছিল ভক্তদের কপালেও। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটের পারফরম্যান্স যে আবার কখনোই সাকিবের চিন্তার বলিরেখা হয়ে ফুটতে পারে না। চাঁছাছোলা ভাষায় সে কথা বলে দিতেও তাঁকে বিন্দুমাত্র দ্বিধান্বিত হতে দেখা গেল না।

কাল ম্যাচের পর বঙ্গবন্ধু কাপের মলিন পারফরম্যান্স প্রসঙ্গ উঠতেই তাই বলে দিলেন, ‘একটু আগেও আমি ওখানে (ম্যাচের পর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে) বলে এসেছি, আমি এগুলো (বঙ্গবন্ধু কাপের পারফরম্যান্স) গোনায় ধরি না। আপনারা ধরলে ধরতে পারেন। আমার কাছে এর গুরুত্ব নেই। আমি দেশের প্রতিনিধিত্ব করছি এবং কিভাবে করছি, সেটিই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’

তাই বঙ্গবন্ধু কাপের রানখরা কিংবা উইকেটহীনতা তাঁকে বিমর্ষ করতে পারেনি। আসল জায়গায় নিজেকে মেলে ধরতে পারাতেই তাঁর আনন্দ, ‘সেদিক থেকে আমি খুশি। ম্যাচটি শেষ করে আসতে পারলে আরো ভালো লাগত।’ বোলিংয়ের মতো অবশ্য কাল ব্যাটিং অত স্বাচ্ছন্দ্যে করতে পারেননি। ৪৩ বলে ১৯ রান করে শরীরের কাছের বল কাট করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন।

ব্যাটিংও করতে নেমেছিলেন নিজের প্রিয় তিন নম্বর জায়গা ছেড়ে। যে পজিশনে ২০১৯-র বিশ্বকাপও মাতিয়েছিলেন। করেছিলেন ৬০৬ রান। এই জায়গাটি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সময়ে এমনকি টিম ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে লড়াইও করেছেন সাকিব। তবে কখনোই তিনে ব্যাটিং করে দলকে নিরাশও করেননি। এই পজিশনে ২৩ ম্যাচে ৫৮.৫৮ গড়ে করেছেন এক হাজার ১৭৭ রানও। দুই সেঞ্চুরির পাশাপাশি ১১টি ফিফটির অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যানও তিনে সাকিবের অপরিহার্যতার দলিল হয়ে আছে।

কিন্তু এই সিরিজ শুরুর আগে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো হুট করেই জানিয়ে দেন, তিনে তরুণ নাজমুল হোসেন শান্তকে তৈরি হওয়ার সুযোগ দিতে সাকিবকে চারে সরিয়ে নিচ্ছেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের এই সিদ্ধান্ত সাকিব অবলীলায় মেনে নিলেন? কৌতূহলী এই জিজ্ঞাসা থাকাও অস্বাভাবিক নয়। সাকিব যদিও দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথাই বললেন, ‘কোচ, অধিনায়ক ও টিম ম্যানেজমেন্ট একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমার সেটিকে সম্মান জানাতে হবে। সেটি আমি এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হই আর না হই।’

দলের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের পছন্দের পজিশন ছাড়ার দাবিও করলেন, ‘সব সময় আমি যখন খেলি, দলের জন্য খেলার চেষ্টা করি। সব সময়ই ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের অর্জনকে অনেক বড় বলে মনে হয় আমার। তাই এটি (পজিশন বদলানো) খুব একটা পার্থক্য তৈরি করবে বলে মনে করি না।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা