kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

স্পিনারদের দিকেও তাকিয়ে রোচ

দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক যুগ আগে যে শিক্ষাটি নিয়েছিলেন, সেটি এখনো অমূল্যই হয়ে আছে তাঁর কাছে, ‘তখন আমিও বেশ অনভিজ্ঞ ছিলাম। ছেলেদের ওপরও ভালো কিছু করার চাপ ছিল, কিন্তু ওরা নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। আমাদের বেশির ভাগের জন্যই সেই সিরিজ বড় একটি শিক্ষা ছিল।’

১৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্পিনারদের দিকেও তাকিয়ে রোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও এক যুগ আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের অবস্থা ঠিক এমনই ছিল। এবার যেমন করোনাভাইরাস ভীতির কারণে টেস্ট আর ওয়ানডে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার ও কাইরন পোলার্ডসহ শীর্ষস্থানীয় ১০ ক্রিকেটার আসেননি বাংলাদেশ সফরে। ব্যক্তিগত কারণে আসেননি আরো দুজন। তাতে ক্যারিবীয়দের দলীয় শক্তি অনেকটাই কমে গিয়েছে। ২০০৯ সালেও বেতন নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে শীর্ষ ক্রিকেটারদের ঝামেলায় দেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে জোড়াতালি দিয়ে একটি দল নামাতে হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। সেই সিরিজেই টেস্ট অভিষেক কেমার রোচের। এভাবে আসা সুযোগ কাজে লাগিয়ে যে দলে দীর্ঘস্থায়ী হওয়া যায়, বর্তমান দলের তরুণদের জন্য এই ফাস্ট বোলার এর সার্থক উদাহরণও। এক যুগ পর ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দূর্বল ক্যারিবীয়দের অভিজ্ঞতার ছায়া দিতে আছেন সেই রোচ।

১২ বছরের ব্যবধানে দুই সময়ের ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের মধ্যে মিলও খুঁজে পাচ্ছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ফাস্ট বোলার। ২০০৯ সালে টেস্ট সিরিজে ক্যারিবীয়রা বিধ্বস্ত হলেও সফরকারীদের বিপক্ষে বোলিংয়ে ঠিকই দারুণ উজ্জ্বল ছিলেন তিনি। দুই টেস্টে নিয়েছিলেন ১৩ উইকেট। গ্রেনাডার সেন্ট জর্জেসে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ছিল ৬ উইকেট নেওয়ার কীর্তিও। এর মধ্যে পুরো শক্তির ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের হয়েও বাংলাদেশে খেলে গেছেন বেশ কয়েকবার। তবে দ্বিতীয় সারির ওয়েস্ট ইন্ডিজের এক যুগ আগে যে শিক্ষাটি নিয়েছিলেন, সেটি এখনো অমূল্যই হয়ে আছে তাঁর কাছে, ‘তখন আমিও বেশ অনভিজ্ঞ ছিলাম। ছেলেদের ওপরও ভালো কিছু করার চাপ ছিল, কিন্তু ওরা নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি। আমাদের বেশির ভাগের জন্যই সেই সিরিজ বড় একটি শিক্ষা ছিল।’

এবার এক যুগ আগের তুলনায় অনেক ভালো করার লক্ষ্য নিয়েই দলের ভেতরে রণকৌশল নির্ধারণ চলছে বলে জানিয়েছেন রোচ, ‘এবার আমরা দ্বিতীয়বারের মতো একই পরিস্থিতিতে পড়েছি। তবে দল ও গ্রুপ হিসেবে কী কী করতে হবে, এবার তার ভালো পরিকল্পনাই আমরা সাজিয়েছি। ব্যাটসম্যানরা আলাপ করে ঠিক করছে, ওদের কী করতে হবে। গত দুই দিন ওদের দেখে ভালোই মনে হচ্ছে। আশা করছি, ভালো প্রস্তুতি নিয়েই আমরা টেস্ট সিরিজ শুরু করব।’ বাংলাদেশের কন্ডিশনে তাঁর মতো পেসারদের জন্যও চ্যালেঞ্জ দেখছেন তিনি, ‘সবাই জানি, বাংলাদেশ সব সময়ই পেসারদের জন্য কঠিন। যদি ভালো পরিকল্পনা সাজিয়ে সঠিক জায়গায় বল করতে পারি, তা আমাদের জন্য সহায়ক হবে। এসব ঠিকঠাক করতে পারলে সিরিজটি আমাদের জন্য ভালোই যাবে মনে হয়।’

বাংলাদেশে সাফল্যের জন্য বোলিংয়ে গতির বৈচিত্র্য রাখাও জরুরি বলে মনে করেন এই বার্বাডিয়ান, ‘বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরতে হলে মাঠে আক্রমণাত্মক থাকতে হবে। কারণ উইকেটে খুব একটা বাউন্স থাকবে না। পরিকল্পনা ঠিকঠাক হওয়া চাই এবং মাঠে এর প্রয়োগও। বোলিংয়ের ক্ষেত্রে গতির বৈচিত্র্য রাখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ভালো জায়গায় টানা বল করে যেতে হবে যতটা সম্ভব।’ তবে সেটিই যথেষ্ট নয়, রোচ মনে করেন বাংলাদেশে ভালো কিছু অর্জনে স্পিনারদেরও ভূমিকা রাখতে হবে। টেস্টে পেস আক্রমণে তাঁর সঙ্গে আছেন শ্যানন গ্যাব্রিয়েল এবং আলজারি জোসেফও। তবে রোচ বলে রাখলেন, ‘আমাদের (পেসারদের) কাজ তো করতেই হবে। সেই সঙ্গে স্পিনারদের সম্ভবত আরো কিছু কাজ করতে হবে। বোলিং ইউনিটের সাফল্যের জন্য দলীয় প্রচেষ্টা জরুরি। সেটি হলে বোলিং ইউনিটও ভালোভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা