kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

নতুন রূপকথা লিখল ভারত

২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নতুন রূপকথা লিখল ভারত

অ্যাডিলেডে ৩৬ দেখার পর কে ভেবেছিল এমন অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের নজির সৃষ্টি করবে ভারত? কেউ ভাবেনি, উল্টো সমালোচনায় ধুয়ে দিয়েছিলেন আজিঙ্কা রাহানের দলকে। সেই তাঁরা তো বটেই, সারা ক্রিকেট বিশ্বই গতকাল কুর্নিশ জানিয়েছে ভারতকে। গ্যাবায় অস্ট্রেলিয়ার দুর্গের সঙ্গে সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জয় যেন কুড়ি বছর আগে ঘরের মাঠে একই ব্যবধানে জয়ের চেয়েও মহিমান্বিত!

সেবার ইডেনে ফলোঅন করা ভারতকে অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে জিতিয়েছিলেন রাহুল দ্রাবিড় ও ভি ভি এস লক্ষ্মণ। তাঁরা তত দিনে ভারতীয় ক্রিকেটের ‘হল অব ফেমে’ নাম লিখিয়ে বসে আছেন। কিন্তু ব্রিসবেনে বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি অক্ষুণ্ন রাখতে পারার কৃতিত্ব কাদের? ঋষভ পান্ট, ওয়াশিংটন সুন্দর, শার্দূল ঠাকুর, মোহাম্মদ সিরাজ, নবদীপ সাইনি, নটরাজন ও শুভমান গিলের খেলা সম্মিলিত টেস্ট ম্যাচেরই সংখ্যা মোটে ২৫। এর মধ্যে ৮৯ রানে অপরাজিত থেকে নতুন এ ক্রিকেট রূপকথার শেষ বীর পান্টের একারই ১৬টি। সুন্দর আর নটরাজনের টেস্ট অভিষেকই হয়েছে গ্যাবায়। ভারতীয় ড্রেসিংরুম হাসপাতালে পরিণত না হলে সুন্দর, শার্দূল আর সাইনি খেলারই সুযোগ পেতেন না। অস্ট্রেলিয়ায় সুযোগ পাওয়া নিয়ে শুরুতে সংশয়ে ছিলেন পান্টও। এমন নড়বড়ে দল যখন অস্ট্রেলিয়ার দুর্গখ্যাত গ্যাবায় সিরিজ জয়ের উৎসব করে, সে দৃশ্য সৌরভ গাঙ্গুলির ইডেন-গাথার চেয়ে কম বিস্ময় জাগায় না। ইডেনের ৮০ হাজার দর্শক সেদিন উৎসবে মেতেছিল। করোনার কারণে সীমিত দর্শকের সামনে সে উদযাপন ভারতীয়রা সেরেছে হেঁটে পতাকা হাতে মাঠ প্রদক্ষিণ করে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য তো আর স্বাস্থ্যবিধি নেই। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম—সব ভেসে গেছে ভারতের তরুণ দলটির অসামান্য অর্জনের স্তুতিতে।

শেষ দিনে দুই দলের সামনেই দরজা খোলা ছিল। কিন্তু প্রথম ইনিংসে ওয়াশিংটন সুন্দর আর শার্দূল ঠাকুরের অসাধারণ ব্যাটিংয়ে আত্মবিশ্বাসী ভারতের বাধায় নিজেদের জন্য সংরক্ষিত দরজার সামনেই যেতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। শততম টেস্ট খেলতে নামা নাথান লায়নের বলে পান্টের দেওয়া স্টাম্পিংয়ের সুযোগটা হাতছাড়া না হলে কি দরজার চাবি খুঁজে পেত স্বাগতিকরা? মনে হয় না। গোলাপি বলের ম্যাচটি বাদ দিলে পরের তিনটিতেই দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন কোনো না কোনো ভারতীয়। নিখাদ টেস্ট ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পূজারাকে যেমন নিজের ব্যাটিংয়ের অনুমোদন দিয়ে রান তোলার কাজটা নিজেসহ বাকিদের ওপর তুলে নেন রাহানে। তাই পান্টের উইনিং স্ট্রোকের চেয়ে কম মূল্যবান নয় শরীরে বাউন্সারের আঘাত সয়ে পূজারার সোয়া তিন ঘণ্টা মাটি কামড়ে পড়ে থাকার গুরুত্ব।

অধিনায়ক নিজে অবশ্য প্রশংসার ছাতার নিচে রেখেছেন সবাইকে, ‘এটা দলীয় সাফল্য।’ ম্যাচসেরা পান্টের কাছে, ‘জীবনের সেরা মুহূর্ত।’ আর স্বাগতিক অধিনায়ক টিম পাইন, ‘খুবই হতাশ।’ তবে ভারতের সীমানা ছাড়িয়ে বাকি ক্রিকেট বিশ্ব উপভোগ করেছে এ রূপকথা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা