kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

শরীফুলের আস্থা দলীয় নৈপুণ্যে

ক্রিকেট শুরু করার সময় থেকেই ভাবতাম যদি সাকিব ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই ও মুস্তাফিজ ভাইদের সঙ্গে খেলতে পারতাম। স্বপ্ন ছিল, সেটি পূরণ হয়েছে।

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ক্রীড়া প্রতিবেদক : গ্রামে বিদ্যুৎই নেই, টেলিভিশন আসবে কোত্থেকে? তবু খেলা তো দেখতেই হবে। দূর পঞ্চগড়ের আরো দূর গ্রামের এক কিশোর তাই ছুটলেন বাজারে। সেখানে বসেই টিভিতে দেখলেন ২০১৫-র জুনে ভারতের বিপক্ষে মুস্তাফিজুর রহমানের হৈচৈ ফেলে দেওয়া অভিষেক। দেখতে দেখতেই চলতে থাকল স্বপ্নের জাল বুননও। স্বপ্ন দেখলেন একদিন জাতীয় দলে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদ উল্লাহদের সঙ্গী হবেন। এরপর গল্পকে হার মানানো এক উত্থানে সাড়ে পাঁচ বছরের মাথায়ই সেই স্বপ্নের নাগালও পেয়ে গেলেন কৃষক বাবার সন্তান শরীফুল ইসলাম।

বয়সভিত্তিক পর্যায় হয়ে গত বছর ফেব্রুয়ারিতে প্রচারের আলো কেড়ে নেন তিনি। যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে আগ্রাসী বোলিংয়ে নিজ সামর্থ্যের জানান দেওয়া এই বাঁহাতি পেসার দেশেও ফেরেন বিশ্বজয়ী দলের অংশ হিসেবে। এরপর করোনায় থমকে যাওয়া পৃথিবী একটু সচল হতেই বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপ ও বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের পারফরম্যান্স দিয়ে খুলে ফেলেন আরো বড় স্বপ্নের দুয়ারও। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের দলে ঠাঁই পাওয়া শরীফুলের কণ্ঠে তাই অন্য রকম এক আনন্দের জোয়ারই, ‘খবরটি শুনে খুব ভালো লাগছিল। প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে আছি। ভালো কিছু করার চেষ্টাই করব। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর প্রেসিডেন্টস কাপ ও বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপে মোটামুটি ভালো খেলেছি। যদি একাদশে সুযোগ পাই, দলে জায়গা ধরে রাখার মতো পারফরম্যান্সই করার চেষ্টা করব।’ 

গ্রামের বাজারে বসে টিভিতে মুস্তাফিজের কীর্তি দেখতে দেখতে দেখা স্বপ্নপূরণের রোমাঞ্চও আছে শরীফুলের কথায়। আছে আরো বড় স্বপ্নের পিছু ধাওয়ার তাড়নাও, ‘ক্রিকেট শুরু করার সময় থেকেই ভাবতাম যদি সাকিব ভাই, তামিম ভাই, রিয়াদ ভাই, মুশফিক ভাই ও মুস্তাফিজ ভাইদের সঙ্গে খেলতে পারতাম। স্বপ্ন ছিল, সেটি পূরণ হয়েছে। কোনো ভুল করলে তাঁরা সেটি ধরিয়ে দিচ্ছেন। সবাই ঐক্যবদ্ধ ছিলাম বলে যুব বিশ্বকাপ জিততে পেরেছিলাম। সেই একইভাবে যদি এখানেও ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলতে পারি, তাহলে আশা করি আসল বিশ্বকাপও জিততে পারব।’ ওয়ানডে দলে নতুন হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নতুন নয় স্পিনিং অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান ও পেসার হাসান মাহমুদের জন্য। এই দুজনের লক্ষ্যও অভিন্ন। সুযোগ পেলে পারফরম করতে চান দলে জায়গা ধরে রাখার মতো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা